উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্রস ভোটিং: টাকার বস্তা নিয়ে নেমেছিল বিজেপি ! বিস্ফোরক অভিষেক
আম আদমি পার্টির একাংশ সাংসদের বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ৷ তৃণমূলের সব ভোট সুদর্শন রেড্ডি পেয়েছেন বলে দাবি তাঁর ৷

Published : September 10, 2025 at 6:37 PM IST
কলকাতা, 10 সেপ্টেম্বর: উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্রস ভোটিং হয়েছে, এমনই দাবি উঠেছে এনডিএ শিবির থেকে ৷ দাবি করা হচ্ছে, প্রত্যাশার থেকে 14টি ভোট বেশি পেয়েছেন নবনির্বাচিত উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণন ৷ আর এই গুঞ্জনে 'ইন্ডি' জোটে ভাঙনের তত্ত্ব আরও জোরালো হচ্ছে ৷ যে বিতর্কে একপ্রকার হাত তুলে নিলেন তৃণমূলের সর্বভারতী সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ বুধবার কলকাতায় ফিরে অভিষেক দাবি করলেন, তৃণমূল এর সঙ্গে জড়িত নয় ৷
এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে সকল সাংসদই উপস্থিত ছিলেন ৷ অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও সুদীপ বন্দোপাধ্যায় এবং সৌগত রায়ের মতো সাংসদরা ভোট দিয়েছেন ৷" উল্লেখ্য, বসিরহাটের সাংসদ হাজি নুরুলের মৃত্যুর পর, এই মুহূর্তে দুই কক্ষ মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সংখ্যা একচল্লিশ ৷ সেদিক থেকে অভিষেক দাবি করেছেন, উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাঁদের 41টি ভোটই পেয়েছেন 'ইন্ডি' জোটের প্রার্থী সুদর্শন রেড্ডি ৷
তবে, ক্রস ভোটিং আদপে হয়েছে কি না, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তৃণমূল সাংসদ ৷ তাঁর বক্তব্য, "ক্রস ভোটিংয়ের অভিযোগ উঠছে ৷ সেটা আদপে ক্রস ভোটিং, নাকি বাতিল হয়েছে ! যেহেতু সমস্ত প্রক্রিয়াটাই গোপন ব্যালটে হয়, তাই এটা বলা মুশকিল ৷ এক্ষেত্রে যেহেতু অনুমানের জায়গা রয়েছে, তাই অনেকে হয়তো এই নিয়ে নানানরকম জল্পনা করছেন ৷ তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেওয়া হয়, কয়েকটি রাজনৈতিক দল রয়েছে যারা সরাসরি বিজেপিকে সমর্থন করেছে ৷"
উদাহরণ স্বরূপ জগোনমহন রেড্ডির ওয়াইএসআরসিপি-র 11 জন সাংসদ সরাসরি এনডিএ প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়েছেন ৷ তবে, বিরোধী জোটে থেকে পিছন থেকে এনডিএ প্রার্থী রাধাকৃষ্ণনকে সমর্থনের অভিযোগে আম আদমি পার্টির একাংশ সাংসদের কথা উল্লেখ করেছেন অভিষেক ৷ তিনি বলেন, "এমন অনেকেই তো রয়েছেন, যাঁরা নামেই আম আদমি পার্টিতে আছেন ৷ তাঁরা বিজেপিতে যাওয়ার জন্য রেডি ৷"
এরপরেই বিজেপির বিরুদ্ধে টাকার বস্তা নিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ করেছেন অভিষেক ৷ তিনি বলেন, "ওরা (বিজেপি) টাকার বস্তা নিয়ে ভোট কিনতে নেমেছিল ৷ আমি গতকাল গিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে যতটুকু বুঝেছি, একজনের ভোট কিনতে প্রায় 15 থেকে 20 কোটি টাকা খরচ করেছে ৷ ফলে যারা মানুষের ভোটে জিতে জনপ্রতিনিধি হয়ে, মানুষের আবেগকে বিক্রি করতে চাইছে, তারা হয়তো বিক্রি হতে পারেন, কিন্তু মানুষ বিক্রি হয় না ৷"
এদিন অভিষেক অভিযোগ করেছেন, "আগের নির্বাচনগুলিতে বাংলায় পোলিং এজেন্ট কিনতেও কোটি-কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে ৷ মানুষের ভোট কিনতে কাউকে পাঁচ হাজার কাউকে দশ হাজার টাকা দিয়েছে ৷ কিন্তু বাংলার মানুষ ওদের টাকা নিয়ে, ওদের যোগ্য জবাব দিয়েছে ৷ বিজেপি হয়তো ভোট কেনাবেচার চেষ্টা করেছে ৷ কিন্তু, ক’টা ক্রস ভোটিং হয়েছে, আর ক’টা ভোট বাতিল হয়েছে, সেটা বলা মুশকিল ৷
এদিন নেপালের পরিস্থিতি নিয়েও মুখ খুলেছেন অভিষেক ৷ তিনি বলেন, "আমরা সবাই নেপাল নিয়ে উদ্বেগে রয়েছি ৷ গতকাল মুখ্যমন্ত্রী নিজে এই নিয়ে বিস্তারিত বলেছেন ৷ আমরা সবসময় শান্তির পক্ষে ৷ আমরা চাই নেপালের পরিস্থিতি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শান্ত হোক ৷ কোনওরকম ক্ষয়ক্ষতি আমরা চাই না ৷ সেটা যে কোনও প্রতিবেশী দেশ হোক না-কেন, বাংলাদেশ বা নেপাল ৷ যেহেতু এটা অন্য দেশের বিষয়, কেন্দ্রীয় সরকার বা বিদেশ মন্ত্রক এক্ষেত্রে যে অবস্থান নেবে, দলগতভাবে আমরা সেটাই সমর্থন করব ৷ গতকাল আমাদের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ কথা জানিয়ে দিয়েছেন ৷ এটাই দলীয় অবস্থান ৷"

