নবাগত নন, তবে বাংলার প্রথম আম্পায়ার হিসেবে আইপিএলে চন্দননগরের অভিজিৎ
আইপিএলে প্রথম বাংলার আম্পায়ার ৷ চতুর্থ আম্পায়ার থেকে পদোন্নতি হয়ে 2025 আইপিএলে অন-ফিল্ড আম্পায়ারের দায়িত্ব সামলাবেন চন্দননগরের অভিজিৎ ৷

Published : March 17, 2025 at 5:33 PM IST
কলকাতা, 17 মার্চ: চতুর্থ আম্পায়ার হিসেবে অতীতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এবার পদোন্নতি হয়ে অন-ফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে আইপিএলে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব সামলাবেন বাংলার অভিজিৎ ভট্টাচার্য। তাই আইপিএলে তাঁকে নবাগত বলতে চান না চন্দননগরের ছেলে অভিজিৎ নিজেই ৷ তবে বাংলার প্রথম আম্পায়ার হিসেবে তিনি যে ইতিহাস গড়তে চলেছেন সেটা নিশ্চিত ৷ স্বাভাবিকভাবেই খুশি অভিজিৎ।
শহর ছাড়ার আগে নানাবিধ ব্যস্ততার ফাঁকেও সোমবার অভিজিৎ কথা বললেন ইটিভি ভারতের সঙ্গে ৷ তাঁর কথায়, "আইপিএলে আম্পায়ারিং করা মানে সেরাদের বৃত্তে রয়েছি এটা বোঝা যায়। একটা তৃপ্তিও দেয়।" এবার বাংলা থেকে সুযোগ পাওয়া তাঁকে আরও চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করাল বলে মনে করেন তিনি ৷ অভিজিৎ দু'বছর আগে আইপিএলে চতুর্থ আম্পায়ার হিসেবে কাজ করার কথা জনান। সেটাও বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল তাঁর কাছে ৷ এ প্রসঙ্গে গতবছর ডব্লিউপিএলে আম্পায়ারিংয়ের কথাও উঠে আসে ৷ অভিজিৎ জানান, এবার খাতায়-কলমে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জিং ম্যাচ রয়েছে তাঁর ৷ সেই চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য তিনি তৈরি মনে হওয়ার কারণেই গুরুদায়িত্ব হয়তো দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি ৷
চতুর্থ আম্পায়ারের চেয়ার ছেড়ে এবার উইকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে ম্যাচ পরিচালনার কতটা তফাৎ ? অভিজিৎ জানান, 2023 সালে ন'টি ম্যাচে চতুর্থ আম্পায়ার ছিলেন। এবছর ছ'টি ফিল্ড আম্পায়ারিং, পাঁচটি চতুর্থ আম্পায়ারিংয়ের দায়িত্ব সামলাতে হবে তাঁকে। কথায়-কথায় প্রথম পুরুষ আম্পায়ার হিসেবে ডব্লিউপিএলের ফাইনাল ম্যাচ পরিচালনা করার কথা মনে করিয়ে দেন আইপিএলে ইতিহাস গড়তে চলা বাঙালি আম্পায়ার ৷
শেখর চৌধুরী, ভৈরব গঙ্গোপাধ্য়ায়, ফ্র্যান্সিস গোমস, অলোক ভট্টাচার্য, সুব্রত পোড়েলের মত আম্পায়াররা বাংলা থেকে টেস্ট ম্যাচ এবং একদিনের ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। তাদের উত্তরসূরি হিসেবে অভিজিৎ এবার আইপিএলের মঞ্চে। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেট লিগের ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব চন্দননগরের ছেলেকে উত্তেজিত করলেও একটা মানসিক খচখচানি রয়েছে। অভিজিতের কথায়, "আইপিএলে ম্যাচ পরিচালনা নিশ্চয়ই গর্বের। আমি আগেও বলেছি ট্র্যাডিশনাল ম্যাচ যার প্রচার বিশেষ নেই যেমন-দলীপ ট্রফি, দেওধর ট্রফি, রঞ্জি ট্রফির নকআউট ম্যাচ আমার কাছে অনেক দামি। আমি এই ম্যাচগুলোও করেছি। গতবছর দেওধর ট্রফির ম্যাচ, এবছর দলীপ ট্রফির ম্যাচ করেছি। রঞ্জি ট্রফির কোয়ার্টার ফাইনাল করেছি। চ্যাম্পিয়ন বিদর্ভের বিরুদ্ধে তামিলনাড়ুর কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ আমি করেছি। এই ম্যাচগুলো পরিচালনা কম তৃপ্তির নয়। এই অভিজ্ঞতা অবশ্যই কাজে লাগবে ৷"
বিদেশি ক্রিকেটারদের সামলানোরও যথেষ্ট অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। ইংল্যান্ড-এ দলের সঙ্গে টেস্ট এবং অস্ট্রেলিয়া যুব দলের সঙ্গে ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা সাহায্য করবে বলে মনে করেন তিনি। সেইসব ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্স যে কাজে এসেছে, তা আইপিএলে মাঠে নেমে পরিচালনার ডাকে বুঝতে পারছেন। মুম্বইয়ে আইপিএলের ওয়ার্কশপে যোগ দিতে সোমবার শহর ছেড়েছেন। এর আগে শনিবারও কলকাতা ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ করিয়েছেন চন্দননগরের ছেলে। টেস্ট পরিচালনার স্বপ্ন থাকলেও সুযোগের অপেক্ষায় বাঙালি তরুণ। নিজেকে পরিপক্ক করতে সকল ধরনের পরামর্শ খোলা মনে গ্রহণ করেন অভিজিৎ। সাইমন টাফল এবং আলিম দারের ম্যাচ পরিচালনা পছন্দের। তবে কোনও ভুল করলে থমকে যান না। এক্ষেত্রে আলিম দারের 'আরও ভালো সিদ্ধান্ত নিয়ে আগের ভুল শুধরে নেওয়ার' মন্ত্রই পাথেয় তাঁর। সবমিলিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জনপ্রিয় ক্রিকেট লিগে ম্যাচ পরিচালকের ভূমিকায় নামার প্রস্তুতি সেরে ফেলেছেন চন্দননগরের ভট্টাচার্য বাড়ির ছেলে ৷

