সংসার চালাতে অনাথ আশ্রমের নামে টাকা সংগ্রহ, পিছনে বড় কোনও চক্র !
নাগপুরের 'ভুয়ো স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা'র কাগজ দেখিয়ে বাড়ি-বাড়ি টাকা সংগ্রহ ৷ ধরা পড়তেই পিঠটান অভিযুক্তদের ৷

Published : July 12, 2025 at 4:05 PM IST
জলপাইগুড়ি, 12 জুলাই: হাতে কয়েকটি কাগজ ৷ আর সেই কাগজ দেখিয়ে, অনাথ আশ্রমের নামে বাড়ি-বাড়ি ঘুরে টাকা সংগ্রহ করছেন দুই ব্যক্তি ৷ অভিযোগ, পুরোটাই নাটক ৷ অনাথ আশ্রমের নাম করে টাকা তোলা, এটাই তাঁদের পেশা ৷ শনিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে জলপাইগুড়ি পুরসভার 2 নম্বর ওয়ার্ডের রায়কতপাড়ায় ৷ যদিও, এ নিয়ে কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি পুলিশে ৷
জানা গিয়েছে, জলপাইগুড়ি পুরসভার 2 নম্বর ওয়ার্ডের রায়কতপাড়ায় দুই ব্যক্তি বাড়ি-বাড়ি ঘুরে টাকা তুলছিলেন ৷ নাগপুরের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাগজ দেখিয়ে তাঁরা এই কাজ করছিলেন ৷ তাঁদের দাবি ছিল, জলপাইগুড়ি শহরের মোহিতনগরে একটি অনাথ আশ্রম রয়েছে সংস্থাটির ৷ সেখানকার আবাসিকদের জন্যই ডোনেশন সংগ্রহ করছেন ৷
কিন্তু, স্থানীয় কয়েকজনের তাঁদের কথাবার্তায় সন্দেহ হওয়া ওই দু’জনকে চেপে ধরেন তাঁরা ৷ স্থানীয়দের দাবি, আর তাতেই ঝোলা থেকে বেরিয়ে আসে বিড়াল ৷ চাপের মুখে ওই দুই ব্যক্তি স্বীকার করেন, সংসার চালাতে অনাথ আশ্রমের নাম করে টাকা তুলছিলেন ৷ তবে, এর পিছনে আরও বড় চক্র কাজ করছে বলে জানা গিয়েছে ৷
অভিযুক্তদের একজন দাবি করেছেন, আগে তাঁর লটারির দোকান ছিল ৷ সেই ব্যবসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে ৷ তাই নতুন কাজ খুঁজছিলেন ৷ সেই সময় কয়েকজনের সঙ্গে পরিচয় হয় এই দুই ব্যক্তির ৷ অভিযোগ, তারা নাগপুরের একটি ভুয়ো সংস্থার নামে লিফলেট ছাপিয়ে বাড়ি-বাড়ি টাকা তোলার কাজ করে ৷ সারাদিনে যা টাকা ওঠে, তার থেকে তিনশো বা পাঁচশো টাকা করে দেওয়ার কথা বলা হয় ৷
ওই দুই ব্যক্তি দাবি করেছেন, তাঁরা পেটের তাগিদে এই কাজ করেছেন ৷ পরে ওই চক্রের লোকজন তাঁদের কেও কয়েকটি ছাপানো কাগজ দেয় ৷ সেই কাগজ দেখিয়েই তাঁরা টাকা তুলছিলেন ৷ যা টাকা উঠত, তা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিতেন তাঁরা ৷ তবে, ধরা পড়ে যেতেই কাগজগুলি ছিঁড়ে ফেলে দিয়েছেন দুই ব্যক্তি ৷ জানালেন, আর কখনও এই কাজ করবেন না ৷
তবে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি পুলিশে ৷ জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনা নিয়ে এখনও কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি ৷ আমরা খোঁজ নিচ্ছি ৷ নজরদারি চালানো হচ্ছে, এমন কোনও ঘটনা নজরে এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ৷ এ নিয়ে জলপাইগুড়ির 2 নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মহুয়া দত্ত বলেন, "আমি অনাথ আশ্রমের নামে টাকা তোলার অভিযোগ পেয়েছি ৷ বিষয়টি পুলিশকে জানাব ৷"

