ক্ষমা চেয়ে কল্যাণের শরণাপন্ন রাজীব, ফের অটুট দাদা-ভাইয়ের সম্পর্ক
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাটে গিয়ে রাজীব ক্ষমা চাইতেই গলল অভিমানের বরফ ৷ নির্বাচনের আগে ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে একসঙ্গে পথচলার বার্তা দিলেন তৃণমূলের দুই নেতা ৷

Published : March 9, 2025 at 7:59 PM IST
শ্রীরামপুর, 9 মার্চ: বিধানসভা ভোটের আগে শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাটে হাজির রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ দাদার কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইলেন ভাই! মান অভিমান পর্ব মিটে ফের অটুট তৃণমূলের এই 'দাদা-ভাইয়ের' সম্পর্ক ৷
অতীতে শুভেন্দু অধিকারী ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছিল কল্যাণকে । 2021 সালের বিধানসভা ভোটেও একে অপরকে আক্রমণ করতে ছাড়েননি শুভেন্দু-রাজীব-কল্যাণ। তবে ভোটের পর বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে ফের 'ঘর ওয়াপসি' হয় রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু হয় প্রবীর ঘোষালদের। তাঁদেরকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমা করলেও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে আসেননি রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ।
ফের 2026 সালের বিধানসভা ভোট আসছে । প্রবীর ঘোষালের পর রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ও শরণাপন্ন হলেন শ্রীরামপুরের সাংসাদ 'দাদা' কল্যাণের । রবিবার প্রবীর ঘোষালের সঙ্গেই শ্রীরামপুরে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফ্ল্যাটে দেখা করতে আসেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। বেশ কিছুক্ষণ দুজনের মধ্যে কথাবার্তা ও কুশল বিনিময় হয়। ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে একসঙ্গে পথচলার বার্তা শোনা যায় দাদা-ভাইয়ের মুখে ।
কল্যাণের ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "আমি দল পরিবর্তন করেছিলাম বলে দাদার অভিমান হয়েছিল । তারপর থেকে একটা দূরত্ব তৈরি হয়। আজকে যখন শ্রীরামপুরে এসেছিলাম তখন মনে হল দাদার সঙ্গে গিয়ে একটু সৌজন্য সাক্ষাৎ করি। দাদা ভাইয়ের সম্পর্কের মধ্যে ভালোবাসাও থাকবে, রাগও থাকবে, অভিমানও থাকবে ,অভিযোগও থাকবে । আজকে দেখা হয়ে খুব ভালো লাগলো । আমায় দাদা জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করলেন । আমরা একই দল করি ৷ আশা করি আগামিদিনে দাদা-ভাইয়ের সম্পর্ক অটুট থাকবে ।"
তৃণমূলের কোর কমিটিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় দু'জনেই আছেন । সেই কাজ ভালো হচ্ছে বলে জানান রাজীব । এদিকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "রাজীব দলে যোগদান করেছে অনেকদিন আগেই । দিদি ওকে কিছু কিছু দায়িত্ব দিয়েছেন । রাজীব আজকে এসেছিল আমার সঙ্গে দেখা করতে । বলল, দাদা ভুল হয়েছিল । ক্ষমা করো । 2026 সালে নির্বাচন আসছে। সবাইকে নিয়ে চলতে হবে ৷ সবাইকে নিয়েই কাজ করতে হবে। দল কাকে কী দায়িত্ব দেবে সেটা পরের ব্যাপার । আমার সঙ্গে ওর ব্যক্তিগত কোনও সমস্যা ছিল না । একটা কষ্ট ছিল-তৃণমূল থেকে কেন চলে গেল ? দলে তোমার প্রতি অবিচার হয়নি । এটাই আমার একটা অভিমানের জায়গা ছিল ।"

শ্রীরামপুরের সাংসদের কথায়, "2021 সালে নির্বাচনের ঠিক আগে দল ছেড়ে ওঁরা চলে যাওয়ায় একটা অসুবিধা অবশ্যই হয়েছিল । আমি নিজে পরিশ্রম করে সেই জায়গার রিকভারি করেছি । কিন্তু এখন ওরা ফিরে এসেছে ৷ যাঁরা ফিরে এসেছেন তাঁদের দিদি গ্রহণ করেছেন ৷ আমি কেন কিছু বলতে যাব ? আমার কাছে এসেছে সম্মান দেখিয়ে, এটাই অনেক বড় কথা । সবাই ভালো করে কাজ করুক ৷ ওরা তো আমার ছোট ভাইয়ের মতো ।"
তিনি আরও বলেন, "আমার অভিমান ছিল যে দল তোমার বিরুদ্ধে কিছু করেনি। তুমি দল থেকে সবই পেয়েছ- তবু কেন চলে গেলে ? তবে ও আমাকে সম্মান করে যেখানেই দেখা হয় প্রণাম করে । যত লোক আসে তত কাজও থাকে । তাই কাজ করতে হবে নতুন পুরনো সবাইকে নিয়ে।"

