বাংলার শিক্ষাব্যবস্থাকে বাঁচাতে এসএসসি অফিস অভিযানে 10 বামপন্থী সংগঠন, কবে ?
নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির তরফে 17 এপ্রিল এসএসসি অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে ৷ তাতে সামিল হচ্ছে এসএফআই, এআইএসএফ, এআইএসবি, পিএসইউ, ডিওয়াইএফআই, এআইওয়াইএফ, আরওয়াইএফ, এআইওয়াইএল, পিওয়াইএফআই ৷

Published : April 13, 2025 at 1:53 PM IST
কলকাতা, 13 এপ্রিল: যোগ্য শিক্ষকদের পুনর্বহাল করা এবং দুর্নীতির মূল মাথাদের শাস্তির দাবিতে আগামী 17 এপ্রিল এসএসসি'র মূল দফতর অভিযানের ডাক দিয়েছে শিক্ষক সংগঠন নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতি (এবিটিএ) । নয়টি বাম ছাত্র-যুব সংগঠন এই অভিযানে পূর্ণ সংহতি জানিয়েছে । সবমিলিয়ে 10টি সংগঠন বৃহস্পতিবার এসএসসি অভিযান করবে ৷ সংগঠনগুলি হল এবিটিএ, এসএফআই, এআইএসএফ, এআইএসবি, পিএসইউ, ডিওয়াইএফআই, এআইওয়াইএফ, আরওয়াইএফ, এআইওয়াইএল, পিওয়াইএফআই ৷
রাজ্য সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে এসএসসি ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদ দ্বারা সংগঠিত দুর্নীতির ফলে 2016 সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরিচ্যুত হয়েছেন 25,732 শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী । এমনটাই অভিযোগ দশটি বামপন্থী সংগঠনের । তাই ছাত্র, যুব, শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী, অভিভাবক-সহ সমস্ত অংশের শিক্ষানুরাগী মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে এই অভিযানে সামিল হওয়ার জন্য ।

বামপন্থী ছাত্র-যুবদের বক্তব্য, "এই লড়াই বাংলার শিক্ষাব্যবস্থাকে বাঁচানোর, শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের বাঁচানোর, রাজ্যের ভবিষ্যতকে রক্ষা করার । সকলে ঐক্যবদ্ধ হোন এই লড়াইয়ে ।" তাঁদের আভিযোগ, "যোগ্য ও অযোগ্য উভয় অংশের প্রার্থীই সামিল আছেন বরখাস্ত হওয়া তালিকায় । রাজ্য সরকারের সমস্ত সেক্টরে শূন্যপদে স্বচ্ছ, দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগের দাবিতে দীর্ঘ লড়াই লড়ে আসছেন রাজ্যের ছাত্র-যুবরা । এরপরেও সমস্ত নিয়োগের ক্ষেত্রেই একইরকমের সরকারি দুর্নীতি প্রকাশ্যে এসেছে । এসএসসি'র ক্ষেত্রেও যোগ্য-অযোগ্য বাছাই করে তালিকা প্রকাশের ক্ষেত্রে সরকারি অপদার্থতার ফলে আজ বিপদে রাজ্যের শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের ভবিষ্যত ।"
অন্যদিকে, নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুকুমার পাইন বলেন, "2011 সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে বর্তমান রাজ্য সরকার শিক্ষা ধ্বংসের কাজে নেমে পড়েছে । শিক্ষা পরিচালনার নিয়ামক সংস্থাগুলি থেকে শুরু করে বিদ্যালয় পরিচালনার নৈমিত্তিক কাজে যে অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র ছিল তাকে বিদায় দিয়েছে । সর্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে রাজ্যের শাসকদল মনোনীত সদস্যদের দ্বারা পরিচালক গোষ্ঠী । ফলে বাংলার শিক্ষায় দলতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে ।"

তিনি আরও বলেন, "বাম আমলের গর্বের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ স্কুল সার্ভিস কমিশন, যা আজ দুর্নীতির আঁতুড় ঘরে পরিণত হয়েছে । এই সরকারের আমলে যে ক'টি স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কারণে জটিলতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ঘনীভূত হয়েছে । 2016 সালের স্কুল সার্ভিস কমিশনের নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ, করণিক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগে এতটাই দুর্নীতি হয়েছে যে দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় সুপ্রিম কোর্ট 26 হাজার শিক্ষক শিক্ষিকা ও শিক্ষা র্মীর পুরো প্যানেল বাতিল করেছেন । অযোগ্যদের পাশাপাশি যোগ্যরাও কাজ হারিয়েছে । বাংলার শিক্ষার ইতিহাসে এরকম দুর্যোগ আগে কোনও দিন আসেনি । সারা দেশের কাছে আমাদের মাথায় হেঁট হয়ে গিয়েছে ।"
সুকুমার পাইনের কথায়, "দুর্নীতির কারণে শিক্ষামন্ত্রী থেকে শুরু করে নিয়ামক সংস্থার প্রায় সব মাথাই এখন জেলে । এ লজ্জা সমগ্র বাংলা তথা বাঙালিকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে । স্কুলগুলিকে পঠন-পাঠনের জায়গা থেকে সরিয়ে সরকারের ভোটমুখী জনমোহিনী সামাজিক প্রকল্প রূপায়ণের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলায় উপেক্ষিত হচ্ছে শ্রেণিপাঠ । সরকারের জনবিরোধী নীতির ফলে কাজ হারাচ্ছেন অভিভাবকেরা । স্কুলছুটের সংখ্যা বাড়ছে । 8200টি স্কুল উঠে যাওয়ার মুখে । শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ছিঁটেফোঁটা । বাড়ছে বেসরকারি স্কুল কলেজ । সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হলে সাধারণ গরিব, নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে শিক্ষা মহার্ঘ হতে বাধ্য ।"

তাঁর আরও বক্তব্য, "দীর্ঘ আইনি জটিলতায় টাকার বিনিময়ে চাকরি কেনা কয়েক হাজার অযোগ্য শিক্ষক শিক্ষা কর্মীকে বাঁচাতে হাজার হাজার মেধাবী যোগ্য শিক্ষক শিক্ষাকর্মীকে বলি দিয়েছে রাজ্যের সরকার । যোগ্যদের পাশে নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতি বরাবরই ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে । এমনকি আইনি লড়াইয়ে আমরা যোগ্যদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে দেশের অন্যতম বিশিষ্ট আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণকে দাঁড় করিয়েছিলাম । কিন্তু দুর্নীতিগ্রস্তদের রক্ষা করার রাজ্যের সরকারের বেপরোয়া মনোভাবে শেষ রক্ষা করা যায়নি । সুপ্রিম কোর্টে মিরর ইমেজ বা প্রামাণ্য নথিপত্র দাখিল না করে এখন সেগুলি আছে বলে রাজ্যের হাজার হাজার যোগ্য শিক্ষক শিক্ষা কর্মীর সঙ্গে প্রতারণা করেছে রাজ্য সরকার । রাজ্য সরকারের দুর্নীতিগ্রস্তদের প্রতি প্রীতি বাংলার শিক্ষার সর্বনাশ করছে ।"
তাই, সাধারণ বিদ্যালয় ব্যবস্থা এবং মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাঁচাতে দলমত নির্বিশেষে শিক্ষক-শিক্ষিকা শিক্ষা কর্মী ও অভিভাবক অভিভাবিকা-সহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে জোটবদ্ধ আন্দোলনে নামার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি । আগামী 17 এপ্রিল এসএসসি অফিস অভিযানের ডাক দিয়েছেন ।

