নিজেকে ভারতীয় পরিচয় দিয়ে কলকাতা পুলিশে প্রতারণার অভিযোগ করেছিলেন 'বাংলাদেশি' শান্তা
গল্ফগ্রিনের ফ্ল্যাটের অন্দরসজ্জার কাজ করানোর সময় ইন্টেরিয়র সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের ৷ সেই সময় কীভাবে পুলিশের নজর এড়ালেন শান্তা, উঠছে প্রশ্ন ৷

Published : August 4, 2025 at 7:00 PM IST
কলকাতা, 4 অগস্ট: তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই 'বাংলাদেশি' শান্তা পালকে নিয়ে নতুন তথ্য উঠে আসছে কলকাতা পুলিশের গুন্ডা দমন শাখার গোয়েন্দারে হাতে ৷ জানা গিয়েছে, কয়েকবছর আগে ভারতীয় নাগরিক পরিচয়ে কলকাতা পুলিশে একটি প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেছিলেন শান্তা পাল ৷ তাঁর গল্ফগ্রিনের ফ্ল্যাটের ইন্টেরিয়র ডেকরেশন করা সংস্থার বিরুদ্ধে লক্ষাধিক টাকার প্রতারণার অভিযোগ জানিয়েছিলেন তিনি ৷
বেহালার ঠাকুরপুকুর থানায় ওই ইন্টেরিয়র ডেকরেশন সংস্থার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন শান্তা ৷ লালবাজার সূত্রে খবর, শান্তা দক্ষিণ কলকাতার গল্ফগ্রিনে একটি ফ্ল্যাট কিনেছিলেন ৷ সংশ্লিষ্ট ফ্ল্যাটের অন্দরসজ্জার জন্য তিনি একটি ইন্টেরিয়র সংস্থাকে কয়েক লক্ষ টাকার বরাত দিয়েছিলেন ৷ তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে প্রথম ধাপে কয়েক লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন ৷ তবে টাকা দেওয়ার পরেও কোনও কাজ শুরু করা হয়নি ৷
কিন্তু, এখানেই প্রশ্ন উঠছে, একজন বাংলাদেশি নাগরিক কীভাবে নিজের পরিচয় লুকিয়ে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করলেন ৷ এ নিয়ে সরাসরি কলকাতা পুলিশের তরফে কোনও মন্তব্য করা হয়নি ৷ তবে, নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক বলেন, "থানায় যে কেউ অভিযোগ দায়ের করতে পারেন ৷ সেখানে কীভাবে বোঝা যাবে যে, তিনি কোন দেশের নাগরিক !"
তবে প্রশ্ন হল, গল্ফগ্রিনের ফ্ল্যাট তিনি কীভাবে কিনলেন ? সেই ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন কীভাবে করালেন ? রেজিস্ট্রেশনের সময়ও তাঁর ভারতীয় নথি জাল কি না, তা বোঝা যায়নি ? এমনকি পরবর্তী সময়ে দু’টি গাড়িও কিনেছেন কলকাতায় ৷ সেগুলি কীভাবে কিনলেন শান্তা, সেই প্রশ্নও উঠছে ৷
উল্লেখ্য, এই শান্তা পাল নাকি 2020 সালের জুলাই মাসে টলিউডের এক পরিচালকের বিরুদ্ধে 'মি-টু' অভিযোগও এনেছিলেন ৷ লালবাজার সূত্রে খবর, সম্প্রতি শান্তা পাল অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টায় ছিলেন ৷ আর সেই কারণেই, পাসপোর্টের আবেদন করেছিলেন ৷ আর এখানেই ভুল করে বসেন তিনি ৷ পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময়, তাঁর নথিপত্রে দু’টি ভিন্ন ঠিকানা দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের ৷ সেই সময়ে পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ আধিকারিকরা তাঁকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন ৷ সেই সময় একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে শান্তার কথাবার্তায় ৷ তারপরেই শান্তার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে বাংলাদেশের নথি উদ্ধার করে পুলিশ ৷ সেই মতো সংশ্লিষ্ট ধারায় এফআইআর দায়ের করে পুলিশ শান্তা পালকে গ্রেফতার করে ৷

