5 নম্বরই বদলে দিতে পারে অনেকের ভাগ্য, 32 হাজার চাকরি বাতিল মামলায় আবেদন হাইকোর্টে
এসএসসি-র পর সঙ্কটে 2016 সালের প্রাথমিকের প্যানেল ৷ মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী আদালতে জানালেন, মাত্র 5 নম্বরের জন্য প্রশিক্ষিত-অপ্রশিক্ষিত প্রার্থীদের মধ্যে বিরাট পার্থক্য হয়েছে ৷

Published : September 11, 2025 at 8:04 PM IST
কলকাতা, 11 সেপ্টেম্বর: প্রাথমিকে 32 হাজার চাকরি বাতিলের মামলায় পুরো প্যানেল পুনর্গঠনের দাবি জানালেন ওই বছরে চাকরি না-পাওয়া প্রার্থীরা ৷ এর আগের শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্ট আইনজীবীদের কাছ থেকে জানতে চেয়েছিল, যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের কীভাবে আলাদা করা সম্ভব ৷ বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চ প্রশ্ন করে, "কাদের অ্যাপটিটিউড টেস্ট হয়েছে এবং কাদের হয়নি, কারা দুর্নীতি করে চাকরি পেয়েছেন এবং পাননি, আদালত কীভাবে তাঁদের পৃথক করবে ? আদালতের পক্ষে এই বাছাই করা সম্ভব নয় ।"
এর উত্তরে মামলাকারী পক্ষের এক আইনজীবী 42 হাজার প্রার্থীর পুনর্গঠনের প্রস্তাব দেন ৷ অন্যদিকে মামলাকারী পক্ষের আরেক আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য এই মামলায় দুর্নীতির দিকটি তুলে ধরেন ৷ এদিন তাঁর বক্তব্য সম্পূর্ণ হয়নি ৷
আদালতে সওয়াল-জবাব
বৃহস্পতিবার এই শুনানিতে চাকরি না-পাওয়া প্রার্থীদের এক আইনজীবী সৌম্য মজুমদার বলেন, "অ্যাপটিটিউড টেস্টের জন্য 5 নম্বর বরাদ্দ ছিল ৷ এই নম্বরই তো বিরাট তফাৎ করে দিতে পারে ৷ যাঁরা প্রশিক্ষিত প্রার্থী, তাঁদের কোনও সমস্যা হবে না ৷ কিন্তু যাঁদের প্রশিক্ষণ ছিল না, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নম্বর তফাৎ তৈরি করে দেবে ৷ তাই গোটা প্যানেল পুনর্গঠন করা হোক ৷"
তিনি আরও বলেন, "2026 সালে নিয়োগে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় থাকা প্রার্থীদের নম্বরের বিভাজন প্রকাশ করা হয়নি ৷ 2022 সালের 20 নভেম্বর আদালত প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে 42 হাজার 900 জনেরও বেশি চূড়ান্ত তালিকায় থাকা প্রার্থীদের নম্বরের বিভাজন প্রকাশ করতে নির্দেশ দিয়েছিল ৷ জেলা, ক্যাটেগরি, কাস্ট অনুযায়ী প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করতে বলা হয়েছিল ৷ কিন্তু প্রকাশ করা হয়নি ৷ কোনও গ্রহণযোগ্য সামগ্রিক প্যানেল তৈরিই করা হয়নি ৷ প্যানেল পুনর্গঠন করা হলে যাঁরা যোগ্য, তাঁরা সুযোগ পেতে পারেন ৷"
পাশাপাশি প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, 2016 সালে গোটা নিয়োগের কাজ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের পরিবর্তে একটা বেসরকারি কোম্পানি 'এস বসু রায় অ্যান্ড কোম্পানি'কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ৷ ফলে সেখানে ইচ্ছেমতো স্বজনপোষণ ও অনিয়ম করা হয়েছে ৷
মামলাকারীদের তরফে আইনজীবীদের জবাব শুনে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী বলেন, "আপনারা কি চাইছেন 32 হাজার চাকরি বাতিল করা হোক ? নাকি শুধু যিনি চাকরি পাননি, তাঁকে চাকরি দিলেই হল ?"
তখন সৌম্য মজুমদার বলেন, "32 হাজারের চাকরি বাতিল নাই হতে পারে ৷ কিন্তু 42 হাজার প্যানেল পুনর্গঠন করা হোক ৷" তখন বেঞ্চ জানতে চায়, পুনর্গঠন কীভাবে সম্ভব ?
উত্তরে আইনজীবী বলেন, "অ্যাপটিটিউড টেস্টের জন্য 5 নম্বর ধার্য করা হয়েছে ৷ এই নম্বরই তফাৎ করে দিতে পারে ৷ প্রশিক্ষিতদের কিছু হেরফেল হবে না ৷ কিন্তু যাঁদের প্রশিক্ষণ ছিল না, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নম্বর তফাৎ তৈরি করে দেবে ৷ তাই হয় সবাইকে 5 নম্বর দেওয়া হোক ৷ অথবা সবার 5 নম্বর বাদ দেওয়া হোক ৷"
বিচারপতি বলেন, "যদি এখন আমরা পুরো নিয়োগ বাতিল করি, তাহলে কি সবার তথ্য পাওয়া যাবে ?"
মামলাকারী পক্ষের আইনজীবী সৌম্য মজুমদার বলেন, "প্রত্যেক প্রার্থীর কাছেই নিজের নম্বর আছে ৷"
অন্যদিকে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, "আইনের কাজ হচ্ছে গোড়ায় গিয়ে সত্য উদঘাটন করা ৷ এই নিয়োগে সংরক্ষণের নীতি মানা হয়নি ৷ স্বজনপোষণ, ব়্যাঙ্ক জাম্প হয়েছে ৷ এটা একটা সিস্টেমেটিক বা পদ্ধতিগত জালিয়াতি ৷"
তিনি আরও বলেন, "প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের 2016 সালের জন্য 20টি জেলায় ওএমআর শিটের বরাত পেয়েছিল এস বসু রায় অ্যান্ড কোম্পানি ৷ এরপর 14 সেপ্টেম্বর বোর্ড কোম্পানিকে নির্দেশ দেয়, অনলাইন পোর্টাল খুলে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জেলাভিত্তিক স্ক্রুটিনি ভেরিফিকেশন করতে হবে ৷ তারপর প্যানেল তৈরি করতে নির্দেশ দেওয়া হয় ৷ পরে অতিরিক্ত প্যানেল তৈরি করতে বলে ৷ সর্বোপরি, যে কাজ বোর্ডের করার কথা, সেটা এস বসু রায় কোম্পানিকে দিয়ে করানো হয়েছে ৷ একজন প্রার্থীর কাছে অনিয়মের বিস্তারিত তথ্য থাকতে পারে না ৷ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব সেটা খুঁজে বের করা ৷" আগামী 22 সেপ্টেম্বর ফের এই মামলার শুনানি ৷ ওই দিন আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য তাঁর বক্তব্য শেষ করবেন ৷

