মুখ্যমন্ত্রীর চাপেই মুখ্যসচিব নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মানতে পারেননি, বিস্ফোরক সুকান্ত
বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতির দাবি, মনোজ পন্থ পদক্ষেপ করতে চেয়েছিলেন ৷ কিন্তু তাঁকে ব্যবস্থা নিতে দেওয়া হয়নি ৷

Published : August 13, 2025 at 5:57 PM IST
কলকাতা, 13 অগস্ট: স্যাম্পল ভোটার তালিকায় কারচুপির জন্য চারজন সরকারি আধিকারিক এবং একজন ক্যাজুয়াল ডেটা এন্ট্রি অপারেটরকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন । কিন্তু সেই নিয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থানে কমিশন সন্তুষ্ট নয় ৷ সেই কারণেই বুধবার রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে তলব করা হয় নয়াদিল্লিতে কমিশনের সদর দফতরে ৷ যদিও রাজ্যের অবস্থানের নেপথ্যে মুখ্যসচিবের কোনও দোষ দেখছেন না কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার ৷ তাঁর মতে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাপেই নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ পালন করতে পারেননি মুখ্যসচিব ৷
উল্লেখ্য, কমিশনের তরফে সাসপেন্ড করার কথা বলেও হলেও সেই বিষয়ে প্রথমে কোনও জবাব দেওয়া হয়নি রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে । তারপর যে জবাব রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে, তাতে সন্তুষ্ট নয় জাতীয় নির্বাচন কমিশন । তাই বুধবার নয়াদিল্লিতে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে হাজিরা দেওয়া নির্দেশ দেওয়া হয় কমিশনের তরফে ।
এদিন সুকান্ত মজুমদার জানান, এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চাপের জন্যই মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ করতে পারেননি । বিজেপির কাছে খবর আছে যে মনোজ পন্থ এই বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চেয়েছিলেন ৷ কিন্তু তিনি পারেননি ।
বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি বলেন, ‘‘নির্বাচনী কাজের জন্য যখন রাজ্যের সরকারি আধিকারিকদের নেওয়া হয়, তখন থেকেই তাঁরা জাতীয় নির্বাচন কমিশনের আওতায় চলে আসেন । তাঁদের উপরে তখন আর রাজ্য সরকারের অধিকার থাকে না । তাই স্বাভাবিকভাবে সেই বলেই কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন মুখ্যসচিবকে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছিলেন । কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় মুখ্যসচিব কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেননি । তাই বিজেপি মনে করছে যে আজ মুখ্যসচিবকে তলব করে জাতীয় নির্বাচন কমিশন একেবারে ঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ।’’
সুকান্ত আরও বলেন, ‘‘পাশাপাশি মুখ্যসচিবকেও বুঝতে হবে যে সাধারণ মানুষের করের টাকায় তিনি বেতন পান ৷ কারণ, বাংলার সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই । কারণ, তিনি বাইরে থেকে এসেছেন । ইউপিএসসি এবং সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী বাংলায় তাঁকে মুখ্যসচিব হিসেবে কাজ করার অধিকার দিয়েছে । তাই তাঁর সাধারণ মানুষের করের টাকায় বেতন হবে ৷ কিন্তু তিনি কথা শুনবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সেটা তো চলতে পারে না ।’’
এদিকে আরজি করের নির্যাতিতার বাবা-মায়ের ডাকা 9 অগস্ট নবান্ন অভিযানের দিন এক পুলিশ কনস্টেবলের উপর হামলার অভিযোগ ওঠে । এরপর কলকাতা পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বিজেপির এক মণ্ডল সভাপতি চন্দন গুপ্তকে গ্রেফতার করে । এই বিষয়ে সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, কলকাতা পুলিশ পুরো বিষয়টিকে অন্যভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে । 9 অগস্টের আন্দোলন বিজেপির কর্মসূচি ছিল না । ছাত্র সমাজ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল । আর বিজেপির যে কর্মী-সমর্থকরা ছিলেন, তাঁরা বিনা-পতাকায় ওইদিন আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন । তাই এখন বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের গ্রেফতার করে কলকাতা পুলিশ দেখানোর চেষ্টা করবে যে ওইদিনের আন্দোলন বিজেপি ডেকেছিল ।
এই প্রসঙ্গে অর্জুন সিং-এর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তিকে কলকাতা পুলিশ গ্রেফতারির কথা উল্লেখ করেন তিনি ৷ সুকান্ত বলেন, ‘‘পুলিশ যদি এটা প্রমাণ করার চেষ্টা করে যে ওইদিন বিজেপি নবান্ন অভিযান ডেকে ছিল, তাহলে পুলিশ তৈরি থাকুক কারণ প্রয়োজনে আগামিদিনে বিজেপি পতাকা নিয়েই নবান্ন অভিযানে নামবে ।’’
অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে যে আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয় । এই নিয়ে সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘‘কংগ্রেস আমলে আধার কার্ড প্রণয়ন করা হয়েছিল । আধার কার্ডের পেছনে বড় বড় করে লেখা থাকে যে আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ নয় । অথচ মুখ্যমন্ত্রী বাংলার মানুষকে বারবার বোকা বানানোর চেষ্টা করছেন । কিন্তু আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ হতে পারে না ৷ কারণ, স্বাধীনতার পর থেকে নাগরিকত্ব প্রমাণস্বরূপ নথি থাকা প্রয়োজন ছিল ৷ কিন্তু দূরদর্শিতার অভাবে সেটা হয়নি ৷ তাই সেই ভুল এখন সংশোধন করার সময় এসেছে ।’’
মঙ্গলবার লোকসভার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন যে সরকার ভেঙে দিয়ে সারা দেশে SIR করে আবার নির্বাচন করা হোক । এই বিষয়ে এদিন সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘‘কংগ্রেসের রাহুল গান্ধি ভূগোল ক্লাসে ঘুমোচ্ছিলেন আর এখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিহাস ক্লাসে ঘুমোচ্ছিলেন । অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তো সবে রাজনীতিতে এসেছেন ৷ তিনি ইতিহাসও ভালো করে পড়েননি । সংগ্রাম করে সবাই তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করল ৷ অথচ মধু খেতে ভাইপো চলে এল । তাই ইতিহাস না-জানলে যা হয় ।’’
সুকান্ত আরও বলেন, ‘‘2002-তে SIR হয়েছিল । তার আগে SIR হয়েছিল । তাহলে তাঁর যুক্তি অনুসারে, এর আগে যতবার এসআইআর হয়েছিল, ততবার রাজ্য বা কেন্দ্র সরকার ইস্তফা দেওয়া উচিত ছিল । উনি পাগলের প্রলাপ বকছেন । কারণ, ওই সময়েও রাজ্যের তালিকা থেকে 26 লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল ৷ তাহলে তাঁর যুক্তিমতো ওই সময় বাম সরকারকে ইস্তফা দেওয়ার দরকার ছিল ।’’

