BLO তালিকায় 150 তৃণমূল অনুগামী! কমিশনে অভিযোগ বিজেপির
মালদায় এই অভিযোগ উঠেছে৷ অভিযোগ করেছে বিজেপি৷ এই নিয়ে বিজেপিকে পালটা কটাক্ষ করেছে তৃণমূল৷

Published : September 10, 2025 at 2:44 PM IST
মালদা, 10 সেপ্টেম্বর: বিএলও হিসাবে নিজেদের অনুগতদের নিয়োগ করে নির্বাচনে জেতার চেষ্টা করছে তৃণমূল৷ মালদায় এই অভিযোগ তুলেছে বিজেপি৷ এই নিয়ে দলের তরফে জেলা নির্বাচনী আধিকারিক ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনে ইতিমধ্যেই নালিশ জানিয়েছে তারা৷ যদিও বিজেপির এই অভিযোগ হেলায় উড়িয়ে দিয়ে তৃণমূলের কটাক্ষ, বিজেপি দলের নাম পালটে ফেলে অভিযোগকারী পার্টি হওয়া উচিত৷
বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “আমরা বিএলও তালিকা খতিয়ে দেখেছি, সেখানে অনেক সহকারী শিক্ষককে নিয়োগ করা হয়েছে৷ ফন্দি করে এর মধ্যে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ শুধু তাঁরাই নয়, নাম ঢোকানো হয়েছে চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক, পার্শ্বশিক্ষকদের নামও৷ এদের সরকার নয়, রাজ্যের শাসকদল পরিচালনা করে৷’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমরা সেই নামগুলি চিহ্নিত করেছি৷ দক্ষিণ মালদায় এমন 51 জনের নাম পাওয়া গিয়েছে৷ উত্তর মালদায় মিলেছে এমন 99 জনের নাম৷ এই নামগুলি আমাদের সন্দেহজনক মনে হয়েছে৷ সেই নামগুলির তালিকা দিয়ে আমরা ইতিমধ্যে রাজ্য নির্বাচন কমিশন ও জেলা নির্বাচনী আধিকারিককে ই-মেইল মারফৎ নালিশ জানিয়েছি৷ এঁরা সবাই সরকারি দলের মদতপুষ্ট বিএলও৷ পরবর্তী পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনই ঠিক করবে৷”
বিজেপির ওই নেতার অভিযোগ, 15 বছর ধরে সারা পশ্চিমবঙ্গ ঘোটালার উপরেই রয়েছে৷ এখানে একদিক ভালো, আরেকদিক খারাপ, এটা ভাবা যায় না৷ অনেক সময় দেখা যায় বাড়ির পুরনো চৌবাচ্চার একদিক দিয়ে জল চোঁয়াচ্ছে৷ সেখানে সিমেন্ট দিলে আরেকদিক দিয়ে জল চোঁয়াতে শুরু করে৷ পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকারের অবস্থাও ঠিক তেমনই৷ এখানে কোনও প্রশাসন নেই৷
তিনি বলেন, ‘‘একটি দল আর প্রশাসন এখানে সমার্থক হয়ে গিয়েছে৷ সেই কারণেই সবদিকে একই রকম ঘোটালা দেখা যাচ্ছে৷ আমাদের কাজ নির্বাচন কমিশনকে বারবার সবকিছু জানিয়ে আসছি৷ নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিচ্ছে৷ যদি ব্যবস্থা না-নেয়, তবে আবার জানাব৷ নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিক পদ৷ রাজনৈতিকভাবে তাদের কিছু বলা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়৷”

অজয় গঙ্গোপাধ্যায়ের দাবি, রাজ্যের শাসকদল 15 বছর ধরে এভাবেই ক্ষমতা দখল করে রেখেছে৷ তারা যেন আরও 15 বছর ক্ষমতা দখল করে রাখতে পারে, তার জন্যই এই কৌশল নিয়েছে৷ তারা সমস্ত জায়গায় দলের অনুগতদের ঢুকিয়ে দিচ্ছে৷ 34 বছরের বাম শাসনকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এই নিয়ে আন্দোলন করেছিলেন৷ কিন্তু নিজের আমলে তিনি এসব আরও কিছুটা বাড়িয়ে নিয়েছেন৷ এভাবে তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন, তিনি একজন বড় বামপন্থী৷
যদিও বিজেপির অভিযোগ ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের ইংরেজবাজার শহর সভাপতি শুভদীপ সান্যাল৷ তিনি বলেন, “বিজেপির নাম পরিবর্তন করে অভিযোগকারী দল করা উচিত৷ ওরা সবকিছুতেই অভিযোগ আর দোষ-ত্রুটি খুঁজে বেড়াচ্ছে৷ বিএলও প্রসঙ্গে ওঁরা যা বলছেন, তাতে আমার প্রশ্ন, বিএলও কারা হবেন তা কি তৃণমূল ঠিক করে? সেটি একটি সরকারি প্রক্রিয়া৷’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের গাইড লাইন মেনে প্রশাসনই বিএলওদের নামের তালিকা তৈরি করে৷ এর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই৷ এই নিয়ে কোনও ধারণা নেই বলেই তাঁরা এসব কথা বলছেন৷ এই বিজেপি তো দুর্গাপুজোর অনুদানের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়েছে! তাদের অভিযোগ এই রাজ্যের মানুষ শুনবে না৷ অভিযোগ করেও কোনও লাভ নেই৷ কাজের মধ্যে দিয়েই সবকিছু প্রমাণিত হবে৷ 2026 সালের নির্বাচনে তৃণমূল ফের ক্ষমতায় আসবে৷ চতুর্থবারের জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই বসবেন৷”

উল্লেখ্য, এই ইস্যুতেও রাজ্যস্তরে আগেই সরব হয়েছে বিজেপি৷ সম্প্রতি কলকাতা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে গিয়ে বিএলও নিযুক্তি নিয়ে অভিযোগ জানিয়ে এসেছে বিজেপি৷ দলের নেতা শিশির বাজোরিয়ার দাবি, মোট বিএলও-র 35 থেকে 40 শতাংশ অস্থায়ী কর্মী৷ কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ আছে স্থায়ী সরকারি কর্মীদেরই বিএলও হিসেবে নিযুক্ত করতে হবে৷ কিন্তু এই রাজ্যে এই নিয়ম মানা হচ্ছে না৷
তিনি সেদিন আরও জানান, কোথাও স্থায়ী সরকারি কর্মী না-পাওয়া গেলে তখনই অস্থায়ীদের বিএলও হিসেবে নিযুক্ত করার কথা কমিশনের নির্দেশিকায় বলা আছে৷ আইনের এই ফাঁককে ব্যবহার করে তৃণমূলের লোকেদের এই বিএলও হিসেবে নিযুক্ত করা হচ্ছে৷ সেদিন কমিশনের কাছে একটি জেলার সরকারি কর্মচারীদের নাম ও ফোন নম্বর জমা দিয়েছিল বিজেপি৷

