ইস্টবেঙ্গলের ভারত গৌরবে আপ্লুত শ্রীজেশ, লাল-হলুদের প্রতিষ্ঠা দিবসে চাঁদের হাট
পরিবর্তনের বছর হতে পারে এটা ৷ প্রতিষ্ঠা দিবসে সমর্থকদের আশ্বাস অস্কার ব্রুজোঁর ৷

Published : August 1, 2025 at 11:48 PM IST
কলকাতা, 1 অগস্ট: তারকাদের ভিড়ে জমজমাট ইস্টবেঙ্গলের 106তম প্রতিষ্ঠা দিবস । একইসঙ্গে 1975 সালে আইএফএ শিল্ডে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে পাঁচ গোলের ঐতিহাসিক জয়ের উদযাপনও সেরে ফেলা হল প্রায় দু'মাস আগেই । ফলত জোড়া উদযাপনে সদস্য-সমর্থকদের উৎসাহ ও উদ্দীপনা স্বভাবতই বেশি। আর প্রতিষ্ঠা দিবসের মায়াবী সন্ধেয় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে ক্লাবের সর্বোচ্চ 'ভারত গৌরব' সম্মানে ভূষিত টোকিয়ো এবং প্যারিসে ব্রোঞ্জজয়ী ভারতীয় হকি দলের গোলরক্ষক পিআর শ্রীজেশ।
কিংবদন্তির হাতে সাম্মানিক অর্থ,স্মারক, উপহার এদিন তুলে দিলেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, কলকাতার মহানাগরিক ববি হাকিম । সে সময় মঞ্চে উপস্থিত ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মুরারি মোহন লোহিয়া,সচিব রূপক সাহা এবং অন্যান্য পদাধিকারীরা । প্রাক্তন দুই ফুটবলার সত্যজিৎ মিত্র এবং মিহির বসু জীবনকৃতি সম্মানে সম্মানিত । এদিনের অনুষ্ঠানে সত্যজিত মিত্র অনুপস্থিত থাকলেও সম্মানিত হওয়ার পরে মিহির বসু প্রতিক্রিয়ায় বলে গেলেন, "ইস্টবেঙ্গলে না-খেললে কোনও ফুটবলারের জীবন সম্পূর্ণ হয় না । কনিষ্ক শেঠ বছরের সেরা ক্রিকেটার । তাঁকে সম্মানিত করলেন সিএবি প্রেসিডেন্ট স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় । বর্ষসেরা ফুটবলারের সম্মান পেলেন সৌভিক চক্রবর্তী। সেরা উদীয়মান ফুটবলার পিভি বিষ্ণু। সৌভিক এবং বিষ্ণু দু'জনেই জানালেন, সমর্থকদের সম্মান-ভালোবাসার দাম ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁরা নিংড়ে দেবেন আগামী মরশুমে ।

গত কয়েকবছরের মত এবারও প্রতিষ্ঠা দিবসে ইস্টবেঙ্গল সিনিয়র দলকে মঞ্চে হাজির করিয়ে পরিচয় করানো হল লাল-হলুদ জনতার সঙ্গে । হেড কোচ অস্কার ব্রুজোঁ সদস্য-সমর্থকদের উন্মাদনায় আপ্লুত । প্রত্যাশার চাপ রেখেই স্প্যানিশ ভদ্রলোক বললেন,"এই বছরটা পরিবর্তনের বছর হতে পারে ।" আইডব্লিউএল চ্যাম্পিয়ন হয়ে মহাদেশীয় প্রতিযোগিতায় খেলার যোগ্যতা অর্জনের জন্য সম্মানিত হলেন লাল-হলুদের মহিলা ফুটবলাররাও । সৌভিকের সঙ্গে মহিলা দলের বর্ষসেরা হিসেবে সম্মানিত হলেন সৌম্যা গুগুলথ ।
লাল-হলুদের মহিলা দলের ফুটবলার সঙ্গীতা বাসফোর ভূষিত হলেন 'প্রাইড অফ ইন্ডিয়া' সম্মানে । সেরা কোচের সম্মান দেওয়া হল সঞ্জয় সেনকে। অতীতে মোহনবাগানকে আই লিগ জেতানো এবং গত মরশুমে বাংলাকে সন্তোষ ট্রফি জেতানো কোচ জানালেন, ভবিষ্যতে কখনও সুযোগ পেলে এই সম্মানের দাম সুদে-আসলে পুষিয়ে দেবেন তিনি। গ্র্যান্ডমাস্টার হতে চলা আরণ্যক ঘোষকে প্রতিভার স্বীকৃতি স্বরূপ বিশেষ সম্মানে সম্মানিত করা হল লাল-হলুদের তরফে । 'ভারত গৌরবে' সম্মানিত হয়ে শ্রীজেশ জানালেন, ইস্টবেঙ্গলের সম্মানে তিনি আপ্লুত । তবে অলিম্পিক্সে পদকের প্রশ্নে শ্রীজেশ জানালেন, জার্মানির কাছে পরাজয়ের দুঃখ এখন ভুলতে পারেননি তিনি ।
রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস লাল-হলুদের প্রতিষ্ঠা দিবসে এদিন বলেন, "ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে সকালের সূর্য উঠছে । ডার্বিতে সেটা প্রমাণ হয়েছে। চিৎকার করতে হবে আগের মত। কোথায় সেই আগের দর্শক? চিৎকার করতে হবে, নয়তো প্লেয়াররা পারবে না। ইস্টবেঙ্গল ক্লাব অতীতকে কখনও ভোলে না। ইস্টবেঙ্গল ক্লাব সম্মান দিতে জানে। প্লেয়ারদের স্বীকৃতি দেয়। ইস্টবেঙ্গলের ফ্যান, সমর্থক সারা পৃথিবীতে। বাঙালদের একটা কথা আছে, আশায় বাঁচে চাষা। এবার সেটার জন্য প্রস্তুত থাকুন। অতীত গৌরব ফিরিয়ে আনার দিন এসেছে।"

