ওড়িশা 'বধে' লিগ শিল্ডই লক্ষ্য ম্যাকলারেনের, সবুজ-মেরুনের সেলিব্রশন কীভাবে ?
সমর্থকরা এবার ডার্বি দেখার সুযোগ পাননি। রবিতে লিগ শিল্ড জিতে ফ্যানদের আনন্দ দিতে চাই। রাতে ইতিহাস তৈরি করতে পারব, বলছেন সবুজ-মেরুনের সর্বোচ্চ গোলদাতা ম্যাকলারেন।

Published : February 23, 2025 at 5:06 PM IST
কলকাতা, 23 ফেব্রুয়ারি: গোল করার ব্যক্তিগত কোনও টার্গেট নেই জেমি ম্যাকলারেনের। আইএসএলে তাই সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে তিনি থাকলেন কি না, তা নিয়ে বাড়তি ভাবনাও নেই। দলের জয়ই আসল। স্কোরার কে তার দিকে তাই নজর দেন না। আসলে দলে একাধিক স্কোরার থাকায় তাঁর ওপর থেকে চাপ অনেকটাই কমেছে। গোল করার ক্ষেত্রে ডিফেন্ডারদের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন তিনি ।
মেলবোর্ন সিটিতে দীর্ঘদিন খেলেছেন। মিডফিল্ডারদের গোল করতে দেখেছেন। কিন্তু এইভাবে ডিফেন্ডারদের নিয়মিত গোল করতে দেখেননি। প্রসঙ্গত, মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ডিফেন্ডাররা চলতি আইএসএলে এখনও পর্যন্ত মোট 14টি গোল করেছেন। যা অন্য কোনও দলের ডিফেন্ডাররা করে দেখাতে পারেননি। মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের দাদাগিরির অন্যতম কারণ 'স্কোরহ্যাপি' ডিফেন্ডাররা। যাদের গোল সবুজ-মেরুনকে কঠিন ম্যাচে বা খারাপ দিনে উতরে দিয়েছে। জয় নিয়ে এসে দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ান স্ট্রাইকার ম্যাকলারেন প্রথম মরশুমে আইএসএলে খেলতে এসে সবুজ-মেরুন জার্সিতে 10 গোল করে ফেলেছেন। শেষ দুই ম্যাচে 4 গোল। লিগ শিল্ড জয়ের জন্য রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় জেমি ম্যাকলারেনের দিকে তাকিয়ে বাগান জনতা।
অস্ট্রেলিয়ান বিশ্বকাপারের শুরুটা মোটেই আশা জাগানো হয়নি। মরশুমের প্রথম টুর্নামেন্ট ডুরান্ড কাপে চোটের জন্য খেলতে পারেননি ৷ আইএসএলের দু'টো কলকাতা ডার্বিতে গোল পেলেও, তারপর বেশ কিছু ম্যাচে গোল খরায় ভুগছিলেন। সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। যার ফলে একটা সময় চাপেও পড়ে যান অজি বিশ্বকাপার। মোহনবাগানের চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচের আগের দিন যা মেনে নিতে দ্বিধা করলেন না ম্যাকলারেন। নিজের ওপর প্রশ্ন জেগেছিল? এত বড় মঞ্চে খেলে আসার পর কি মনে হয়েছিল ভুল জায়গায় এসে পড়েছেন?
জেমির স্পষ্ট জবাব, যে মুহূর্তে আমি বিমানবন্দরে পা-রাখি, বুঝে গিয়েছিলাম সঠিক জায়গায় এসেছি। এরকম অভ্যর্থনা আমি আগে কোথাও পাইনি। কোচ আমার ওপর আস্থা রাখেন। সবসময় বলতাম, মরশুমের মাঝে নয়, শেষে একজন প্লেয়ারের মূল্যায়ন করা উচিত। প্রথম দিন থেকেই বুঝে গিয়েছিলাম, ভাগ্য আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে। তবে আমি মোহনবাগান সুপার জায়ান্টে যোগ দেওয়ার পরপর কিছুটা চাপে ছিলাম। আমার এটা লুকানোর কিছু নেই। জানতাম আমার ওপর সমর্থকদের প্রচুর প্রত্যাশা রয়েছে। কারণ এর আগে অস্ট্রেলিয়ানরা এখানে এসে সফল হয়েছেন। আমি তাই ফ্লপ হতে চাইনি।"
তাঁর আরও সংযোজন, "মরশুমের শুরুতে চোট পাওয়ায় পর একটু সমস্যায় ছিলাম। কিন্তু সেটা পেরিয়ে এসেছি। কিন্তু কলকাতার মানুষরা আমাকে সমর্থন করেছেন। খারাপ সময় সবাই আমার পাশে থেকেছেন। জানতাম পরিশ্রম করলে তার ফল পাবই।"
কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় গোলটিকে সেরার তালিকায় রাখছেন অজি ফুটবলার। কারণ চার ছোঁয়ায় গোল করার কৃতিত্ব তাঁর বেশি নেই।
কোচের মতো ম্যাকলারেনও গোয়া ম্যাচ নিয়ে ভাবছিলেন না। ওড়িশাকে হারিয়েই এখন লিগ শিল্ড জেতার লক্ষ্য। ঘরের মাঠে ডার্বি দেখার সুযোগ পাননি মোহনবাগান সমর্থকরা। তাই রবিবার গোল করে দলকে জিতিয়ে ফ্যানদের উচ্ছ্বাসের অংশ হতে চান অজি বিশ্বকাপার।
বিশেষ কোনও সেলিব্রেশনের কথা কি ভেবে রেখেছেন? "প্লেয়ার হিসেবে আমরা প্রত্যেক ম্যাচ জিততে চাই। আমরা রেজাল্ট পাচ্ছি। আমাদের এখনও তিনটে ম্যাচ বাকি। আজ জিতলেও, পাঁচদিন পর মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে খেলতে হবে। তাই সেইভাবে সেলিব্রেশন হবে না। ড্রেসিংরুমে হয়তো আমরা কয়েকটা গ্যাটোরেড খাব। হয়তো হালকা সেলিব্রেশনও হবে। আমরা ঘরের মাঠে খুবই ভালো খেলছি। সমর্থকদের সামনে খেলতে ভালোবাসি ।"

