ETV Bharat / state

বিক্ষোভের মুখে পিছু হটল প্রশাসন, প্রথম দিনেই বন্ধ দেউচা-পাচামির খনন কাজ

গতকাল ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ সেইমতো বৃহস্পতিবার বীরভূমে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লাখনিতে খনন কার্য শুরু করতে যায় প্রশাসন ৷

Locals agitate in Deucha Pachami coal block area
দেউচা পাচামিতে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে প্রশাসনিক কর্তারা (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : February 6, 2025 at 6:13 PM IST

5 Min Read
Choose ETV Bharat

দেউচা, 6 ফেব্রুয়ারি: কয়লা খনির কাজে এলাকাবাসীকে নিয়োগ করা হবে ৷ জমির বদলে চাকরি দেওয়া হবে ৷ এই প্রতিশ্রুতি দিলেও কথা রাখেনি সরকার ৷ এমন অভিযোগে বৃহস্পতিবার প্রথম দিনেই থমকে গেল পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লা খনি দেউচা-পাচামির খনন কাজ ৷ বিক্ষোভকারীদের চাপের মুখে পিছু হটলেন প্রশাসনিক কর্তারা ৷

বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের মঞ্চ থেকে বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মতো দেউচা-পাচামিতে খনন কাজ শুরুর উদ্যোগ নেয় প্রশাসন ৷ তার আগে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়েন প্রশাসনিক আধিকারিকরা ৷ এদিন বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের বোঝানোর চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি ৷ শেষে খনন কাজ বন্ধ করে দিতে হয় ৷ মহম্মদ বাজার ব্লক ও পঞ্চায়েত সমিতির প্রশাসনিক ভবনে পৌঁছন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল ৷ তিনি প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন ৷

দেউচা পাচামিতে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে প্রশাসনিক কর্তারা (ইটিভি ভারত)

তিনি বলেন, "ভূমি পুজো হয়ে গিয়েছে ৷ এখানকার সব মানুষ কাজ পাবেন ৷ যাঁরা এখানকার বাসিন্দা, তাঁরাই শ্রমিকের কাজ পাবেন ৷ কোনও অসুবিধা হবে না ৷ মানুষের উপকার হবে ৷ এই খনি হলে সবার লাভ হবে ৷ প্যাকেজে যা বলা আছে, সবটাই পাবে ৷ দায়িত্ব নিয়ে এটা আমি অনুব্রত মণ্ডল এটা বলছি ৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিষ্কার বলে দিয়েছেন ৷"

এদিন মথুরাপাহাড়ি ও দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় কয়লা উত্তোলনের আগে ব্যাসল্ট শিলা খনন কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছিল ৷ বীরভূমের জেলাশাসক বিধান রায়ের নেতৃত্বে প্রশাসনের শীর্ষকর্তারা খননস্থলে পৌঁছন ৷ তখন 'জমির বদলে চাকরি' থেকে বঞ্চনা করা হয়েছে, এই অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করেন আদিবাসীরা ৷ তাঁদের দাবি আগে কর্মসংস্থান সুনিশ্চিত করতে হবে ৷ তারপর কয়লা খনির কাজ শুরু হবে ৷

পরিস্থিতি সামাল দিতে বীরভূমের জেলাশাসক বিধান রায় ও রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলাম বিক্ষোভকারদের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা করতে থাকেন ৷ এদিন জেলাশাসক বলেন, "দেউচা পাচামি কোল ব্লকের কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ৷ সেই নির্দেশ মেনে কাজ শুরু হবে ৷ চাঁদা মৌজায় 12 একর এই জমিটি সরকারি ৷ এই জমিতে কয়লা তুলতে গেলে আগে ব্য়াসল্ট রিমুভালের কাজ করতে হবে ৷ আজ ব্যাসল্ট রিমুভালের কাজ শুরু করব ৷"

বিধান বলেন, "এটা সরকারি জমি ৷ এখানে জল-জমি-জঙ্গল, কোনও কিছুই আমরা নষ্ট করব না ৷ কেউ উচ্ছেদ হচ্ছে না ৷ প্রথম দফায় কোল মাইনটি আন্ডারগ্রাউন্ড হবে ৷" তিনি আরও জানান, যে গাছগুলি কেটে ফেলা হবে, তার প্রতিস্থাপনে নতুন করে চারা রোপণ করবে সরকার ৷ এমনকী দেউচা পাচামি কয়লা খনি অঞ্চলের প্রাথমিক বিদ্যালয় অন্যত্র স্থানান্তরের কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে ৷

জেলাশাসক বলেন, "আজও বিডিও অফিসে 110 জনের শুনানি চলছে ৷ ব্যাসল্ট মাইনিংয়ের কাজ এলাকাবাসীরাই করবেন ৷ আশপাশের চার-পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে কেউ আর্থ রিমুভার আবার কেউ ড্রাইভার, বা লেবার হবেন ৷ তাঁদের নাম নথিভুক্তিকরণ প্রক্রিয়া চলছে থানায় ৷ মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী প্যাকেজে যা বলেছেন, তাই হবে ৷ শুধুমাত্র জুনিয়র কনস্টেবল বা গ্রুপ ডি নয়, এই কয়লা খনির কাজে প্রতিটি ঘর থেকেই কাজ পাবে ৷"

বুধবার বিশ্ব বঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "বাংলার শিল্প উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা নেবে দেউচা-পাচামি কোল ব্লক ৷ এখানে বিপুল পরিমাণে কয়লা ও ব্যাসল্ট শিলা আছে ৷ বৃহস্পতিবার থেকেই খনন কাজ শুরু হবে ৷" গতকাল তাঁর ঘোষণার পরে সিউড়িতে বৈঠক করেন বীরভূম জেলাশাসক বিধান রায়, বীরভূম জেলা পুলিশ সুপার আমনদীপ সিং, রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলাম-সহ অন্য প্রশাসনিক আধিকারিকরা ৷

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম কয়লা খনির জন্য খনন কাজ শুরু করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয় ৷ কয়লা উত্তোলনের আগে ব্যাসল্ট শিলা খননের প্রস্তুতি নেওয়া হয় ৷ সেই মতো এদিন সকাল থেকে মথুরাপাহাড়ি ও দেওয়ানগঞ্জ এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল ৷

এই প্রকল্পের জন্য 35 হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে ৷ কিন্তু, জেলাশাসক-সহ প্রশাসনিক কর্তারা পৌঁছতেই শুরু হয় বিক্ষোভ ৷ প্রশাসনিক কর্তাদের বাধা দেন বিক্ষোভকারীরা ৷ আটকে রাখা হয় খননের জন্য আনা জেসিবি মেশিনও ৷ মহিলারাও বিক্ষোভে সামিল হন ৷ বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট দাবি, আগে জমিহারাদের প্রাপ্য চাকরি বুঝিয়ে দিতে হবে ৷ তারপর কয়লা খনির কাজ শুরু হবে ৷

দেউচা-পাচামিতে কয়লা খনি হলে কমপক্ষে 21 হাজার মানুষের বসতি অন্যত্র সরাতে হবে ৷ ধ্বংস হবে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল, জলাভূমি এবং চারণভূমি ৷ তাই প্রথম থেকে খনির বিরুদ্ধে ছিল আদিবাসীদের একটি বড় অংশ ৷ আরেকটি অংশ জমি দিতে ইচ্ছুক হলেও তাদের দাবি ছিল মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মতো আর্থিক প্যাকেজ ও চাকরি দিতে হবে ৷ কিন্তু, এই এলাকায় বহু জমিদাতা চাকরি পাননি বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের ৷ এই অভিযোগে তাঁরা জেলাশাসকের কাছে আগেও একাধিকবার ডেপুটেশন দিয়েছিলেন ৷

জেলাশাসক, জেলা পুলিশ সুপারকে সঙ্গে নিয়ে গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম ৷ বীরভূম জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, "মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা মতো চাঁদা মৌজায় 12 একর সম্পূর্ণ সরকারি জমিতে প্রথমিক খনন কাজ হবে ৷ কোনও উচ্ছেদ হচ্ছে না, কোনও গাছপালা কাটছি না ৷ আর কেউ চাকরি থেকে বা আর্থিক প্যাকেজ থেকে বঞ্চিত হবে না ৷ আমরা সকলের সঙ্গে কথা বললাম । সকলকে বললাম চিন্তার কোনও কারণ নেই ৷ এছাড়া, এলাকার স্কুল থেকে শুরু করে সব কিছুই অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে ৷ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সকলের কথা ভাবেন ৷"