ETV Bharat / politics

400 বস্তিতে কমিটি গঠন সিপিআইএমের, প্রোমোটারি-রাজ রোখার ডাক

পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতির কলকাতা জেলার 12 তম সম্মেলন ৷ সেখানে বস্তিবাসীদের অধিকার নিয়ে একাধিক প্রস্তাব পেশ সমিতির ৷

CPIM FORMS COMMITTEES IN SLUMS
পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতির কলকাতা জেলার 12 তম সম্মেলন ৷ (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 3, 2025 at 6:37 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 3 অগস্ট: মূলত রুটি রুজির টানে অর্থাৎ কাজের সন্ধানে বিভিন্ন জেলার প্রান্তিক স্তরের মানুষ শহরমুখী হয় ৷ ধারাবাহিক কাজের সুযোগ পেলে শহরেই মাথা গোঁজার স্থায়ী আস্তানা গড়ে তোলে তারা ৷ এভাবেই ধাপে-ধাপে শহর কলকাতায় বিভিন্ন বস্তিতে মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে অতীতে ৷ বর্তমানে কলকাতায় এমন প্রায় সাড়ে তিন হাজার বস্তি রয়েছে ৷ তার মধ্যে প্রায় 400 বস্তিতে নিজেদের সংগঠনের কমিটি তৈরি করেছে সিপিআইএমের পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতি ৷ পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতির কলকাতা জেলা সংগঠনের 12তম সম্মেলনে এই তথ্যই উঠে এসেছে ৷

সমিতির কলকাতা জেলার বিদায়ী জেলা সম্পাদক শিবেন্দু ঘোষ খসরা রিপোর্ট পেশের সময় এই তথ্য তুলে ধরেছেন ৷ তিনি বলেন, "বস্তিবাসীদের বিনামূল্যে 200 ইউনিট বিদ্যুৎ দিতে হবে রাজ্য সরকারকে ৷ বন্ধ করা যাবে না রেশন ৷ রান্নার গ্যাস-সহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের খরচও কমাতে হবে ৷"

শনিবার শিয়ালদার সূর্য সেন স্ট্রিটের কৃষ্ণপদ মেমোরিয়াল হলে বস্তি উন্নয়ন সমিতির কলকাতা জেলা কমিটির 12তম সম্মেলন অনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ৷ সমিতির রাজ্য সভাপতি অশোক ভট্টাচার্য সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ৷ শুরুতেই সম্পাদকীয় প্রতিবেদন পেশ করেন শিবেন্দু ঘোষ ৷ ছোট মাঝারি এবং বৃহৎ শিল্পকে কেন্দ্র করে কীভাবে শহর কলকাতা ও বৃহত্তর কলকাতা গড়ে উঠেছিল সেই ইতিহাস ব্যাখ্যা করেন ৷ রাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিকাঠামো ও বস্তির চিত্র ব্যাখ্যা করে রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি ৷

অশোক ভট্টাচার্য বলেন, "নগরোন্নয়নের কারণেই শহর কলকাতায় বস্তি গড়ে ওঠে ৷ একসময় দেশের রাজধানীতে কাজের খোঁজে গ্রামের মানুষ শহরে এসে বসতি স্থাপন করত ৷ বর্তমানে বিশ্বের 54 শতাংশ মানুষ শহরে বসবাস করে ৷ সেই শহরবাসীদের মধ্যে 100 কোটিরও বেশি মানুষ বস্তিতে বাস করে ৷ নগরায়ন ও শিল্পায়নের হাত ধরে উৎপাদন ভিত্তিক শিল্পে যুক্ত হয়ে কলকারখানার শ্রমিকরা বসতি তৈরি করেন ৷ আজকের বৃহত্তর কলকাতাও এভাবেই গড়ে উঠেছিল ৷"

তিনি দাবি করেন, "বামফ্রন্ট আমলে বস্তিবাসী মানুষ নিরাপত্তা পেয়েছিল ৷ বামফ্রন্ট সরকারি ঠিকা টেনেন্সি আইনে পরিবর্তনে এনে গরিবের মাথায় ছাদ ও তাদের জীবন-জীবিকার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন ৷ কিন্তু, আজ বস্তিবাসীদের অবস্থা বেহাল ৷ রুটি, রুজি তো বটেই, মাথার ছাদ রক্ষা করা দায় হয়ে পড়েছে ৷ সর্বত্র এখন প্রোমোটার রাজ চলছে ৷ এই মুহূর্তে বস্তিবাসীদের কাছে পৌঁছানো এবং তাঁদের সমস্যা সমাধানের জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার ৷"

পশ্চিমবঙ্গ বস্তি উন্নয়ন সমিতির কলকাতা জেলা কমিটির বিদায়ী জেলা সম্পাদক শিবেন্দু ঘোষ বলেন, "স্থায়ী বাসস্থানের দাবিতে এবং বিনামূল্যে বিদ্যুৎ-সহ রেশনের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় পরিষেবা চালু রাখার বার্তা নিয়ে বিভিন্ন বস্তিতে পৌঁছেছিলাম আমরা ৷ খোঁজখবর নিয়ে যেটা জানতে পেরেছি, তাঁদের জীবন আজ বিপন্ন ৷ যে কলকারখানা ও শিল্পনগরীতে কাজের সন্ধানে গ্রামের মানুষ কলকাতায় এসে বাসস্থান গড়ে তুলেছিল, তাঁদের হাতে আজ কাজ নেই ৷ যে যেমন পারছেন কাজ করছেন ৷ কিন্তু, ন্যূনতম মজুরি পাচ্ছেন না ৷ এই পরিস্থিতিতে বস্তিবাসীদের স্বার্থে এবং সুবিধার্থে নানান রকম দাবি ও আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য ধারাবাহিক প্রচার কর্মসূচি আমরা চালিয়ে গিয়েছি ৷ তাতে যেমন চারশোর বেশি বস্তিতে সংগঠন গড়ে তুলতে সফল হয়েছি ৷ তেমনি উঠে এসেছে নেতৃত্ব ৷" এরকম পরিস্থিতিতে স্থায়ী বাসস্থান, বিনামূল্যে বিদ্যুৎ ও সামাজিক প্রকল্পে ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে শহরের বাকি বস্তিতে পৌঁছানোর টার্গেট নিয়েছে সিপিআইএম।