জোয়ার ভাটা থেকে জীবন, নিরন্তর ঘটে চলা প্রবাহই এবার আহিরীটোলার মণ্ডপে
কোথাও জ্যোতিষ, কোথাও মানব জন্মের থেকে বৃদ্ধ বয়সের প্রবর্তন, কোথাও আবার রাশির লগ্নের বিন্যাস তুলে ধরা হয়েছে পুজো মণ্ডপ জুড়ে ।

Published : September 14, 2025 at 8:17 PM IST
কলকাতা, 14 সেপ্টেম্বর: নদী তার নিজ ছন্দে নিজ গতিবেগে অনবরত বয়ে চলে । নিয়মিত জোয়ার ভাটা হয়, শরীরে রক্তের প্রবাহ নিরন্তর । বিশ্ব জুড়ে এমন অসংখ্য ছোট বড় বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রবাহ হয় চলেছে । জীব জগতেরও একটি নিরন্তর প্রবাহ আছে । আর সেই সব প্রবাহকে নিয়েই এবার আহিরীটোলা সর্বজনীন দুর্গোৎসব তাদের মণ্ডপ গড়ে তুলেছে ।
এবার আহিরীটোলা সর্বজনীনের পুজো 86 বছর উৎযাপন করছে । শিল্পী অনির্বাণ দাস । এবারে তাঁর বিষয় ভাবনা এই প্রবাহ । মণ্ডপের অধিকাংশ লোহার কাঠামো ঝালাই করে ও টিনের পাত কেটে কেটে তৈরি করা হয়েছে । তার উপর নানা রঙে নানা নকশা করে এই সব কর্মকাণ্ড ফুটিয়ে তোলা হয়েছে । প্রতিমা ঘিরে আছে রাশি চক্র । কোথাও জ্যোতিষ, কোথাও মানব জন্মের থেকে বৃদ্ধ বয়সের প্রবর্তন, কোথাও আবার রাশির লগ্নের বিন্যাস তুলে ধরা হয়েছে ।
ক্লাব কর্তা সুরজিৎকুমার দে'র কথায়, "এই বিপুল পৃথিবী, মহাকাশ, ছায়াপথের আঁকেবাঁকে, সভ্যতার জন্মলগ্নে, জীবজগতের সমাজের ভেতরে নিহিত বিভিন্ন সম্পর্কের বৈচিত্র্যের মধ্যেও যেন একই সত্য প্রবাহমান । দর্শকরা এলে গোটা মণ্ডপ দেখে তাদের ভালো লাগবে বলেই আশা করছি । সকলকে আমন্ত্রণ রইল ।"


শিল্পী অনির্বাণ দাস বলেন, "যে প্রবাহ আমরা খুঁজে চলেছি, জঙ্গলের বাস্ততন্ত্রে, প্রাণীর শ্বসনতন্ত্রে, মানবসভ্যতার গণতন্ত্রে । আমাদের চৈতন্যে, তন্ত্র সাধনার মূল-ধারাতেও এই সত্যকে খুঁজে পাব । সাধ্য আর সাধনের প্রবাহ । শরীর সেখানে আধার । যে শরীরের চক্রকে জাগিয়ে তুলে মহাজ্ঞানে পৌঁছতে চান সাধক । বিশ্বনাথে লীন হলেই মোক্ষলাভ । মুক্তি । কুণ্ডলিনীর এই গমনেও মিলবে এক বৃত্তাকার প্রবাহ । যে প্রবাহে পাখির ডানার ঝটপট সঞ্চারিত হয় উড়োজাহাজের সত্যে । যে জ্ঞানকে, যে সত্যকে ছোঁয়ার চেষ্টা করেন পঞ্চদশ শতাব্দীর এক ইতালীয় শিল্পী ।"


তিনি আরও বলেন, "জীবজগতের এই সত্যই প্রবাহিত হচ্ছে জড়ের মধ্যে । যন্ত্রের মধ্যে । যন্ত্র থেকে মন্ত্রে, মন্ত্র থেকে তন্ত্রে বয়ে চলেছে এক আবহমান ধারা । যে প্রবাহে জীবের আদল সঞ্চারিত হচ্ছে জড়ের মধ্যে, সেভাবেই মৃন্ময়ী মূর্তির অন্তরে স্থাপিত হচ্ছে দেবীকল্প । গোটা বিষয়টি লোহা, টিন, রং তুলি ও আলোর খেলায় ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করছি । দর্শকরা মণ্ডপের এসে লেখাগুলি পড়লে কিংবা নকশা দেখলে নিজের সঙ্গে একাত্ম করতে পারবেন ।"



