নরমে-গরমে মালদা তৃণমূল নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠক অভিষেকের, হুঁশিয়ারি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে
দলীয় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আর বরদাস্ত করা হবে না ৷ মালদা জেলা তৃণমূল নেতৃত্বকে নিয়ে বৈঠকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এমনই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বলে খবর ৷

Published : August 7, 2025 at 1:57 PM IST
মালদা, 7 অগস্ট: নরমে গরমে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, অনেক হয়েছে, আর কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বরদাস্ত করা হবে না ৷ আর যদি সেই বিষ থেকেই যায়, তবে তিনিও রাফ অ্যান্ড টাফ হয়ে উঠবেন ৷ বুধবার কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটের দফতরে দলের মালদা জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে নিজের অবস্থান পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ বৈঠক থেকে যা উঠে এসেছে, তা ইটিভি ভারতের প্রকাশিত খবরেই সিলমোহর দিয়েছে ৷
গত 2 অগস্ট ইটিভি ভারতে প্রকাশিত খবরে অনুমান করা হয়েছিল, 6 অগস্টের বৈঠকে মালদা জেলায় দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়েই মূলত কথা বলবেন অভিষেক ৷ বিধানসভা নির্বাচনের মুখে তাঁর রোষেও পড়তে হতে পারেন অনেকে ৷ উল্লেখযোগ্যভাবে ওই বৈঠকে ডাকা হয়েছিল জেলা তৃণমূলের 11 জন নেতা-নেত্রীকে ৷ তাঁদের মধ্যে ছিলেন দুই মন্ত্রী তজমুল হোসেন ও সাবিনা ইয়াসমিন, বৈষ্ণবনগরের বিধায়ক চন্দনা সরকার, চাঁচলের বিধায়ক নীহাররঞ্জন ঘোষ, মানিকচকের বিধায়ক সাবিত্রী মিত্র, রতুয়ার বর্ষীয়ান বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়, মালতীপুরের বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূলের সভাপতি আবদুর রহিম বকসি, সুজাপুরের বিধায়ক আবদুল গনি, দলের শ্রমিক সংগঠনের জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ হালদার, মহিলা সংগঠনের সভানেত্রী প্রতিভা সিং, দলের জেলা চেয়ারপার্সন চৈতালী ঘোষ সরকার এবং যুব সভাপতি প্রসেনজিৎ দাস ৷

উল্লেখযোগ্যভাবে বৈঠকে ডাক পাননি রাজ্যসভার সাংসদ মৌসম নুর, ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান ও দলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী, জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ, দলের জেলা মুখপাত্র আশিস কুণ্ডু-সহ তাবড় নেতৃত্ব ৷ যাঁরা মমতা ঘনিষ্ঠ হিসাবেই পরিচিত ৷ এনিয়ে জেলা তৃণমূলের অন্দরমহলে নানাবিধ প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে ৷ তবে কি বিধানসভা নির্বাচনের আগে অভিষেকরাজ চালু হতে যাচ্ছে মালদা জেলায় ?
সূত্রের খবর, গতকালের বৈঠকে দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বকসিকে পাশে বসিয়ে অভিষেক উপস্থিত সবাইকে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, অনেক হয়েছে, আর কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তিনি বরদাস্ত করবেন না ৷ দলের কে কোথায় কী করছে, সব তাঁর জানা রয়েছে ৷ তিনি নাম না-করে এক নেত্রীর স্বামীকেও (পড়ুন, মালদা জেলা সভাধিপতির স্বামী প্রসেনজিৎ ঘোষ) হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ৷ জানিয়ে দিয়েছেন, ওই নেত্রীর স্বামী নিজের এলাকা ছেড়ে অন্য কোনও এলাকায় গেলে সেখানকার দলীয় নেতৃত্বের অনুমতি নিয়েই যেতে হবে ৷ এই নির্দেশ না-মানলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে ৷
জেলা নেতৃত্বের উদ্দেশে তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ডের বার্তা, নিজেদের মধ্যে কোনও ঝামেলায় জড়ানো যাবে না ৷ অন্তত প্রকাশ্যে তো নয়ই ৷ তাঁর সতর্কবার্তা, এসব ঝামেলার জন্যই গত বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে কোনও ভোটে এই জেলায় দলের ফল আশানুরূপ হয়নি ৷ সংবাদমাধ্যমের সামনে কোনও আলটপকা মন্তব্য করা যাবে না ৷ মানুষের সঙ্গে নেতা-নেত্রীদের ভালো ব্যবহার করতে হবে ৷ নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গেও ব্যবহার ভালো রাখতে হবে ৷
বৈঠকে অভিষেক এই জেলার নেতৃত্বের একাংশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতির অভিযোগও তুলে ধরেন ৷ সাফ জানিয়ে দেন, এসব অভিযোগ ভবিষ্যতে কারও বিরুদ্ধে উঠলে এবং সেই অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে দল ছেড়ে কথা বলবে না ৷ সবাইকে মনে রাখতে হবে, সবার আগে দল ৷ বৈঠক থেকে তিনি এই জেলায় একজন দলীয় পঞ্চায়েত সদস্যকে বহিষ্কার করার নির্দেশও দিয়েছেন ৷ ওই নেতার বিরুদ্ধে দলেরই এক কর্মীকে খুনের অভিযোগ রয়েছে ৷ তিনি বর্তমানে জেলা সংশোধনাগারে রয়েছেন ৷
এই বৈঠক নিয়ে মুখে কুলুপ সবার ৷ তৃণমূল যুবর জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ দাস জানিয়ে দিয়েছেন, বৈঠক নিয়ে বাইরে মুখ খোলা নিষেধ ৷ তবে দলের জেলা সভাপতি আবদুর রহিম বকসি জানিয়েছেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের নেতা ৷ বৈঠকে তিনি আমাদের উদ্দেশে কিছু কথা বলেছেন ৷ কিছু নির্দেশও দিয়েছেন ৷ আমরাও তাঁকে অনেক কথা বলেছি ৷ তবে আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে ৷ আশা করছি, আগামীতেও আমাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে কথা হবে ৷”
এদিকে, অভিষেকের সঙ্গে বৈঠকের পর অনেকেই আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের টিকিট নিয়ে প্রমাদ গুনছেন ৷ সূত্র বলছে, পুরনো বিধায়কদের পাঁচ বছরের কাজকর্ম খতিয়ে দেখেই আগামী ভোটের টিকিট দেওয়ার পক্ষে দলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড ৷ শুধু তাই নয়, অভিষেক চাইছেন নতুন মুখ সামনের দিকে এগিয়ে আসুক ৷ সেই হিসাবে রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায় কিংবা সুজাপুরের বিধায়ক আবদুল গনির ভোটের টিকিট পাওয়া নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে ৷ ইতিমধ্যেই এই দুই আসনে প্রার্থী হতে ময়দানে ঝাঁপ দিয়েছেন অনেকে ৷ তবে লাখ টাকার প্রশ্ন, এতেও কি এই জেলায় দলের গোষ্ঠীকোন্দল দূর হবে ? এর আগেও অভিষেক ও মমতা, দু’জন একাধিকবার জেলা নেতৃত্বকে এনিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ৷ কিন্তু তাতে যে তেমন কাজ হয়েছে, তার প্রমাণ নেই ৷ তাই এবার কী হয়, তা দেখতে উদগ্রীব দলের সাধারণ কর্মীরা ৷

