ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যু রুখবে এআই, ছবি-ভিডিয়ো পাঠাবে অত্যাধুনিক এলিসেন্স লাইভ
ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যু রুখতে এবার এআই এলিসেন্স লাইভের সাহায্য নিচ্ছে রেল ও বন দফতর ৷ ছবি ও ভিডিয়ো পাঠিয়ে সতর্ক করবে এই ডিভাইস ৷

Published : April 3, 2025 at 8:10 PM IST
|Updated : April 3, 2025 at 10:17 PM IST
জলপাইগুড়ি, 3 এপ্রিল: ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যু রুখতে অভিনব উদ্যোগ ৷ কাজে লাগানো হচ্ছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ৷ রেললাইনের পাশে হাতি বা অন্য বড় প্রাণী এলেই ভিডিয়ো আর ছবি পাঠাবে 'এআই এলিসেন্স লাইভ'। রাজ্যে এই প্রথম এমন এলিসেন্স লাইভ প্রযুক্তিতে একসঙ্গে সতর্ক বার্তা পাবে রেল ও বনদফতর । এভাবেই তারা জানতে পারবে, কতগুলো হাতি রেললাইনের পাশে আছে, আর তাদের গতিপথ কোন দিকে । রেল ও বন দফতর, উভয়ের কাছেই এই বার্তা দেবে এলিসেন্স লাইভ ।
ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যু রুখতে অনেক আগেই নেওয়া হয়েছিল উদ্যোগ ৷ এতদিন বেশকিছু জায়গায় লাগানো ছিল এলিসেন্স অ্যালার্মিং সিস্টেম ৷ তার ফলে রেললাইনের কাছে হাতি এলেই মেসেজের মাধ্যমে সংকেত পাওয়া যেত । প্রযুক্তির ব্যবহারে ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যু অনেকটাই কমানো গিয়েছে । রেলের তরফেও গতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়, রেললাইনের উপর হাতি আসার মেসেজ পেয়েই ট্রেন দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয় ৷ এর আগে, হাতির করিডরে 627টি হাতির গতিবিধি রেকর্ড হয়েছে ।
যদিও সেই পদ্ধতিতে ছিল কিছু সীমাবদ্ধতা ৷ আগের ডিভাইসটি মূলত হাতির শারীরিক গঠনের কথা চিন্তা করেই বানানো হয়েছিল । ফলে ডিভাইসের আশপাশে হাতি এলে তার যে কমপক্ষে উচ্চতা থাকে, সেই উচ্চতায় সেন্সর কাজ করত । কিন্তু হাতির সঙ্গে হাতির শাবকরা এলে ডিভাইসের সেন্সর কাজ করে না ।
তবে এলিসেন্স লাইভ প্রযুক্তিতে সবার ছবিই উঠবে ও সেন্সরে ধরা পড়বে । হাতি বা অন্য যে কোনও প্রাণী এলেই ছবি ও ভিডিয়ো তুলে সতর্ক করবে এআই এলিসেন্স লাইভ । জঙ্গলের মাঝে হাতির করিডরে লাগানো অত্যাধুনিক ডিভাইস চুরি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে । তবে এক্ষেত্রে চোর চুরি করতে গেলেও বিপদে পড়বেন । কারণ চোর ক্যামেরার সামনে এলেই তাঁর ছবি উঠে যাবে এবং অ্যালার্ম বেজে উঠবে । আর সেই বার্তা চলে যাবে রেল ও বন দফতরের কাছেও । রেললাইনে হাতির করিডরে ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যু রুখতে এই ডিভাইস লাগানোর জন্য ভয়েস ফর এ্যালিফেন্ট সাপোর্ট ফান্ডিং করেছে । তাদের সহযোগিতা করছে স্ন্যাপ ফাউন্ডেশন ।

কীভাবে বার্তা দেবে এই ডিভাইস ?
জানা গিয়েছে, রেললাইনের কাছাকাছি 30 মিটারের মধ্যে হাতি বা অন্য কোনও প্রাণী এলেই রেলের কাছে ও বনবিভাগের কাছে এই ডিভাইস ছবি ও ভিডিয়ো তুলে অ্যালার্ম বাজাবে । রয়েছে প্যাটার্ন সেন্সর । হাইট বার, বন্যপ্রাণীর শরীরের তাপমাত্রা এসব দেখেই সেন্সর অ্যাক্টিভ হবে । এছাড়া হিউম্যান ডিটেকশনও হবে ।
সাতদিন 24 ঘণ্টা রেকর্ডিং চলবে । অটোমেটিক ক্লাউডে স্টোরে জমা হবে ছবি ও ভিডিয়ো । জানা গিয়েছে, গরুমারা জাতীয় উদ্যান, জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান ও বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের রেললাইনের হাতির করিডরে মোট 90টি এলিসেন্স লাইভ লাগানো হবে । ক্যালিফোর্নিয়ার ফান্ডিং এজেন্সি ভয়েজেস ফর এশিয়ান এলিফেন্ট সাপোর্ট এই প্রকল্পে 58 লক্ষ টাকা খরচ করছে ।

স্ন্যাপ ফাউন্ডেশনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর কৌস্তভ চৌধুরী জানান, "এলিসেন্স লাইভের আগে লাগানো ডিভাইস শুধু মেসেজ পাঠাত । এবার এলিসেন্স লাউভ ভিডিয়ো ও ছবি দেবে । হাতি বা অন্য বন্যপ্রাণীর ছবি ও ভিডিয়ো পাঠাবে এলিসেন্স লাইভ । ফলে রেল ও বন দফতর নিশ্চিত হবেন যে, সেখানে কোন প্রাণী আছে বা কতগুলো প্রাণী রেললাইনের পাশে আছে । আগে মেসেজ আসত কিন্তু বোঝা যেত না কতগুলো প্রাণী রেললাইনের ধারে আছে ।"
ভয়েস ফর এলিফেন্ট সাপোর্টের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সঙ্গীতা আইয়ার জানান, "আমরা 58 লক্ষ টাকা খরচ করেছি ৷ স্ন্যাপ ফাউন্ডেশন টেকনিক্যাল ডিভাইস লাগানোর কাজ করছে । গরুমারা বন্যপ্রাণী বিভাগের চাপড়ামারি অভয়ারণ্যে জঙ্গলে, জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে, বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের দমনপুরে মোট 90টি ডিভাইস লাগানো হচ্ছে । চাপড়ামারি অভয়ারণ্যে 24টি ডিভাইস লাগানো হচ্ছে । গত এক বছরে এই এলিসেন্সের প্রথম প্রযুক্তির মাধ্যমে আমরা দেখেছি রেললাইনে হাতির করিডোর দিয়ে 1240টি হাতি ডিভাইসের আশপাশ দিয়ে ক্রস করে গিয়েছে । আমাদের তথ্যের আদানপ্রদানের মাধ্যমে হাতির মৃত্যু রোখা গিয়েছে ।"
এদিকে, বন্যপ্রাণী বিভাগের উত্তরবঙ্গের মুখ্য বনপাল ভাস্কর জেভি জানান, "এলিসেন্স মোশন বেসড সেন্সর । মোবাইল সিমকার্ড নেটওয়ার্কের সঙ্গে কানেকটেড আছে । রেল ও বন বিভাগের একটা গ্রুপ করে, তথ্য আদান প্রদান করা হবে । বিশেষ করে রেলের পিলার নম্বর দেখে তথ্য আদান প্রদান করা হবে । আগে অনেক সময় ভুল তথ্য আসছিল । এবার ভিডিয়ো ও ছবিও আসবে, ফলে তথ্য ভুলের সম্ভাবনা থাকছে না । কোনও গাড়ি এলে তার তথ্যও জানতে পারব । চাপড়ামারি অভয়ারণ্যে রেললাইনের পাশে 24টি ক্যামেরা লাগানো হবে । এরপর বক্সাতেও ক্যামেরা লাগানো হবে । রেলের পক্ষ থেকেও ট্রেনের ধাক্কায় হাতির মৃত্যু ঠেকাতে আইটিডি লাগানো হচ্ছে । তা হচ্ছে জলদাপাড়ায় ৷"

