ফের গুলি চলল মালদায় ! এবার তৃণমূল নেতা খুনের প্রত্যক্ষদর্শীকে খুনের চেষ্টা
রবিবার রাতে কানাইপুরের কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন আতিমুল। সেই সময় একজন মোটরবাইকে এসে আতিমুলকে লক্ষ্য করে গুলি করে বলে অভিযোগ।

Published : September 15, 2025 at 1:18 PM IST
|Updated : September 15, 2025 at 4:08 PM IST
মালদা, 15 সেপ্টেম্বর: ফের গুলি চলল মালদায়। এবার তৃণমূল নেতা খুনের মূল সাক্ষীকে মারতেই গুলি করার অভিযোগ উঠেছে। গুলিবিদ্ধ তৃণমূল কর্মী বর্তমানে মালদা মেডিক্যাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রবিবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে ইংরেজবাজারের অমৃতি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে ইংরেজবাজার থানার পুলিশ।
জানা গিয়েছে, গুলিবিদ্ধ তৃণমূল কর্মীর নাম আতিমুল মোমিন (33)। তাঁর বাড়ি ইংরেজবাজার থানার অন্তর্গত অমৃতির বানিয়াগ্রাম এলাকায়। উল্লেখ্য, গত 10 জুলাই রাতে বাড়িতে ঢুকে কুপিয়ে খুন করা হয় তৃণমূলের গ্রামীণ নেতা আবদুল কালাম আজাদকে (34)। সেই সময় গুরুতর আহত হয়েছিলেন আতিমুল মোমিন-সহ আরও দু'জন। সেই ঘটনায় আরও এক তৃণমূল নেতা মাইনুল শেখ-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মইনুল শেখকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে তিনি জেল হেফাজতে রয়েছে। অভিযোগ, সেই ঘটনার মূল সাক্ষী আতিমুল মোমিনকে মোটা অঙ্কের টাকার প্রলোভন দিয়ে সাক্ষী দিতে না করে মইনুলের লোকজন। তাতে রাজি না হওয়ায় মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
গত রবিবার রাতে কানাইপুর গ্রামে নির্মীয়মান বিল্ডিং দেখাশোনার কাজ সেরে বাড়ি ফিরছিলেন আতিমুল। সেই সময় মইনুলের ছেলে-সহ আরও একজন মোটরবাইকে এসে আতিমুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ। আতিমুলের পিঠে গুলি লাগে। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে মালদা মেডিক্যালে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পেয়ে হাসপাতালে আসে ইংরেজবাজার থানার পুলিশও।
গুলিবিদ্ধের ভাই আসফাক মোমিন বলেন, “এর আগে আবুল কালাম আজাদকে লক্ষ্মীপুরে খুন করা হয়েছিল। সেই সময় আমার দাদা সঙ্গে ছিল। দাদাকে খুনের চেষ্টা করা হয়েছিল। ওরা ভেবেছিল দাদার মৃত্যু হয়েছে। দাদা কোনওরকমে বেঁচে যায়। তারপর থেকে আমাদের টাকার প্রলোভন দিয়ে সাক্ষী দিতে নিষেধ করেছিল। দাদা টাকা নিতে রাজি না হওয়ায় মইনুলের লোকজন হুমকিও দিয়েছিল। রবিবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে মইনুলের ছেলে ও আরও একজন মোটরবাইকে এসে দাদাকে গুলি করে। দাদার পিঠের ডানদিকে গুলি লাগে। গুলি বের করা হয়েছে, তবে দাদার অবস্থা এখনও আশঙ্কাজনক। আবুল কালাম আজাদের খুনের ঘটনার মূল সাক্ষী হওয়ায় দাদাকে গুলি করা হয়েছে।”
বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, “রাজ্য সমস্ত এলাকায় এই পরিস্থিতি। তৃণমূলিদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারার গণ্ডগোল চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পের টাকা লুঠ হচ্ছে। সেই টাকার ভাগ বাটোয়ারা নিয়েই গণ্ডগোল। কে, কোন এলাকার নেতা হবেন তা নিয়ে বিবাদ। এই সরকার শুধুমাত্র লুঠ করছে। মানুষ তৃণমূলকে আগামী নির্বাচনে জবাব দেবে।”
জেলা তৃণমূলের সভাপতি আবদুর রহিম বক্সি বলেন, “আতিমুল মোমিনকে গুলি করার খবর পেয়েছি। পুরোনো একটি ঘটনায় তিনি প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন বলেও শোনা গিয়েছে। পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। আমাদের আশা, যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে পুলিশ তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করবে। তবে এধরণের ঘটনা নিয়ে বিজেপি যে নোংরা রাজনীতি করছে, আমরা তাকে ধিক্কার জানাচ্ছি।”

