নাম না-করে মিঠুনকে রোহিঙ্গা বললেন কুণাল
মঙ্গলবার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর তোলা রোহিঙ্গা ইস্যুর জবাব দিতে গিয়ে নাম না-করে মিঠুন চক্রবর্তীকে আক্রমণ করেন কুণাল ঘোষ ৷

Published : July 29, 2025 at 9:38 PM IST
কলকাতা, 29 জুলাই: বলতে শুরু করেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতার মন্তব্য প্রসঙ্গে ৷ নিশানা করলেন মিঠুন চক্রবর্তীকে ৷ নাম না করে মহাগুরুকে ‘মাল’ শব্দে রোহিঙ্গা বলে ইঙ্গিত করলেন তৃণমূলের রাজ্য মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ৷
সম্প্রতি রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরব হয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ৷ মঙ্গলবারই তিনি মন্তব্য করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় 2017 সালে সোশাল মিডিয়ায় রোহিঙ্গাদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন ৷ মমতাই রোহিঙ্গাদের আমন্ত্রণ করে সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছেন ৷
শুভেন্দুর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কুণালকে প্রশ্ন করতেই তিনি বলে ওঠেন, “এসব অত্যন্ত কুরুচিকর কথাবার্তা ৷ রোহিঙ্গা সম্পর্কে ন্যূনতম ধ্যানধারণা আছে ? রোহিঙ্গা বিষয়টি মায়ানমার থেকে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে ৷ রোহিঙ্গাদের সঙ্গে বাংলা কিংবা বাঙালির কোনও মিল নেই ৷ এরা আপনার পাশ দিয়ে গেলে বা পাশে বসে থাকলেই বুঝতে পারবেন, এরা বাংলার বা বাঙালি নয় ৷ এরা রোহিঙ্গা ৷’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি আবার বলছি, তাঁকে যদি রোহিঙ্গা দেখতে হয় তাহলে গরমকালে গরম টুপি পরা, মাফলার পরা, গরমকালে ফুলহাতা কালো জোব্বা পরে থাকা রহস্যজনক একটি লোক সানগ্লাস পরে নিজেকে লুকিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন ৷ ওর জামাকাপড় খুলে দেখুন ৷ ওই মালটা কিন্তু রোহিঙ্গা বেরোলেও বেরোতে পারে ৷”
শুভেন্দু এদিন দাবি করেন, 100 দিনের কাজে কংগ্রেসের থেকে বিজেপি অনেক বেশি টাকা বাংলাকে দিয়েছে ৷ এই 14 বছরে তৃণমূলের নেতারা এই টাকা আত্মসাৎ করে নিজেদের নামে বাড়ি করেছে ৷ প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য, “সম্পূর্ণ ভ্রান্ত কথা বলছেন শুভেন্দু অধিকারী ৷ কারণ, 2020 সালের নভেম্বর পর্যন্ত তিনি প্রকাশ্য সভায় কেন্দ্রের বঞ্চনার বিরুদ্ধে বক্তৃতা করেছেন ৷ তিনি তো মন্ত্রী ছিলেন ৷ তিনি সাংসদ ছিলেন ৷ তিনি বিধায়ক ছিলেন ৷ কেন্দ্রের বঞ্চনা ছিল বলেই তো তিনি বক্তৃতায় কেন্দ্রের বঞ্চনার কথা বলেছেন ৷’’
কুণাল আরও বলেন, ‘‘সংসদে বিজেপির উত্তরগুলোতেই দেখা যাচ্ছে, অন্য রাজ্যকে এত দেওয়া হয়েছে ৷ আর পশ্চিমবঙ্গের নাম তালিকাতেই নেই ৷ পশ্চিমবঙ্গকে টাকা দেওয়া হয়নি ৷ 100 দিনের টাকা দেয়নি, আবাসের টাকা দেয়নি ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্যের কোটা থেকে টাকা দিতে হচ্ছে ৷ 1 লাখ 70 হাজার কোটি টাকার বেশি বকেয়া আছে ৷ এটা কেন্দ্রের হিসাবেই বেরোচ্ছে ৷ এর থেকে তিনি বাড়তি কী বলতে চাইছেন ? শাক দিয়ে মাছ ঢাকা যায় না শুভেন্দুবাবু ৷ আপনার সরকার সংসদে উত্তর দিতে গিয়ে বলে দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গকে টাকা দেওয়া হয়নি ৷”
বিজেপির অভিযোগ, এই রাজ্যে বেআইনিভাবে পাসপোর্টও তৈরি হয়ে যাচ্ছে ৷ এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কুণাল বলেন, “এই ঘটনাই যখন গুজরাতে ঘটছে, তখন আপনাদের নজরে পড়ছে না ? ভারতের বেশ কিছু জায়গাতেই তো এমন ঘটনা ঘটেছে ৷ দুষ্টচক্র এই ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে ৷ আগেরদিন জঙ্গি ধরা পড়েছে ৷ দু’জন ধরা পড়েছে গুজরাত থেকে, দু’জন দিল্লি থেকে ৷ বিচ্ছিন্নভাবে এমন দু’একটা ঘটনা ঘটতে পারে ৷ তাহলে প্রশ্ন করা যায়, চিনা নাগরিক ভারতে ঢুকল কীভাবে ? জল, স্থল এবং অন্তরীক্ষ, তিনটি সীমানাই কেন্দ্রের পাহারা দেওয়ার কথা ৷”
এই মুহূর্তে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষী মানুষের উপর অত্যাচার ও হেনস্তার অভিযোগ উঠছে ৷ গেরুয়া শিবিরের একাংশ নাকি ভিনরাজ্যে বাঙালিদের হিন্দি ভাষায় কথা বলার পরামর্শ দিচ্ছে ৷ এই নিয়ে কুণালের বক্তব্য, “এটাই যদি যুক্তি হয়, তবে নরেন্দ্র মোদি বাংলায় এসে বাংলায় বক্তৃতা দিয়ে দেখান ৷ অমিত শাহ, জেপি নাড্ডা বাংলায় এসে বাংলায় বক্তৃতা দিয়ে দেখান ৷ একটা রাজনৈতিক দল তার সর্বভারতীয় সত্তা রাখতে গেলে সে সমস্ত ভাষাকে সমানভাবে সম্মান দেবে, সবার জনপ্রতিনিধিত্ব রাখবে ৷ এটা তো স্বাভাবিক ব্যাপার ৷”

