ETV Bharat / politics

হিন্দু হোমল্যান্ডের ইতিহাস ভোলানোর কংগ্রেসের চক্রান্ত রূপায়ন করছেন মমতা : শমীক ভট্টাচার্য

শুক্রবার সকালে ইটিভি ভারতকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে রাজ্য রাজনীতি নিয়ে একাধিক প্রশ্নের অকপট উত্তর দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ৷

EXCLUSIVE SAMIK BHATTACHARYA
হিন্দু হোমল্যান্ডের ইতিহাস ভোলানোর কংগ্রেসের চক্রান্ত রূপায়ন করছেন মমতা : শমীক ভট্টাচার্য (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : July 4, 2025 at 7:13 PM IST

13 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 4 জুলাই: রাজ্যে বিধানসভা ভোট শুরু হতে আর বাকি মাত্র আট-দশমাস ৷ এই পরিস্থিতিতে ‘অধিনায়ক’ বদল করেছে বিজেপি ৷ গতকাল, বৃহস্পতিবার সায়েন্স সিটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শমীক ভট্টাচার্যের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বিজেপির রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব ৷ তাই তিনি কী বলছেন ? বাংলায় বিজেপির রাজনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা কী হবে ? সেসবই জানতে শুক্রবার সকালে ইটিভি ভারত হাজির হয়েছিল সল্টলেকের বিএইচ ব্লকের 66 নম্বর বাড়িতে ৷

সেখানে বসেই শমীক ভট্টাচার্য ইটিভি ভারত-কে জানালেন বিজেপির হিন্দুত্বের লাইনের ব্যাখ্যা থেকে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতির বিশ্লেষণ ৷ একই সঙ্গে উল্লেখ করলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য কী কী বদল হতে পারে ৷ তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, 2026 সালে এ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে কাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রজেক্ট করতে পারে বিজেপি ? এই প্রশ্নের উত্তরও অকপটে দিয়েছেন বঙ্গ বিজেপির সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি ৷

বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর সাক্ষাৎকার (ইটিভি ভারত)

নিচে দেওয়া হল শমীক ভট্টাচার্যের সেই সাক্ষাৎকার -

প্রশ্ন - রাজ্য সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দিন, কেমন লাগছে ?

উত্তর - 42 বছর ধরে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে কাজ করছি ৷ এটাই আমার একমাত্র পরিচয় ৷ ফলে এগুলো আমার কাছে ক্লান্তিও নয় ৷ আর আমার কাছে নতুন কিছুও নয় ৷ আমি মনে করি না, একটা পদে থেকেও একটা মানুষ রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক হতে পারে ৷ 2014 সাল থেকে আমি কোনও সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলাম না ৷ মুখপাত্র ছিলাম ৷ তার পরও তো ব্যস্ততা ছিল ৷

প্রতিদিনই বাড়িতে সকালে লোক থাকত৷ মানুষের কাজের সঙ্গে আছি ৷ রাজনীতি, এটা তো মানুষ সঙ্গে নিয়ে কাজ করা, তাঁদের ছোট ছোট কথা, তাঁদের ছোট ছোট জীবন-যন্ত্রণা, তাঁদের স্কুলে ভর্তি থেকে শুরু করে হাসপাতালের অ্যাডমিশন, কারও মেয়ের বিয়ে, এগুলো সমস্ত আমাদের করে থাকতে হয় ৷ এগুলো তো চলে সবসময় ৷ এটা খুব একটা আমার কাছে ক্লান্তিকর নয় ৷

প্রশ্ন - গতকাল (বৃহস্পতিবার) আপনার ভাষণে ফান্ডমেন্টাল পলিটিক্সের কথা ছিল না ৷ বরং ইনক্লুসিভ পলিটক্সের কথা ছিল ৷ আপনি কি মনে করেন, বাংলায় আবেগ কিংবা ধর্মের সুড়সুড়ি দিয়ে ভোট পাওয়া যায় না ?

উত্তর - প্রথম কথা হচ্ছে, বিজেপিকে মানুষ যেভাবে উপস্থাপিত করে, আর বিজেপির রাজনীতিকে সংবাদমাধ্যমও যেভাবে বিশ্লেষণ করে, সেটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ৷ কোনও হিন্দু কোনও সময় মৌলবাদী হতে পারে না ৷ কোনও হিন্দু সমাজ কোনও মিলিট্যান্ট হিন্দুইজমকে (জঙ্গি হিন্দুত্ববাদ) নিতে পারবে না ৷

হিন্দুত্ব কোনও বাদ নয় ৷ ইট ইজ আ ওয়ে অফ লাইফ (এটা জীবনের একটি ধারা) ৷ বহুত্ববাদই হিন্দুত্বের সবচেয়ে বড় শক্তি ৷ যত মত, তত পথই হচ্ছে হিন্দুত্ব ৷ শৃণ্বন্তু বিশ্বে অমৃতস্য পুত্রা (শোনো, হে বিশ্বের অমৃতের পুত্ররা), এই কথাটা আর কেউ বলেনি৷ এটাই হিন্দুত্ব ৷ পৃথিবীতে এই কথা আর কেউ বলেনি ৷

আমাদের দেশে শঙ্করাচার্য বলতেন, ব্রহ্ম সত্যং, জগন্মিথ্যাং জীব ব্রহ্মৈব নাপর (ব্রহ্মই একমাত্র সত্য, জগৎ মিথ্যা এবং জীব ও ব্রহ্ম অর্থাৎ জীবাত্ম ও পরমাত্মা অভিন্ন) ৷ অবাং-মনুস-গোচর (ভাষায় প্রকাশ করা যায় না বা চিন্তা করা যায় না) বলেছেন ব্রহ্মকে ৷ আবার আরেকজন বলেছেন, অন্নং ব্রহ্ম, অন্নং বহু কুর্বিত, অন্নটাই ব্রহ্ম ৷

সম্পূর্ণ দু’টো পথ ৷ কেউ তলোয়ার তোলেনি ৷ রক্তপাত হয়নি ৷ বাড়ি ভাঙচুর হয়নি ৷ কারও পুঁথিপত্রে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়নি ৷ এটাই হচ্ছে সমাজ ৷ কিন্তু সমাজকে ধরে রাখার জন্য একটা শক্তিশালী ভূখণ্ড প্রয়োজন ৷ আজকে বাংলাদেশে ইন্দিরা গান্ধি কালচালার অ্যাসোসিয়েশনের বইপত্র জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে ৷ ওর মধ্যে ব্রাত্য বসুর থিয়েটারেরও বই আছে ৷ আবুল বাশার, আমার অত্যন্ত প্রিয়জন, যিনি এখন মমতাদেবীর মঞ্চের পাশে বসে বিচার ব্যবস্থাকে আক্রমণ করছেন, তাঁর বইও আছে ৷ কিন্তু উনি গেলে ছাইয়ের মধ্যে খুঁজে পাবেন না ৷

এই পরিস্থিতি যাতে পশ্চিমবঙ্গে তৈরি না হয়, সেটাই আমাদের লোকেরা বলছেন ৷ দু’টো দিক আছে ৷ একটা হচ্ছে, আপনি আপনার মতো করে ধর্মাচরণ করুন ৷ আরেকটা দিক হচ্ছে, ইসলামিক ফ্যানাটিক ফ্যাসিজম, যেটার কাছে এই সরকার আত্মসমর্পণ করেছে ৷ আমরা তার বিরোধিতা করছি ৷ এবং আমরা তার বিরোধিতা করব ৷

BJP
বিজেপি (ফাইল ছবি)

পশ্চিমবঙ্গ তৈরি হয়েছিল, হিন্দু বাঙালির হোমল্যান্ড হিসেবে ৷ অবস্থানগত বিপরীত স্থানে থেকেও জ্যোতি বসু-রতনলাল ব্রহ্ম 1947 সালের 20 জুন প্রস্তাবের পক্ষে রায় দেন ৷ মেঘনাদ সাহার মতো বিশাল ব্যক্তিত্ব, রমেশচন্দ্র মজুমদারের মতো ঐতিহাসিক, তাঁরা কিন্তু শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, এনসি চ্যাটার্জির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন ৷ সবাই এক জায়গায় এসেছিলেন ৷ কংগ্রেসের সমস্ত হিন্দু বিধায়করা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন ৷

ইতিহাস বা এই প্রাসঙ্গিকতাটাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাঙতে চাইছেন ৷ আসলে এটা দিল্লির কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের চক্রান্ত ৷ যাঁরা বহিরাগত বলছেন বহিরাগত, বিজেপির বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখছেন, বাংলাকে সবদিক থেকে ধ্বংস করেছে কে, সে মাশুল সমীকরণ নীতি হোক বা তার আগের কংগ্রেসের অবস্থানই হোক ৷ কংগ্রেসের সরকার চিরকাল বাংলা বিরোধী ছিল ৷ তারই গর্ভ থেকে জন্ম নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস ৷

যার জন্য বাংলার হৃতগৌরব আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে ৷ ব্রিটিশ শাসনের আগে শিল্পবাণিজ্যে বাংলার অবদান ছিল 40 শতাংশ ৷ ব্রিটিশদের সময় আমাদের অবদান ছিল 30 শতাংশ ৷ ব্রিটিশ যখন চলে যাচ্ছে, তখন বাংলার অবদান ছিল 27 শতাংশ ৷ আজ এসে দাঁড়িয়েছে আট শতাংশে ৷ কৃষিজাত পণ্যে আমরা 3.3 ৷ যে বর্ধমান জেলাকে একসময় শস্যগোলা বলা হতো, যার কারণে ব্রিটিশরা যে তিনটে জেলা নিয়েছিল, তার একটা মেদিনীপুর (ভূ প্রকৃতিগত অবস্থান), বর্ধমান (জমির ঊর্বরতা) ও সিলেট (বন্দরের জন্য) ৷ সেখানে অনেকরকম আন্দোলন তৈরি হয় ৷

SAMIK BHATTACHARYA
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (ফাইল ছবি)

সেই জায়গায় আজ কৃষির উৎপাদন কমছে ৷ আজ চাল উৎপাদনে বাংলা ছিল এক নম্বরে, আজ তিন নম্বরে৷ সার্বিকভাবে পশ্চিমবঙ্গে একটা আর্থসামাজিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে ৷ এই যে চারিদিকে বাড়ি তৈরি হচ্ছে, কার্যত প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ হচ্ছে ৷ ছ’ফুট রাস্তার উপরে আটতলা বাড়ি তৈরি হচ্ছে ৷ ভারতে যে ক‘টা ব়্যামসার ট্যাগ প্রাপ্ত সাইট আছে, তার মধ্যে দু’টো আছে পশ্চিমবঙ্গে ৷ একটা সুন্দরবন, দ্বিতীয় হচ্ছে ইস্ট ক্যালকাটা ওয়েটল্যান্ড ৷ সেই ইস্ট ক্যালকাটা ওয়েটল্যান্ডের উপর আবাসনের পর আবাসন তৈরি হচ্ছে ৷ এই সরকার তো প্রকৃতিকে ধ্বংস করছে ৷

প্রশ্ন - বাম আমল থেকে তৃণমূল আমল, রাজ্যের ঘাড়ে ঋণের বোঝা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে ৷ এই বিষয়টি কি আপনারা প্রচারের হাতিয়ার করবেন ছাব্বিশের আগে ?

উত্তর - মানুষ এগুলো বোঝেন৷ মানুষ সচেতন ৷ আমরা তো বারবার বলছি ৷ দানখয়রাতির একটা রাজনীতি চলছে ৷ একটা সামাজিক কল্যাণের ক্ষেত্রে যাঁদের শ্রম দেওয়ার ক্ষমতা নেই, তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই সরকারের কাজ৷ ইউরোপের দিকে তাকালে দেখবেন, সেখানে করকাঠামো অত্যন্ত বেশি ৷ কোনও কোনও দেশে 52 শতাংশ পর্যন্ত আয়কর দিতে হয় ৷ কিন্তু তাঁদের সামাজিক সুরক্ষা ততটাই বেশি, যেটা ভারতে বসে কল্পনা করা যায় না ৷ জনসংখ্যা কম ৷ আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের অন্য কিছু ব্যবস্থা আছে ৷ তারা পারছে ৷

কিন্তু ভারতের মতো দেশ, যেখানে আমরা জনসংখ্যাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি ৷ এখনও পারছি না ৷ সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আমাদের অর্থনৈতিক চিন্তাভাবনার সঙ্গে অন্যদের পার্থক্য আছে ৷

BJP
বিজেপি (ফাইল ছবি)

কিন্তু সমস্ত কিছুর একটা সীমা থাকে ৷ এই যে দেখেন না, কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গকে কিছু কিছু প্রথম হওয়ার পুরস্কার দেয় ৷ যেমন এমএসএমই-তে প্রথম ৷ এমএসএমই পরিভাষাই যদি আপনি বদলে দেন ৷ গুমটিতে সিগারেট-বিড়ি বিক্রি করছে, তাকেও ইনস্পেক্টর পাঠিয়ে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে ৷ তেলেভাজার দোকান তারও লিস্টে নাম উঠে গিয়েছে ৷ এমএসএমই-র সংজ্ঞাটাই বদলে দিয়েছে ৷ সেজন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে যে রিপোর্ট, তারা তো তালিকা দেখে বলছে এক নম্বর ৷ কিন্তু ভিতরটা তো অন্তঃসারশূন্য ৷

বলছে, কৃষিতে আমরা তিনগুন আয় বাড়িয়ে দিয়েছি ৷ কৃষিতে উৎপাদন কমে গিয়েছে ৷ তিনগুন আয় কী করে বাড়বে ৷ বলছে, রাজ্যের জিডিপি আমাদের জিডিপির থেকে বেশি৷ কোথায় ? আরবান সোসাইটিতে মানুষ তো পড়াশোনা করে ৷ মানুষকে মুর্খ মনে করার তো কোনও কারণ নেই ৷

BJP
বিজেপি (ফাইল ছবি)

কিছু তাঁবেদার আছেন, জেনেও হাততালি দেন ৷ নিজেরাও আবার হাসেন ৷ তার পরে আমাদের বলেন কিছু করার নেই ৷ মানুষকে অশিক্ষিত মনে করার কোনও কারণ নেই ৷

প্রশ্ন - ছাব্বিশের ভোটে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীর মুখ কে হতে পারেন ?

উত্তর - বাছবে তো মানুষ৷ মানুষ ভোট দিয়ে এই সরকারকে বিসর্জন দেবে ৷ বিজেপি ক্ষমতায় আসবে ৷ তার পর যাঁরা নির্বাচিত হয়ে আসবেন, তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করে বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী ঠিক করবে ৷ বিজেপি আগে থেকে কাউকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ করে নির্বাচনে যায় না ৷ এটাই আমাদের নীতি ৷

প্রশ্ন - নরেন্দ্র মোদিকে তো প্রধানমন্ত্রী করার জন্য মুখ করা হয়েছিল !

উত্তর - পার্টির ভোট কৌশল কখন কী হবে, সেটা তো কোনও স্টুডিয়োর ফ্লোরে ঠিক করা যাবে না ৷ সেটা পার্টি ঠিক করবে ৷ নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অন্য কারও তুলনা করা যায় না ৷ নরেন্দ্র মোদিকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ করা হয়েছিল কেন ? কারণ, তিনি একটা মডেল দেখাতে পেরেছিলেন ৷ ভাইব্রেন্ট গুজরাত ৷ মানুষ দেখেছিল ৷

গুজরাতের এত সমালোচনা করা হয় ৷ একবার দেখা উচিত সাক্ষরিত মউ-এর কত শতাংশ বাস্তবায়িত হয় ৷ আমাদের কুলিদের রাজ্য হয়ে গিয়েছে ৷ হয় আইটি কুলি ৷ না হলে অন্য রাজ্যে ধান কাটার জন্য পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে যাচ্ছে ৷ আর রাজমিস্ত্রি ৷ এটাই হচ্ছে এখন পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র পরিচিতি ৷ আপনি যদি দিল্লি-মুম্বই-নয়ডা-চেন্নাই যান, দেখতে পাবেন হোটেলের ওয়েটার থেকে কর্মী, সবই বাঙালি ৷ এটা হচ্ছে এই মুহূর্তে বাঙালির পরিচয় ৷ আগে আমলাতন্ত্রে পরিচিতি ছিল ৷

SAMIK BHATTACHARYA
একনজরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর বক্তব্য (ইটিভি ভারত)

আগে চিত্তরঞ্জন পার্কে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের বাড়িগুলি দেখুন ৷ সে বাড়ি প্রোমোটিং হয়ে যাচ্ছে, ছেলে-মেয়েরা বিদেশ চলে যাচ্ছে ৷ এখানে ক্লাস টুয়েলভের পরই সামান্য সচ্ছ্বলতা থাকলেই বাবা-মা চাইছেন ছেলে-মেয়ে অন্য রাজ্যে চলে যাক ৷ তাঁরা নিজেরাও যেতে চাইছেন ৷

বিধাননগর তো বৃদ্ধাশ্রমে পরিণত হয়েছে ৷ পশ্চিমবঙ্গ এখন কার্যত শিক্ষিত পরিবারদের বৃদ্ধাশ্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে ৷ বিধাননগরে কোনও বাড়িতে কাউকে পাবেন না ৷ যে জীবনে বিরাট কিছু করতে পারেনি ৷ সেই দেখবেন নয়ডায় ভালো কিছু করছে ৷ বিদেশে চলে গিয়েছে ৷ একটা প্রজন্ম চলে গিয়েছে ৷

এখান থেকে রেশম পাঠাতো, বদলে পেত সোনা, তার জন্যই তো সোনার বাংলা নাম হয়েছিল ৷ যে রাজ্যের একটা জেলাকে লুঠ করে ব্রিটিশরা তাদের শিল্প বিপ্লব করেছে ৷ ব্রিটিশরা আসার আগে মুর্শিদাবাদ শিল্পবাণিজ্যে অবদানের 40 শতাংশের মধ্যে 30 শতাংশ করত ৷

আমাদের জল আছে, ভূপ্রকৃতিগত অ্যাডভান্টেজ আছে, টাকা আছে, মেধা আছে, জমি আছে ৷ উত্তর পূর্ব ভারতের দরজায় আমরা বসে আছি ৷ তাহলে আমাদের এই অর্থনৈতিক দুরাবস্থা কেন ?

BJP
বিজেপি (ফাইল ছবি)

আমরা সমস্ত শিল্পপতিদের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি অপেক্ষা করুন ৷ আরেকটা বছর অপেক্ষা করুন ৷ কয়েকটা মাস অপেক্ষা করুন ৷ আমরা পরিবেশ তৈরি করব ৷ বাঙালি শিল্পপতি গোয়ায় গিয়ে কারখানা গড়ছে, তারা এখানে আর আসছে না ৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করছে, অথচ সমস্ত টাকা এখান থেকে নিয়ে চলে যাচ্ছে ৷

আমরা বাঙালি-অবাঙালি লড়াই করছি, আমি নাম বলছি না, কলকাতা শহরের খুব প্রতিষ্ঠিত ও বড় শিল্পপতি, যাকে মাড়োয়ারি বলি আমরা, তাঁকে একটা বিনিয়োগের কথা বলেছিলাম ৷ তিনি বলেন, ‘দেখুন আমরা ঠিক করেছি বাংলায় আর একটা পয়সাও বিনিয়োগ করব না সরকারের পরিবর্তন না হলে’ ৷

আমরা তাঁদের কাছে অনুরোধ করব, একটু অপেক্ষা করুন ৷ সময় এসে গিয়েছে ৷ মানুষ বদলে দিচ্ছে ৷ পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন ছাড়া কোনও পথ নেই ৷ নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির অন্য কোনও পথ নেই ৷ একটা পরিচ্ছন্ন সরকার না এলে মেধার কোনও মর্যাদা নেই ৷

স্কুলশিক্ষা কার্যত উঠে গিয়েছে ৷ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসগুলো দুষ্কৃতীদের দখলে চলে গিয়েছে ৷ চিকিৎসকরা পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করছেন, দু-তিন লক্ষ টাকা নিয়ে তাঁদের কপি করতে সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে ৷ হেলথ ভিসির উপস্থিতিতে একজন ইনভিজিলেটর, তিনি এমবিবিএস, নিয়ম অনুযায়ী তিনি পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনের ইনভিজিলেটর হতে পারেন না, তিনি স্মার্টফোনে সকলকে উত্তর দেখিয়ে দিচ্ছেন ৷ এটা তো সংবাদমাধ্যমই দেখিয়েছে ৷

SAMIK BHATTACHARYA
একনজরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর বক্তব্য (ইটিভি ভারত)

এই পরিস্থিতিতে কোনও রাজ্যে বিনিয়োগ হতে পারে ! এর থেকে বাংলা-বাঙালি মুক্তি চাইছে ৷ আবার বলছি, ভারতীয় মুসলমানদের স্বার্থে এবং বাঙালি হিন্দুর অস্তিত্বরক্ষার স্বার্থে এটাই কিন্তু শেষ নির্বাচন ৷ আজকে বাংলায় কথা বললে বিভিন্ন রাজ্য থেকে বের করা হচ্ছে ৷ মুখ্যমন্ত্রী ঠিক বলছেন ৷ কোনও ভুল বলেননি ৷ অবিজেপি শাসিত রাজ্য তামিলনাড়ুতে পুলিশ পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়িতে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য হানা দিচ্ছে ৷ সেখানে কিছু লোক পাওয়া যাচ্ছে, যারা পরিচয় পত্র বারাসতে তৈরি করেছে ৷ এবার বলছে কোনও বাংলাভাষীকে রাখব না ৷ চারিদিকে যেভাবে মৌলবাদ বাড়ছে, তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ৷ তামিলনাড়ুতে রাজনীতি যাই হোক না কেন, তাদের মস্তিষ্ক তো একটু অ্য়াডভান্স, তারা বুঝতে পারছে বিপদ কোথায় ৷

আমার বাড়ির অদূরে সাহা ইস্টিটিউট অফ টেকনোলজির সঙ্গে ডিআরডিও-র যোগ রয়েছে ৷ সেখানকার পাঁচিলের পিছনে রোহিঙ্গা বসে আছে ৷ কোনও উচ্ছেদ নেই ৷ বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটের অফিসের পিছনেই অবৈধভাবে প্রবেশকারীরা বসে আছে ৷ এটা তো একটা চরম সর্বনাশের দিক ৷ আক্রমণ হলে কি মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় সেই আক্রমণের বাইরে থাকবেন ?

SAMIK BHATTACHARYA
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (ফাইল ছবি)

যে ভাষায় রাজ্যের মহিলা মুখ্যমন্ত্রীরা ধর্মান্ধ মৌলবাদীরা ডোমজুড়ের সভা থেকে আক্রমণ করেছে, এটা কি সমাজ গ্রহণ করবে ? আমরা নীতিগতভাবে কংগ্রেসের বিরোধী, ইন্দিরা গান্ধির বিরোধী ৷ কিন্তু ইন্দিরা গান্ধি আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী, নেত্রী, মহিলা, ভারতীয় ৷ আমাদের দেশের একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর কুশপুত্তলিকার উপর আপনি থুতু ফেলবেন, লাথি মারবেন ! যিনি দেশটার জন্ম দিয়েছেন, তাঁর নামাঙ্কিত লাইব্রেরিতে আগুন লাগিয়ে দেবেন !

যারা নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়, তক্ষশীলা, বিক্রমশীলায় আগুন লাগিয়েছিল, যারা সিটি অফ আলেকজান্দ্রিয়ার সবচেয়ে বড় লাইব্রেরিকে জ্বালিয়ে দিয়েছিল ৷ সেই একই মানসিকতা বাংলাদেশে ইন্দিরা গান্ধি কালচালার সেন্টারকে ধ্বংস করেছে ৷ ওই একই মানসিকতা আজ হিন্দুদের বাড়ির ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের বইগুলোয় আগুন লাগিয়ে দিয়েছে ৷ এর অবসান চাই ৷

আরও পড়ুন -

  1. সংখ্যালঘু যুবকদের হাত থেকে পাথর-তলোয়ার কেড়ে বই তুলে দিতে চায় বিজেপি, বার্তা শমীকের
  2. সুকান্ত-পর্ব শেষ, বিজেপির নয়া রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য
  3. 21 জুলাই তৃণমূলের ‘শহিদ দিবসে’ উত্তরকন্যা অভিযান করবে বিজেপি, ঘোষণা শুভেন্দুর