ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বোঝাতে লিফলেট ও ভিডিয়ো প্রকাশ ! ভুয়ো বলে দাবি কৃষকদের
ব্লক প্রশাসনের দাবি, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কী রূপরেখা রয়েছে ৷ এটি কার্যকর হলে মানুষের কী সুবিধা হবে, সবকিছু এই হ্যান্ডবিল ও ভিডিয়ো ক্লিপে রয়েছে ৷

Published : May 8, 2025 at 9:32 PM IST
ঘাটাল, 8 মে: ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণের লক্ষ্যে লিফলেট ও ভিডিয়ো ক্লিপ তৈরি করা হয়েছে ৷ সোশাল মিডিয়ায় সেইগুলি প্রকাশ করে প্রচারের মধ্য দিয়ে কৃষকদের বোঝাতে চেষ্টা চালাচ্ছে সেচ দফতর ও ব্লক প্রশাসন । পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুর-1 পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে শুরু হয়েছে এই প্রচার । যদিও এই নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন আন্দোলনকারী কৃষকরা ৷ তাঁরা বিষয়টিকে ভুয়ো বলছেন ।
প্রসঙ্গত, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের বাস্তব রূপ দিতে 500 কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার । প্রাথমিক পর্যায়ে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু হয়েছে । মূলত, মোট 12টি পর্যায়ে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ হবে ৷ তার মধ্যে একটি পর্যায় হল দাসপুরের চন্দ্রেশ্বর খাল সম্প্রসারণ ও খনন । চন্দ্রেশ্বর খাল সম্প্রসারণের জন্য কেনা হবে জমি । তবে জমি দিতে নারাজ দাসপুরের কৃষকেরা ৷ তাই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ শুরু হতেই দাসপুর ও ঘাটালে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আন্দোলন শুরু করেন ।
ওইসব কৃষক ও স্থানীয় মানুষকে বোঝানোর লক্ষ্যে লিফলেট ও ভিডিয়ো ক্লিপ তৈরি করেছে সেচ দফতর ৷ তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, চন্দ্রেশ্বর খাল খননের ফলে কীভাবে উপকৃত হবেন এলাকার কৃষক এবং সাধারণ মানুষ । দাসপুরের চন্দ্রেশ্বর খাল সম্প্রসারণ ও খনন হলে কী সুবিধা হবে প্রভৃতি বিষয়গুলি ৷
উল্লেখ্য, ঘাটালে মূলত শিলাবতী নদীর জলে প্লাবিত হয় বিস্তীর্ণ এলাকা । সেই শিলাবতী নদীর জল ঘাটাল শহর হয়ে 45 কিলোমিটার ঘুর পথে রূপনারায়ণ নদীতে গিয়ে পড়ে । দাসপুরের বৈকন্ঠপুর থেকে গুডলি পর্যন্ত চন্দ্রেশ্বর খাল সম্প্রসারণ ও খনন হলেও সহজে অর্থাৎ 20 কিলোমিটারের মধ্যেই শিলাবতী নদীর জল গিয়ে পড়বে রূপনারায়ণে । এর ফলে শিলাবতী নদীর জলের চাপ কমবে ।

একইভাবে ঘাটালেও আন্দোলন শুরু করেছেন শিলাবতী নদীর পশ্চিম পাড়ের ব্যবসায়ী থেকে কৃষকরা । মহকুমা প্রশাসনের দাবি, ঘাটালেও স্থানীয় মানুষদের বোঝানোর জন্য লিফলেট ও ভিডিয়ো ক্লিপিং তৈরি করার আবেদন করা হয়েছে । এক কথায়, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কী রূপরেখা রয়েছে এবং কার্যকর হলে মানুষের কী সুবিধা হবে সব তথ্যই থাকবে এই হ্যান্ডবিল ও ভিডিয়ো ক্লিপে । মহকুমা প্রশাসনের আরও দাবি, অধিকাংশ কৃষক জমি দিতে সম্মতিপত্র সই করেছেন ৷ কিছু কৃষক যারা জমি দিতে চাইছেন না তাদেরকেও বোঝানো হচ্ছে । আশা করা হচ্ছে, খুব শীঘ্রই সকলেই জমি দেওয়ার সম্মতিপত্রে সই করবেন । এই বিষয়ে প্রশাসন থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, জোর করে কোনও কৃষকের জমি নেওয়া হবে না । পাশাপাশি উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিয়েই কৃষকদের কাছ থেকে জমি নেবে সরকার ।
এই বিষয়ে ঘাটাল মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাস বলেন, "ঘাটালের মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ নিয়ে বহু সমস্যা হচ্ছে । এলাকায় বেশ কিছু মানুষ এর বিরুদ্ধেও রাস্তায় নেমেছে । তাদের আমরা বোঝাতে এবং ঘাটালে বন্যার অভিশাপ মুছে ফেলতে বেশ কিছু ভিডিয়ো ক্লিপিং তৈরি করে এই সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করছি । যার উদ্দেশ্য হল, ঘাটালের মাস্টার প্ল্যান হলে কী কী সুবিধা হবে, কোন কোন ক্ষেত্রে সমান সমস্যা সমাধান হবে, তা তুলে ধরা । এই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে নদী এবং খালের জল যাতে পরিকল্পনামাফিক কোনও বাড়ি দোকানের উপর প্লাবিত না হয়, সেদিকে আমরা খেয়াল রাখছি ।"

এই বিষয়ে পালটা অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারী কৃষকরা । তাঁদের মধ্যে হরেকৃষ্ণ জানা বলেন, "ঘাটাল প্রশাসন ফেক কৃষকদের দিয়ে ফেক ভিডিয়ো বানিয়ে সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করছে এবং প্রচার চালাচ্ছে । এর বিরুদ্ধে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই । ঘাটালে মাস্টার প্ল্যানের জন্য খালের খনন হলে আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি এবং জানাব । আমরা কোনোভাবেই চাই না ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বেআইনিভাবে রূপায়িত হোক ।"
তবে এলাকার কিছু কৃষক ও ব্যবসায়ীর আপত্তি থাকলেও বৃহত্তর ঘাটালবাসী চাইছেন মাস্টার প্ল্যান দ্রুত কার্যকর হোক । ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত হলে তবেই বন্যার অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবে ঘাটাল । ব্যবসায়ী সীমন্ত হাইত ও সানি সিংয়ের কথায়, "ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে আমরা আশায় রয়েছি । কারণ, দীর্ঘ জল যন্ত্রণা ভুগতে হয় ৷ বন্যা হলেই সমস্ত দোকান জলের তলায় চলে যায় । পাশাপাশি গোটা এলাকায় জলমগ্ন সঙ্গে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে । তাই আমরা চাই মুখ্যমন্ত্রীর চেষ্টায় এবং দীপক অধিকারীর উদ্যোগে দ্রুত রূপায়ন হোক এই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের । এই ক্ষেত্রে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে সহমত ব্যক্ত করছি ।"
এই নিয়ে দাসপুর-1 পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুকুমার পাত্র বলেন, "মোট 12টি পর্যায়ে কাজ করতে নেমে কিছু কিছু বাধার সম্মুখীন হচ্ছি আমরা । বিশেষ করে চন্দ্রেশ্বর খালের এক্সটেনশন নিয়ে । মূলত শিলাবতীর জল যাতে উপচে না পড়ে তার জন্যই এই খালকাটা । প্রায় 20 কিলোমিটার খাল কেটে এগুলো একসঙ্গে যুক্ত করা হবে । এতে রক্ষাপাবে নাড়াজোল, কেশপুর, রাজনগর এলাকা । সেই সঙ্গে কমবে শিলাবতীর জলের চাপ ৷"

