ETV Bharat / state

দত্তপুকুরে হোটেল ভাঙচুরে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে মামলা

তোলা না দেওয়ায় হোটেল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল নেতার অনুগামীদের বিরুদ্ধে । প্রথমে মিটমাটের কথা বললেও এবার সেই ঘটনাতেই তদন্ত শুরু পুলিশের ।

hotel vandalised in duttapukur
দত্তপুকুরের এই হোটেল ভাঙচুরকে ঘিরেই ঝামেলা (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : September 15, 2025 at 11:52 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

দত্তপুকুর, 15 সেপ্টেম্বর: অবশেষে নড়েচড়ে বসল বারাসত জেলা পুলিশ । এসপির নির্দেশে দত্তপুকুরে হোটেল ভাঙচুর এবং লুঠপাটের ঘটনায় সোমবার তৃণমূলের উপপ্রধান মান্তু সাহা-সহ তাঁর দুই অনুগামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হল দত্তপুকুর থানায় ।

এদিন বিকেলে অভিযোগকারী হোটেল ব্যবসায়ী সৌমেন দাসকে ডাকা হয়েছিল বারাসতে জেলা পুলিশ সুপারের দফতরে । সেখানে তাঁর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস । পুলিশের এই পদস্থ কর্তার সঙ্গে কথা বলে আশ্বস্ত হয়েছেন তিনি । সেই সঙ্গে জেলা পুলিশের ভূমিকার প্রশংসাও করেছেন ওই ব‍্যবসায়ী । তিনি আশাবাদী, হোটেল ভাঙচুর এবং লুঠপাটের ঘটনায় সুবিচার মিলবে এবার । তবে, এদিন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের কাছে হোটেল ব্যবসার প্রয়োজনীয় নথিপত্র তিনি দেখাতে পারেননি বলেই খবর ।

এই বিষয়ে বারাসত জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস বলেন,"হোটেল ভাঙচুরের ঘটনার তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে । তার ভিত্তিতে তদন্ত চলছে । সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে । হোটেল-রেস্তোরাঁ চালানোর প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না পারার জন্য ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।"

ব্যবসায়ী সৌমেন দাসের কথায়,"অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলে আশ্বস্ত হয়েছি । আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন । পুলিশ এখন যথেষ্ট সক্রিয়, তাই সম্পূর্ণ আস্থা আছে ।"

দেহ ব্যবসার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন,"এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন । হোটেলের রেজিস্টার খাতা হামলাকারীরা ঘটনার দিন নিয়ে গিয়েছে । কিন্তু সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ রয়েছে । সেটা খতিয়ে দেখলেই সমস্তটা বেরিয়ে আসবে ।"

গত বৃহস্পতিবার দত্তপুকুরের চালতাবেরিয়ায় ওই হোটেলে ঢুকে তাণ্ডব এবং ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে স্থানীয় পঞ্চায়েতের তৃণমূল উপপ্রধান মান্তু সাহার দলবলের বিরুদ্ধে । হোটেল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেন, দাবি মতো তোলা না দেওয়াতেই হোটেলের রিসেপশনে ঢুকে এই হুজ্জতি করে তৃণমূল নেতার অনুগামীরা । ভাঙচুর, লুঠপাট, হুমকি সবই চলে সেখানে ।

যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা হোটেলে দেহব্যবসার অভিযোগ তুলেছিলেন উপ-প্রধান মান্তু সাহা । তবে, ভাঙচুরের সেই সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই শুরু হয় চর্চা । সমালোচনার ঝড়ও ওঠে রাজনীতির অন্দরে । ঘটনার সন্ধ্যায় হোটেল মালিক সৌমেন দাস দত্তপুকুর থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গেলে পুলিশ তা নিতে অস্বীকার করে । উল্টে উপপ্রধানের সঙ্গে বসে তাঁকে বিষয়টি মিটমাট করে নেওয়ার উপদেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ । শেষে সোমবার পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ জানাতে বাধ্য হন ব্যবসায়ী । পুলিশ সুপারের নির্দেশেই শেষ পর্যন্ত তৃণমূল নেতা মান্তু সাহা ও ভাঙচুরের সময় উপস্থিত তৃণমূল কর্মী ভোলা ও আক্রমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করল পুলিশ ।