ভোট চুরিতে সমান দিদি-মোদি, রাহুলের লেজুড় ধরা ছাড়া উপায় নেই মমতার: অধীর
এসআইআর ও ভোট চুরি প্রসঙ্গে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসকে একযোগে নিশানা করলেন অধীররঞ্জন চৌধুরী ৷

Published : August 13, 2025 at 8:29 PM IST
কলকাতা, 13 অগস্ট: এসআইআর নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতায় দিল্লিতে কংগ্রেস ও তৃণমূলকে একজোট হতে দেখা গিয়েছে ৷ তবে এর থেকে বাংলায় আসন্ন নির্বাচনের আগে এই দুই দলের মধ্যে যে সমীকরণ তৈরি হওয়ার জল্পনা তৈরি হয়েছে, তাতে জল ঢাললেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী ৷ উলটে তিনি রাজ্যের শাসকদলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বললেন যে, তৃণমূলকে বরাবরই কংগ্রেসের লেজুড় হয়ে থাকতে হবে ৷ ভোট চুরি প্রসঙ্গে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসকে এদিন এক আসনে বসিয়েছেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ৷ তাঁর কথায়, ভোট চুরিতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকারের মধ্যে কোনও তফাৎ নেই ৷
এসআইআর ও ভোট চুরি-সহ একাধিক ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাজ্য যুব কংগ্রেসের ডাকে মিছিলে হাঁটার পর ধর্মতলায় সভা করেন অধীররঞ্জন চৌধুরী । সেই সভায় ও পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিজেপি ও তৃণমূলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি ।
অধীরের দাবি, "নির্বাচন কমিশনকে প্রশ্ন করছি, কে ঠিক করবে যে কে নাগরিক, কে নাগরিক না ? নির্বাচন কমিশন না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ? নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলে দিদির ফোর্স নামছে । দিল্লিতে মোদির ফোর্স নামছে । এটাই প্রশ্ন, এত মিল কেন ! পঞ্চায়েত নির্বাচন লুটে নেওয়া হয় । স্থানীয় স্তরে ভোট হয় না । বিধানসভা, লোকসভায় ভোট দেব, এটাই বাংলার মানুষের ধারণা । মানুষ কী করবে যদি এই ভোটেও একই জিনিস হয় । নির্বাচনের সময় রাজ্য সরকার, মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে হচ্ছে তোমরা যা করার করে যাও । আমরা আছি । অভয় বাণী দিয়ে নির্বাচন কর্মীদের কেন পাশে থাকার কথা বলছে ।"
এসআইআর ইস্যুতে দিল্লিতে কাছাকাছি আসতে দেখা গিয়েছে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসকে ৷ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাহুল গান্ধির মধ্যে সখ্যতা কি ছাব্বিশের নির্বাচনে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে ? রাজনৈতিক মহলের এই জল্পনা উড়িয়ে অধীর বলেন, "কোন নতুন ইঙ্গিত নয়, নতুন সমীকরণ কিংবা বিকিরণ নয় । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনে হয়েছে, এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশন যা শুরু করেছে, তার বিরোধিতা করা তৃণমূলের একার পক্ষে সম্ভব নয় ৷ তাই রাহুল গান্ধির শরণাপন্ন হয়েছে । কোনও নতুন সমীকরণ বা বিকিরণ নয় । বাংলার তৃণমূল বুঝেছে, ভারতে প্রাসঙ্গিক থাকতে গেলে কংগ্রেসের লেজুড় হয়ে থাকতে হবে । কংগ্রেস তার মতো করে চলছে, তার মতো করেই চলবে । কোনও জোটের সম্ভাবনা আগামী নির্বাচনে আমার জানা নেই ।"

লোকসভা ভেঙে দেওয়া নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের বিষয়ে অধীর বলেন, "লোকসভা থেকে কোন সরকার সরবে, কোন সরকার থাকবে, সেটা ভোটের মাধ্যমে ঠিক হয় । আমাদের নীতিগতভাবে এর বিরোধিতা করছি । ভুলভাল বললে হয় না । কারচুপি দেখতে পাচ্ছি বিভিন্ন জায়গায়, তার বিরোধিতা করছে কংগ্রেস । ভোটার তালিকায় জলের মধ্যে দুধ মেশানো হয়েছে ।"
এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ প্রসঙ্গে অধীর বলেছেন,"এসআইআর ভারতে নতুন কোনও বিষয় না । এর আগেও হয়েছে । এসআইআর নিয়ে চিন্তা করছি না ৷ কিন্তু এসআইআর-এর নামে ভারতের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়ার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, আমরা সেই প্রবণতার বিরোধিতা করছি । আমরা সেটা করতে দেব না । রাহুল গান্ধির নেতৃত্বে বিপ্লব শুরু হয়েছে । ভোটের অধিকার ভোটারকে ফিরিয়ে দাও । ভারতবর্ষে প্রজাতন্ত্রের ব্যবস্থা করেছিলাম । আম্বানি আদানির ভোটের যা মূল্য, ভ্যানচালকেরও ভোটের তাই মূল্য । তাই জন্যই সারা পৃথিবীতে আমরা প্রশংসিত হই । আইসিসি কমিটি তৈরি করে ভোটের কারচুপি ধরার জন্য । ছয় মাস তদন্ত করে বোমা ফাটিয়েছেন রাহুল গান্ধি । রাহুল গান্ধির প্রশ্নে মোদি থরহরিকম্প হয়ে উঠেছে ।"
কমিশনকে একহাত নিয়ে অধীর বলেন, "নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্রে পরিণত হয়েছে বিজেপি । পুরো ডালটাই কালোয় পরিণত হয়েছে । বিজেপির জাদুকররা দেখিয়েছে, একটি ঘরে আশি জন লোক থাকতে পারে । নির্বাচন যদি প্রহসন হয়ে যায়, তাহলে গণতন্ত্র রক্ষা করা যায় না । এসআইর চালু করার আগে সরকার কী বলতে পেরেছে কে নাগরিক এবং কে নাগরিক নয় । নির্বাচন কমিশনকে সমালোচনা করলে দিল্লিতে বিজেপি এবং তৃণমূল একই সুরে কথা বলছে । পঞ্চায়েত, মিউনিসিপ্যালিটি-সহ নিচু স্তরের ভোট লুট হয় । মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনের নিচুস্তরের কর্মীদের পাশে থাকছেন, যাঁরা ইতিমধ্যেই ভুল করেছেন ।"
পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিচয় পত্র দেওয়ার কথা বলেছেন প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি ৷ তিনি বলেন, "রাজ্যের সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যের তরফে পরিচয় পত্র দেওয়া হোক । এটা আমাদের দাবি । পরিযায়ী সমস্যাকে বাঁচিয়ে রাখতে চায় তৃণমূল । একটা করে পরিচয় পত্র রাজ্য সরকার ইস্যু করলে পরিযায়ী শ্রমিকের সমস্যা বাইরের রাজ্যে সমাধান হয়ে যায় । ভোটের মুখে বাঙালিদের কথা বলে ভোট টানতে চাইছে । এতদিন বাঙালিদের জন্য কী করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার । পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে । পশ্চিমবঙ্গ সরকারও সাহায্য করছে না । দিদি কুমিরের অশ্রু ঝরিয়ে ভোট টানতে চাইছে । দান ধ্যান করে ভোটের বাজার করছে দিদি । মোদি দিদি কে বড় হিন্দু তার লড়াই শুরু হয়েছে । সরকারি টাকায় জগন্নাথ মন্দির তৈরি হয়েছে। দুয়ারে প্রসাদ করা হচ্ছে সরকারের টাকায় । মণ্ডপে মণ্ডপে টাকা কেন দেওয়া হবে ! এতদিন পুজো, ঈদ ক্রিসমাসে টাকার দরকার তো পড়েনি । আগামিকাল প্রতিটি জেলায় প্রতিবাদ হবে । 40 থেকে 50টি আসন চুরি করেছে । যদি এটা না হত তাহলে আজ কংগ্রেসের সরকার হত ।"

