সোমে মোহনবাগান মাঠে লিগ শিল্ড, পরবর্তী লক্ষ্যে স্থির সবুজ-মেরুন
পরিশ্রমেই সাফল্য, বিশ্রাম নিয়ে পরবর্তী লক্ষ্যে চোখ মোলিনা ও সবুজ-মেরুনের ৷ ইতিহাস রচনা করছে বাগান শিবির, জানালেন সঞ্জীব গোয়েঙ্কা ৷

Published : March 9, 2025 at 4:01 PM IST
কলকাতা, 9 মার্চ: "আমরা ইতিহাস রচনা করেছি। মনে রাখার মত একটা মরশুম। তবে এটা শেষ নয় শুরু। শুভাশিস এবং তাঁর দলকে ট্রফি তুলতে দেখে গর্বিত বোধ করছি", বলছেন দলের কর্ণধার সঞ্জীব গোয়েঙ্কা।
দেশের বাইরে থাকায় মাঠে উপস্থিত হয়ে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের জয় দেখতে পারেননি। তবে ওড়িশা এফসি ম্যাচের সঙ্গে আইএসএল লিগ শিল্ড জয় নিশ্চিত করা দেখেছিলেন। এবার শিল্ড নিয়ে মোহনবাগান ক্লাবে ঢুকবেন। গাঁটছড়া বাঁধার পরে প্রথমবার এমনটা করবেন তিনি। সোমবার অর্থাৎ, আগামিকাল বিকেলে পতাকা উত্তোলন হবে ক্লাবে।
পরপর দু'বার ঘরের মাঠে লিগ শিল্ড জয় আর তা একাধিক নজির গড়ে। শিল্ড পাওয়ার আনন্দে বাঁধনহারা উচ্ছ্বাসে ভাসেন ফুটবলাররা এবং সমর্থকরা। এযেন আগাম হোলি। আইএসএল লিগ শিল্ড জয়ে অংশ নিলেন ফুটবলারদের পরিবারের সদস্যরা। অধিনায়ক শুভাশিস বসুর পুরো পরিবার বাবা, মা, স্ত্রী ছিলেন। তাঁদেরকে নিয়ে ফটো সেশনে মাতেন। মাঠে দাঁড়িয়েই মেডেল এবং অধিনায়কের আর্মব্যান্ড স্ত্রী কস্তুরী ছেত্রীকে পরিয়ে দেন মোহনবাগানের অধিনায়ক।
স্ত্রীর সঙ্গে উদযাপন করলেন হোসে মোলিনা। শিল্ড ধরে ছবি তুলতে দেখা যায় সস্ত্রীক কামিন্সকে। আগামী 18 মার্চ আবার প্রস্তুতি শুরু হবে। তার আগে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চান ফুটবলাররা। দিমিত্রি পেত্রাতোস বলেছেন, পরিবারের সঙ্গে ছোট বিরতি উপভোগ করতে চাই। তারপর আবার খেলায় মনোযোগ দেব উৎসবের সুর জেমি ম্যাকলারেনের মুখে। এই মুহূর্তে সময়টা উপভোগ করতে চান।
তিনি বলেছেন, বিশেষ অনুভূতি। ওড়িশার বিরুদ্ধে আমরা ট্রফি নিশ্চিত করি। কিন্তু মুহূর্তটা উপভোগ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ট্রফি, মেডেল হাতে পাওয়া দারুণ অনুভূতি। আমাদের আরও একটা ট্রফি জেতার সুযোগ আছে। আমরা সেটার জন্য মুখিয়ে আছি। মুহূর্তটা উপভোগ করতে চাই। ছোটবেলা থেকেই বড় ক্লাবে খেলা লক্ষ্য ছিল। আগেও খেলেছি, এবারও খেলে চ্যাম্পিয়ন হলাম। সমর্থকরা খুশি হয়ে বাড়ি ফিরবে। ওদের আনন্দ দিতে পেরে ভালো লাগছে।
15টি ম্যাচে গোল হজম না করে সাফল্য। যার মূল কারিগর টম অ্যালড্রেড এবং অ্যালবার্তো রড্রিগেজ। গোল করে এবং করিয়ে নায়ক ওরা দু'জন। কেরিয়ারের প্রথম বড় টুর্নামেন্ট জিতে উচ্ছ্বসিত টম। বলেন, "আমার প্রথম লিগ খেতাব। সমর্থকদের ধন্যবাদ। আমরা এবার চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার চেষ্টা করব। আমি অনেক দেশে খেলেছি, তবে অ্যালবার্তোর সঙ্গে পার্টনারশিপ বা বোঝাপড়া সবচেয়ে ভালো। আমরা গোল পেলেও ডিফেন্ডার হিসেবে আমাদের প্রাথমিক কাজ ক্লিনশিট রাখা।"
আপাতত কয়েকদিন বিশ্রাম নিয়ে আবার নতুন উদ্যমে চ্যাম্পিয়নশিপের লক্ষ্যে ঝাঁপাবে সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। তার আগে কোচ হোসে মোলিনার মুখে দলের পরিশ্রমের কথা। ভাগ্যের চেয়েও পরিশ্রমকে সামনে রাখছেন। তৃপ্তির চেয়ে খুশিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট কোচ বলছেন, "আমার সেরা সাফল্য কি না, আমি জানি না। আশা করি, আমার সেরা সময় এখনও আসেনি। আমি প্রতিদিন সফল হওয়ার জন্য পরিশ্রম করে চলেছি। আমি মনে করি, আমরা সবাই মিলে দারুণ একটা কাজ করেছি। যখন কারও কাজে পরিশ্রম আর আবেগ থাকে, তখন হয়তো সে ভাগ্যবান হতে পারে। কিন্তু ভাগ্য বিনামূল্যে আসে না ৷"
কোচের কথায়, "নিজের দলের এই সাফল্যের ময়নাতদন্তে তিনি বলেছেন, শিল্ড জয় আমাদের এক বিশাল সাফল্য। এটা সবার সেরা। আমি এই মরশুমের প্রতিটি দিন উপভোগ করছি। আমি আমার খেলোয়াড়দের এই সাফল্যে সাহায্য করেছি। আমি সত্যিই খুশি, যে তাদের জন্য, ক্লাবের জন্য, মালিকের জন্য, ম্যানেজমেন্টের জন্য, কোচিং স্টাফের জন্য। অবশ্যই, আমাদের সমর্থকদের জন্যও। আমি সবার জন্যই আনন্দিত। আমি মনে করি, এটা আমাদের প্রাপ্য।"
আইএসএল ট্রফি আগে এটিকের জার্সি গায়ে জিতেছিলেন। এবার মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের জার্সিতে। সমর্থকপুষ্ট ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করা সবসময়ই বাড়তি চাপের সেই কথা মাথায় রেখে মোলিনা বলছেন, "মোহনবাগানের কোচ হওয়া সবসময়ই একটা বড় দায়িত্ব। কারণ, সবাই জানেন, মোহনবাগানের কোচ হওয়ার মানে কী এবং কতটা চাপ নিতে হয়। গত মরশুমে শিল্ড চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর, কিছুই সহজ ছিল না। পরপর শিল্ড জেতার পর বাড়তি চাপ ছিল। আমি আমার খেলোয়াড়দেরও বলেছিলাম এই বছরটা খুব কঠিন হতে চলেছে, কারণ, তোমরা চ্যাম্পিয়ন। সবাই তোমাদের হারানোর চেষ্টা করবে। তাই তোমাদের আরও শক্তিশালী হতে হবে এবং সবাইকে প্রমাণ দিতে হবে যে তোমরা সত্যিই চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড়। কারণ, জয়ী হওয়া কঠিন। কিন্তু জিতে চলা, বারবার জেতা এবং সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা আরও কঠিন।" তাই 24 ঘণ্টা পরেও কলকাতার আকাশে সবুজ-মেরুন সূর্য এবং বাতাসে সবুজ-মেরুন রং।

