তালিকা থেকে নাম উধাও, নিজেকে ‘জীবিত’ প্রমাণে প্রশাসনের দরজায় ‘মৃত’ ভোটার
পূর্ব বর্ধমানের খোকন দাস৷ তিরিশ বছর ধরে ভোট দিয়ে আসছেন তিনি৷ অভিযোগ, নতুন ভোটার তালিকাযয় সেই ভোটারকে মৃত বলে উল্লেখ করা হয়েছে৷

Published : September 15, 2025 at 8:16 PM IST
পূর্বস্থলী (পূর্ব বর্ধমান), 15 সেপ্টেম্বর: উৎসবের মরসুম শেষ হলেই পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশজুড়ে SIR (বিশেষ নিবিড় সংশোধন)-এর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এরই মধ্যে এক জীবিতকে মৃত দেখিয়ে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে সমস্যায় পড়েছেন পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর স্বরডাঙা এলাকার বাসিন্দা খোকন দাস।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত 30 বছর ধরে ভোট দিয়ে আসছেন খোকন দাস। তাঁর স্ত্রী ও ছেলেরও ভোটার তালিকায় নাম আছে। হঠাৎ করে তিনি জানতে পারেন ভোটার তালিকায় তাঁর নাম বাদ গিয়েছে। কারণ, জানতে গিয়ে তিনি দেখেন তাঁকে মৃত দেখিয়ে তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। পুনরায় ভোটার তালিকায় তাঁর নাম সংযোজন করার জন্য আবেদনও করেন তিনি।

খোকন দাস বলেন, ‘‘আমি তিরিশ বছর ধরে ভোট দিয়ে আসছি। এখন দেখা যাচ্ছে ভোটার তালিকায় আমাকে মৃত বলে ঘোষণা করে সেই নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে আমি প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছি।’’
গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান পঙ্কজ দে বলেন, ‘‘খোকন দাস নামে এক ব্যক্তি আমার কাছে এসে অভিযোগ করেন যে ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তালিকায় তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে নাকি নাম কাটা হয়েছে। অথচ ভোটার তালিকায় তাঁর-স্ত্রী-ছেলে সকলের নাম আছে। এইভাবে নাম বাদ দিয়ে দেওয়া আমার চক্রান্ত বলেই মনে হচ্ছে। তাই তাঁকে নির্বাচন দফতরে লিখিত অভিযোগ জমা দিতে বলি।’’

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিহারের পর সারা দেশে এসআইআর-এর প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হবে। এদিকে এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে জেলাজুড়ে সরব হয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। পূর্বস্থলী-2 ব্লকের কালেখাঁতলা 2 নম্বর অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে রাস্তার বিভিন্ন মোড়ে ব্যানার লাগিয়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা নিয়ে প্রতিবাদ করা হয়েছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সেই প্রতিবাদ নিয়েও কটাক্ষ করেছেন বিজেপি নেতা সমর দাস৷ তিনি বলেন, ‘‘বিভিন্ন ব্যক্তিদের ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। নিরীহ মানুষদের নাম কেটে দেওয়ায় তারা কোনও প্রতিবাদ করতে পারছে না। এস আই আর নিয়ে একটা আতঙ্ক আছে তাই বর্তমান শাসক দল প্রভাব কাটিয়ে এইভাবে নাম কেটে দিচ্ছে। কেউ ভয়ে অভিযোগ করতে পারছে না।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘এই তো কালেখাঁতলা-1 গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এক ব্যক্তি তিরিশ বছর ধরে ভোট দিচ্ছেন। অথচ হঠাৎ করে তাঁর নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নাম থাকলেও তাঁর নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা আমাদের দলের উচ্চ নেতৃত্বকে জানাব।’’

