অন্য মহালয়া ! দেবীপক্ষের সূচনালগ্নে আরজি করে বসল 'অভয়া' মূর্তি - Kolkata Doctor Rape and Murder
Abhaya Statue Unveiled: দেবীপক্ষের সূচনালগ্নে আরজি কর হাসপাতালে বসল 'অভয়া' মূর্তি ৷ হাসপাতালের অধ্যাপক চিকিৎসকরা মূর্তিটির উন্মোচন করেন ৷ নারীদের উপর হওয়া অত্যাচারের প্রতিবাদ এই ভাস্কর্যে তুলে ধরেছেন শিল্পী ৷

Published : October 2, 2024 at 2:38 PM IST
কলকাতা, 2 সেপ্টেম্বর: আজ মহালয়া ৷ পিতৃপক্ষের অবসান ঘটিয়ে সূচনা হল মাতৃপক্ষের । আর এই দিনই আরজি কর হাসপাতালের বুকে প্রতিষ্ঠা হল 'অভয়া' মূর্তির ।
হাসপাতালের অধ্যক্ষের অফিসের সামনে চিকিৎসক আরজি করের মূর্তির ঠিক বিপরীতে এই মূর্তি বসানো হল । তবে মূর্তিটি শুধু আরজি কর হাসপাতালের নির্যাতিতার স্মরণে নয়, নারীদের উপর হওয়া অত্যাচারের প্রতিবাদে এই ভাস্কর্য তৈরি করেছেন শিল্পী অসিত সাঁই ।
9 অগস্ট আরজি কর হাসপাতালের নরকীয় হত্যাকাণ্ডের আজ 55 দিন । দেবীপক্ষের সূচনালগ্নেই আরজি করের বুকে প্রতিষ্ঠা হল অভয়া মূর্তির । মূর্তির উন্মোচন করেন আরজি কর হাসপাতালে অধ্যাপক চিকিৎসকরা । তাঁদের সঙ্গে ছিলেন আন্দোলনকারী জুনিয়র চিকিৎসকরাও ।
তিলোত্তমার নামে এই মূর্তিটি বসানো সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্যের স্পিরিটের পরিপন্থী। কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তি এটা করতে পারেন না। শিল্পের নামেও না। প্রতিবাদ, ন্যায়বিচারের দাবি থাকবেই। কিন্তু মেয়েটির যন্ত্রণার মুখ দিয়ে মূর্তি ঠিক নয়। নিগৃহীতার ছবি, মূর্তি, নামে দেশে গাইডলাইন আছে। pic.twitter.com/LCnH7QRfJx
— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) October 2, 2024
তবে এই উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ । তাঁর মতে এমন উদ্যোগ সুপ্রিম কোর্ট মামলার শুনানিতে যা বলেছে তার পরিপন্থী।
মূর্তিটির উদ্বোধন করে চেস্ট মেডিসিনের অধ্যাপক চিকিৎসক দেববাণী বিশ্বাস বলেন, "এই প্রথম মহালয়া এমন ভাবে উদযাপন হচ্ছে । যেখানে মাতৃশক্তির সঠিক আরাধনা হচ্ছে । চিরকাল মানুষ মনে রাখবে আরজি করের বুকে এমন ঘটনা ঘটেছে ।"
এই মূর্তিটি তৈরি করেছেন শিল্পী অসিত সাঁই । 5 ফুট লম্বা বেদিতে মূর্তি বসানো হয়েছে ৷ বেদিটি চওড়ায় 22 ইঞ্চি ৷ আর মূর্তিটি চওড়ায় প্রায় 8 ইঞ্চি ৷ মূর্তির উচ্চতা দেড় ফুট ৷ নির্যাতিতার জন্য আবেগ, দুঃখ ও প্রতিবাদের মিশেলে এই মূর্তি তৈরি করেছেন শিল্পী । শিল্পীর কথায়, "সবথেকে মর্মান্তিক হল, অন্য মানুষেরা যাতে চলে না যায়, সেই চেষ্টা করতে সে এসেছিল । কিন্তু যখন সে নিজে বিশ্রাম নিতে গেল, তখন তাঁরই প্রাণটা কেড়ে নিল । এই ঘটনা শুধু আরজি করে নয়, সারা দিকে চলছে ।"
শিল্পী এই মূর্তি তৈরি করে সমাজ মাধ্যমে দিয়েছিলেন । সেখান থেকেই শিল্পীর খোঁজ পান জুনিয়র চিকিৎসকরা । জুনিয়র চিকিৎসক অনিকেত মাহাতো বলেন, "একটা যন্ত্রণার জায়গা আছে মূর্তিতে । সেটা আমরা অনুভব করেছি । এছাড়া আমাদের আন্দোলনের প্রতিটা কর্মসূচি এই মূর্তির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে । সে ক্ষেত্রে আমরা মনে করেছি ক্যাম্পাসে এই মূর্তিটি প্রতিষ্ঠা করা হোক ।"

