জঙ্গল নিতে নারাজ, বন্যায় ভেসে আসা হস্তিশাবকের নয়া জীবন শুরু জলদাপাড়ায়
বন্যায় মেচি নদীতে ভেসে আসে হস্তিশাবকটি ৷ শাবকটিকে উদ্ধার করেন বনকর্মীরা ৷ বুনো হাতির দল সেই শাবকটিকে ফিরিয়ে নিতে নারাজ ৷


Published : October 13, 2025 at 8:13 PM IST
আলিপুরদুয়ার, 13 অক্টোবর: জঙ্গলের কঠোর নিয়ম ৷ বন্যায় সেখান থেকে লোকালয়ে ভেসে চলে আসা হস্তিশাবককে এখন আর ফেরত নিতে নারাজ বুনো হাতির দল ৷ তাতে কী ! সমতল কাউকে ফেরায় না ৷ হস্তিশাবকের নতুন জীবন শুরু জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে ৷
আপাতত বনকর্মীদের নিবিড় যত্নে রয়েছে সে । দুর্বল শরীরের শক্তি বাড়াতে নিয়মিত ল্যাক্টোজেন ওয়ান খাওয়ানো হচ্ছে তাকে ৷ গজরাজের কোনোরকম অসুবিধা হলেই রিপোর্টিং করা হচ্ছে বন্যপ্রাণী চিকিৎসককে ।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত 5 অক্টোবর দুর্যোগের রাতে কার্শিয়াং বনবিভাগের মেচি নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে গিয়ে দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এই হস্তিশাবকটি । কার্শিয়াং বন বিভাগের তারাবাড়ির কাছে এই ঘটনা ঘটে । নেপাল ও ভারতের স্থানীয় বাসিন্দা এবং বনকর্মীদের প্রচেষ্টায় অবশেষে মণিরামজোতের কাছে নদীর ভাটি থেকে উদ্ধার করা হয় 15 দিন বয়সী অসহায় এই শাবকটিকে ।
উদ্ধারের পর থেকেই শুরু হয় এক নতুন সঙ্কট । বনকর্মীরা বারবার চেষ্টা করেন শিশু হাতিটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দিতে । কিন্তু প্রকৃতির এক কঠিন নিয়মে, একবার মানুষের স্পর্শ পেলে বুনো হাতির দল সেই শাবককে আর ফিরিয়ে নেয় না । হস্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এটাই হস্তিকূলের অলিখিত দস্তুর ।
মাতৃদুগ্ধ না পেয়ে ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছিল শাবকটি । এই পরিস্থিতিতে তার প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় বনদফতর । শুক্রবার ওই দলছুট হস্তিশাবককে নিয়ে আসা হয় জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের হলং সেন্ট্রাল পিলখানার হস্তিশালায় । বনদফতর জানিয়েছে, বর্তমানে শাবকটিকে হলং সেন্ট্রাল পিলখানার আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে এবং তার নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে ।
রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত হস্তি বিশেষজ্ঞ পার্বতী বড়ুয়া বলেন, "জলদাপাড়ায় এমন হস্তিশাবক অনেক মানুষ করেছে ওরা । এসব ক্ষেত্রে জলদাপাড়া এক্সপার্ট । আমার ওদের প্রতি এতটুক বিশ্বাস আছে যে এই শাবকটিকেও ওরা ভালো করে মানুষ করবে । ওখানকার চিকিৎসক উৎপল শর্মাও খুব ভালো । তাছাড়া মাহুত থেকে শুরু করে প্রত্যেকেই খুব ভালো । এক কথায়, জলদাপাড়ার হলং সেন্ট্রাল পিলখানা দলছুট হাতির বাচ্চাদের প্রাণরক্ষার সেরা পরিকাঠামো ।"

জলদাপাড়া বন্যপ্রাণী বিভাগের ডিএফও প্রবীন কাসোয়ানের কথায়, "হস্তিশাবকটির দেখভালের জন্য অভিজ্ঞ মাহুতকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং বন্যপ্রাণী চিকিৎসক নিয়মিত তার স্বাস্থ্যের উপর নজর রাখছেন । মানুষের স্পর্শে দলছাড়া হওয়া এই হস্তিশাবকটি এখন জলদাপাড়ায় নতুন জীবনের স্বপ্নে দেখছে ৷"
জলদাপাড়া বনবিভাগের বন্যপ্রাণী চিকিৎসক উৎপল শর্মা বলেন, "এখন তো ভালোই আছে, কোনও সমস্যা নেই৷ সব ঠিক আছে, সব কিছু নরমাল আছে, খাওয়াদাওয়া করছে। ওকে ল্যাক্টোজেন ওয়ান খাওয়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য ওষুধ যেটা দরকার সেগুলো দেওয়া হচ্ছে ৷ তার মধ্যে মেইন দেওয়া হচ্ছে লাক্টোজেন ওয়ান । ওকে দেখাশোনা করার জন্য বনদফতরের দুই জন কর্মীকে রাখা হয়েছে । তাঁরা 24 ঘণ্টা থাকছেন এবং ওর দেখভাল করছে । কোনও অসুবিধা হলে তাঁদেরকে দুই ঘণ্টা অন্তর অন্তর রিপোর্টিং করার জন্য বলা আছে । আজকে এখন পর্যন্ত কোনও রিপোর্ট আসেনি ৷ তার মানে ভালোই আছে ।"

