ETV Bharat / state

রহড়া-কাণ্ডে নয়া মোড় ! দুপুরে লিটনের ফ্ল্যাটে বাড়ত মহিলাদের আনাগোনা, চলত অস্ত্র কেনাবেচা

অভিযোগ, বাড়িতে আসা মহিলাদের কখনও পরিচারিকা, আবার কাউকে রান্নার লোক বলে পরিচয় দিতেন লিটন । কিছুদিন পরপর সেই মহিলারা বদলে যেতেন ৷

Rahara arms recovery case
এই ফ্লাটে থাকতেন মধুসূদন ওরফে লিটন (নিজস্ব ছবি)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 5, 2025 at 6:34 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

রহড়া , 5 অগস্ট: রহড়া অস্ত্রভাণ্ডার-কাণ্ডে নয়া মোড় ৷ তদন্ত যত এগোচ্ছে ততই নিত‍্য নতুন তথ্য উঠে আসছে পুলিশের হাতে । তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, দুপুর হলেই ধৃত মধুসূদন ওরফে লিটনের ফ্ল্যাটে বাড়ত অপরিচিত মহিলাদের আনাগোনা । চলত তাদের মাধ্যমে অস্ত্র আনা-নেওয়া । শুধু তারাই নয়, মধুসূদন নিজেও তাঁর স্কুটি করে অস্ত্র এবং কার্তুজ সরবরাহ করতেন বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছেন ব‍্যারাকপুর কমিশনারেটের গোয়েন্দারা । যদিও এসবের কিছুই ঘুণাক্ষরেও টের পাননি পাড়া প্রতিবেশী থেকে আবাসিকরা ।

তবে, যখনই সন্দেহ হত আবাসিকদের তখনই মধুসূদন দাবি করতেন যে তাঁরা বাড়ির কাজের মহিলা । আবার কেউ বা রান্নার লোক । কিন্তু, কিছুদিন পরপর সেই মহিলারা বদলে যেতেন বলে অভিযোগ । সন্দেহ হওয়ার পর সম্প্রতি আবাসিকরা সকলে মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এই আবাসনে আর থাকতে দেওয়া হবে না ষাটোর্ধ্ব মধুসূদনকে । আবাসনে প্রবেশের প্রত্যেক গেটের তালাও বদলে ফেলারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল আবাসিকদের তরফে । কিন্তু, তার আগেই বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র এবং কার্তুজ সমেত পুলিশের হাতে ধরা পড়ে যান তিনি । ব‍্যারাকপুরের গোয়েন্দা প্রধান চারু শর্মা অবশ্য দাবি করেছেন, সমস্ত বিষয়টিই তাঁরা খতিয়ে দেখছেন ।

রহড়া-কাণ্ডে নয়া মোড় ! (নিজস্ব ভিডিয়ো)

সোমবার উত্তর 24 পরগনার রহড়ার রিজেক্ট পার্ক এলাকার অভিজাত এক আবাসনে হানা দিয়ে সেখান থেকে দেশি-বিদেশি একাধিক অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং বিপুল পরিমাণ কার্তুজ উদ্ধার করে ব‍্যারাকপুর কমিশনারেটের গোয়েন্দা বিভাগ । এখানেই শেষ নয়, প্রতিভা মঞ্জিল নামে ওই আবাসন থেকে মিলেছিল 7টি খালি সেভেন এমএম ম‍্যাগজিন, 9টি খালি নাইন এমএম ম‍্যাগজিন এবং 10 কেজি 700 গ্রাম প্রাচীন মুদ্রাও । যার তদন্ত শুরু হতেই ঝুলি থেকে বেড়াল বেরিয়ে আসে । উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য ।

Rahara arms recovery case
রহড়ার রিজেক্ট পার্ক এলাকার আবাসন (নিজস্ব ছবি)

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেশীয় নয়, মধুসূদনের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া হাজার পিস কার্তুজ ও রিভলবারের প্রত্যেকটিই 'ফ‍্যাক্টরি মেড' । অর্থাৎ অস্ত্রের লাইসেন্স থাকলে যে অস্ত্র কেনা যায় । সেই আধুনিক অস্ত্রই মিলেছে রহড়ার আবাসনের ওই ফ্ল্যাট থেকে । কী করে সেই অস্ত্র এল মধুসূদনের কাছে ? উত্তর খুঁজছে পুলিশ ।

Rahara arms recovery case
আগ্নেয়াস্ত্র এবং কার্তুজ উদ্ধার (নিজস্ব ছবি)

ব‍্যারাকপুর কমিশনারেটের গোয়েন্দারা মনে করছেন, মধুসূদনের সঙ্গে সরাসরি আর্মস ডিলারদের যোগাযোগ রয়েছে । সেই সূত্রেই তিনি স্কুটি করে অস্ত্র এবং কার্তুজ নিয়ে আসতেন নিজের ফ্ল্যাটে । স্কুটির সিটের নিচেই অস্ত্র নিয়ে মধুসূদন চলাফেরা করতেন বলেও জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা । পুলিশের জেরার মুখে ধৃত ব‍্যক্তি স্বীকার করেছেন তাঁর সুদের টাকা খাটানোর ব্যবসা রয়েছে । সুদের ব‍্যবসার লাভের টাকা দিয়েই অস্ত্র কারবারে নামেন মধুসূদন ।

Rahara arms recovery case
লিটনের ফ্ল্যাটে অপরিচিত মহিলাদের আনাগোনা (নিজস্ব ছবি)

জেরায় তিনি আরও দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর পুরনো মুদ্রা জমানোর শখ রয়েছে । সেই মুদ্রা বিক্রিও করতেন । নিজের বেআইনি কারবার জানাজানি হওয়ার ভয়ে কোথাও তিনি বেশি দিন বসবাস করতেন না । মধুসূদন প্রথমে সোদপুরে । তার পর পানিহাটি । সেখান থেকে রহড়ার অভিজাত ওই ফ্ল্যাটে বসবাস শুরু করেছিলেন । কিন্তু, তাঁকে ঘিরে আবাসিকদের মনে সন্দেহ হওয়ায় সেই ফ্ল‍্যাটও ছেড়ে দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন ষাটোর্ধ্ব লিটন । তার আগেই তাঁর কর্মকাণ্ড জেনে ফেলেন কমিশনারেটের গোয়েন্দারা । আর তাতেই খোলসা হয়ে যায় সব কিছু ৷

Rahara arms recovery case
ফ্ল্যাটে চলত অস্ত্র কেনাবেচা (নিজস্ব ছবি)

এদিকে, রহড়া অস্ত্রভাণ্ডার-কাণ্ডে বিহার যোগের সম্ভবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা । এই বিষয়ে ব‍্যারাকপুরের গোয়েন্দা প্রধান চারু শর্মা বলেন, "ওই ফ্ল্যাটে কে আসত, না আসত তা আমরা খতিয়ে দেখছি । ধৃত মধুসূদনের সঙ্গে আন্তঃরাজ‍্য অস্ত্র পাচার চক্রের যোগ আছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে । তবে, আমরা মনে করছি অস্ত্রগুলো বিহার থেকে আনা হয়ে থাকতে পারে । তা নিশ্চিত হতে সেগুলো বালেস্টিক ফরেনসিকে পাঠানো হয়েছে । তার রিপোর্ট এলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে । তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে । তদন্ত হলেই যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর পাওয়া সম্ভব হবে ।"

Rahara arms recovery case
স্কুটি করে অস্ত্র এবং কার্তুজ সরবরাহ (নিজস্ব ছবি)