নেপালের মতো পরিস্থিতি কি বাংলা বা ভারতেও হতে পারে! উত্তরে কী বললেন শুভেন্দু
বুধবার বারাসতে দলের কর্মসূচিতে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী৷ সেখানে নেপাল ইস্যুতে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি৷ পাশাপাশি এসআইআর প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন বিরোধী দলনেতা৷

Published : September 10, 2025 at 5:49 PM IST
বারাসত (উত্তর 24 পরগনা), 10 সেপ্টেম্বর: সোমবার থেকে জ্বলছে নেপাল৷ বিক্ষোভ-ভাঙচুর থেকে অগ্নিসংযোগ, কোনও ঘটনাই কার্যত আর বাকি নেই৷ দেশের নেতানেত্রীদের প্রকাশ্য়ে মার খাওয়ার ছবিও প্রকাশ্যে এসেছে৷ মঙ্গলবারই সদলবলে দেশ ছেড়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি৷ এমন পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গ বা ভারতেও ঘটতে পারে বলে বিভিন্ন মহল থেকে দাবি করা হচ্ছে৷ বুধবার সেই প্রশ্নই করা হয় বিরোধী দলনেতাকে৷
তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, নেপালের মতো পরিস্থিতি কি পশ্চিমবঙ্গে বা ভারতে ঘটতে পারে? উত্তরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "আমাদের একটি বিদেশমন্ত্রক আছে, এমনকী মন্ত্রী নিজেও আছেন। প্রধানমন্ত্রীও আছেন৷ তাঁরা সকলেই বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তাই এই বিষয়ে কারও টিপ্পনি করার দরকার নেই।"
তিনি আরও বলেন, "ভারতে আমাদের একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো রয়েছে। এটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতন্ত্র। আমাদের শক্তিশালী প্রধানমন্ত্রী আছেন। জনপ্রিয়তার দিক থেকেও তিনি এক নম্বরে। আমাদের এস জয়শঙ্করের মতো বিদেশমন্ত্রী আছেন। সবকিছু তাঁদের উপর ছেড়ে দিন। দয়া করে প্রধানমন্ত্রীর উপর আস্থা রাখুন। আমরা অন্য দেশের উপর মন্তব্য করতে পারি না। তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (প্রাক্তন পুলিশকর্তা) লোকাল মিডিয়াতে কিছু মন্তব্য করেছেন৷ কিন্তু আমরা এই ধরনের কোনও মন্তব্য করতে পারি না৷’’
অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা SIR নিয়েও মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলনেতা৷ শুভেন্দু অধিকারীর মুখে শোনা গিয়েছে নির্বাচন কমিশনের ‘বড়’ বৈঠকের কথা৷ বুধবার উত্তর 24 পরগনার জেলা সদর বারাসতে বিজেপির কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী৷ সেখানে তাঁকে এসআইআর নিয়ে প্রশ্ন করা হয়৷ সেই সময়ই তিনি নির্বাচন কমিশনের একটি বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন৷
তিনি বলেন, "জাতীয় নির্বাচন কমিশন আজই দিল্লিতে রাজ্যগুলোর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবে। এসআইআর-এর নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে। এর পরেই বিএলও-দের কাজ শুরু হবে।" স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে যে তাহলে কি এই বৈঠকের পরই নির্বাচন কমিশনের তরফে এসআইআর নিয়ে নির্দেশিকা জারি করা হবে? সেই ইঙ্গিতই কি এদিন দিলেন বিরোধী দলনেতা!

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শেষেই বিহারে বিধানসভা নির্বাচন৷ সেই কারণে গত জুনের শেষ থেকে জুলাই মাসে ওই রাজ্যে এসআইআর সেরে ফেলেছে নির্বাচন কমিশন৷ তার জেরে সেখানে কয়েক লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে৷ এই নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে দেশজুড়ে৷ ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্ট বিহারের এসআইআর-এর ক্ষেত্রে আধার কার্ডকে নথি হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছে৷
অন্যদিকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটার কার্ডকে এসআইআর-এর নথি হিসেবে সংযুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন৷ পাশাপাশি জানিয়েছেন, ভোটার তালিকায় এই ধরনের নিবিড় সংশোধন করতে সময় লাগে 2-3 বছর৷ কয়েকমাসে তা করা সম্ভব নয়৷ তাই তিনি এসআইআর-এর বিরোধিতা থেকে সরছেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন মমতা৷ এর প্রেক্ষিতে শুভেন্দু অধিকারীর এদিনের মন্তব্যও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷

এছাড়া তিনি পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন৷ বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, "পশ্চিমবঙ্গে সবাই আক্রান্ত। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা বাংলায় এসে আক্রান্ত হয়েছেন। বিরোধী দলনেতার কনভয়ও বাদ যায়নি। হামলা চালিয়ে তাঁর গাড়িতে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টাও হয়েছে। আর পুলিশ টেবিলের তলায় ফাইল নিয়ে লুকোচ্ছে। এই ছবিও আমরা দেখেছি।"
তিনি আরও বলেন, "শুধু বিজেপির কার্যকর্তারাই নয়, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই, ইডি, এনআইএ, আয়কর দফতরের মতো সংস্থার কর্মকর্তাদের উপরেও হামলা করা হয়েছে। অথচ রাজ্যের পুলিশ অসহায়ের মতো টেবিলের নিচে আশ্রয় নেয়।"

