মধ্যপ্রদেশে কাজ করতে গিয়ে টাওয়ার ভেঙে মৃত্যু মালদার তিন পরিযায়ী শ্রমিকের
কাজ করার সময় টাওয়ার ভেঙে তিনজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। রাতেই এই খবর এলাকায় এসে পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে আসে।

Published : December 27, 2024 at 9:35 PM IST
মালদা, 27 ডিসেম্বর: সারা দেশ নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে ব্যস্ত। ঠিক তখন বিষাদের সুর ইংরেজবাজারের অমৃতি ও ফুলবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে টাওয়ার ভেঙে মৃত্যু তিন পরিযায়ী শ্রমিকের। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় 16 দিন আগে মধ্যপ্রদেশে টাওয়ারের কাজে গিয়েছিলেন ইংরেজবাজারের অমৃতি এবং ফুলবাড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তিন যুবক আজমির মোমিন, সিণ্টু মোমিন ও মোবারক নাদাব।
বৃহস্পতিবার কাজ করার সময় ওই টাওয়ার ভেঙে তিনজনেরই মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। রাতেই এই খবর এলাকায় এসে পৌঁছতেই শোকের ছায়া নেমে আসে। আজমির মোমিনের দাদা আক্রামূল হোসেন বলেন, “প্রায় 16 দিন আগে ভাইরা টাওয়ারের কাজে গিয়েছিল। গতকাল খবর আসে টাওয়ার ভেঙে ভাই এবং আমাদের এক প্রতিবেশীর মৃত্যু হয়েছে। শুনেছি আরও একজনের প্রাণ গিয়েছে। গতকাল দেহগুলির ময়নাতদন্ত করা হয়েছে ৷ আজ মৃতদেহগুলি বাড়ির উদ্দেশে রওনা করা হবে। আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় ভাইকে বাইরে কাজে যেতে হয়েছিল। দুটো ছেলেমেয়ের সঙ্গে ভাইয়ের স্ত্রী বর্তমানে গর্ভবর্তী। আমরা সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি।”
সিণ্টু মোমিনের পরিবারের সদস্য প্রসারী বেওয়া বলেন, “এখানে কোনও কাজ নেই। বাচ্চাদের পড়াবে কী করে ? জামাই ধার করে টোটো কিনেছিল। কিন্তু সেখানেও উপার্জন হচ্ছিল না। সেই কারণে বাইরে কাজে যেতে হয়েছিল। মেয়ে আর তিন নাতি-নাতনির এখন কী হবে, কিছুই বুঝতে পারছি না। আমরা সরকারি সাহায্যের দাবি জানাচ্ছি।” এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান স্থানীয় জেলা পরিষদের সদস্য জুয়েল রহমান সিদ্দিকী। তিনি বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকার আমাদের বাংলাকে বঞ্চনার মুখে ফেলে রেখেছে। মুখ্যমন্ত্রী সীমিত ক্ষমতার মধ্যে রাজ্যের মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। সরকারিভাবে ওই পরিবারগুলোকে আর্থিক সাহায্যের ব্যবস্থা করছি।"
বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সম্পাদক অম্লান ভাদুড়ি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাইরে কাজ করতে শ্রমিকের প্রাণহানির ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই সংবাদমাধ্যমে দেখতে পাচ্ছি। রাজ্যে কোনও কাজ নেই। ক্ষমতায় আসার পর তৃণমূল সরকার কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেনি। মালদা জেলা থেকেই প্রায় 5 লক্ষ মানুষ ভিনরাজ্যে কাজে যাচ্ছেন। মধ্যপ্রদেশ সরকারের সঙ্গে কথা বলে ওই পরিবারগুলির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার চেষ্টা করব।"

