ETV Bharat / opinion

ট্রাম্পের একতরফা শুল্ক আরোপ, চিনে বড় বদলের আশায় বিশ্ব

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্ক-চাপে কাবু প্রায় সব দেশ ৷ এই আবহে চিনের তিয়ানজিনে জড়ো হচ্ছেন দক্ষিণ গোলার্ধের তাবড় রাষ্ট্রনেতারা ৷ রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের অপেক্ষায় বিশ্ব ৷

Russian President Vladimir Putin, Indian Prime Minister Narendra Modi and Chinese President Xi Jinping hold a meeting on the sidelines of the G20 summit in Osaka on June 28, 2019
জাপানের ওসাকায় জি-20 সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদির একদিকে প্রেসিডেন্ট পুতিন ও আরেকদিকে প্রেসিডেন্ট জিনপিং (ফাইল ছবি : এএফপি)
author img

By Anuradha Chenoy

Published : August 30, 2025 at 8:54 PM IST

5 Min Read
Choose ETV Bharat

নয়াদিল্লি, 30 অগস্ট: এসসিও সম্মেলনে চিনের তিয়ানজিনে 31 অগস্ট ও 1 সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা ৷ বিশ্বের নজর এই হাই-প্রোফাইল ঘটনার দিকে ৷ তিন নেতা একসঙ্গে ইউরেশিয়ান শক্তির ধারণাকে প্রতিফলিত করবেন ৷

ব্রিকস ও বহুমেরুর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাগুলি মতো বিশ্বের অন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ মঞ্চগুলিকে শক্তিশালী করবে এই বৈঠক ৷ এসসিও সম্মেলনের আয়োজক দেশ চিন এই বৈঠককে সফল করার জন্য নিরন্তর পরিশ্রম করে চলেছে ৷ এই সম্মেলন শেষে চিনে একটি স্মরণীয় সামরিক প্যারেড হবে 3 সেপ্টেম্বর ৷ 1945 সালের সেপ্টেম্বরে জাপান আত্মসমর্পণ করে ৷ শেষ হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ৷ এই ফাসিস্ত-বিরোধী যুদ্ধ শেষের 80 বছর পূর্তি উপলক্ষে হবে এই বিশেষ প্যারেড ৷

এই এসসিও সম্মেলনে আরও 20 জন রাষ্ট্রনেতা যোগ দেবেন ৷ সঙ্গে এই প্যারেড ৷ সবমিলিয়ে চিনের একান্ত চেষ্টা যাতে কেউ সম্মেলন থেকে বাদ না পড়ে যান ৷ পুতিনও আসছেন ৷ রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের আসাটা দক্ষিণ গোলার্ধের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে প্রতিষ্ঠা করে ৷ বিশেষত সম্প্রতি আলাস্কার আঙ্কোরেজ-এ আমেরিকা-রাশিয়া শান্তি বৈঠকে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৷ ইউরোপিয়দের কাছে ব্যাপারটা খানিক নোনতা ঠেকবে ৷

Traditional Russian wooden dolls called Matryoshka depicting China's President Xi Jinping, left, and U.S. President Donald Trump
রাশিয়ার ঐতিহ্যবাহী কাঠের পুতুলে (বাঁদিক থেকে) প্রেসিডেন্ট জিনপিং ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (ছবি: এপি)

প্রধানমন্ত্রী মোদি ট্রাম্পের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন ৷ এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি দেখাবেন দুনিয়া কত বৈচিত্রময় ৷ ভারত এখনও আমেরিকাকে একটা কৌশলী অংশীদার বলে মনে করে ৷ কিন্তু সে মাথা নত করবে না এবং আমেরিকার হুকুমের পাল্টা জবাব দেবে ৷ এবং তা সম্ভব ৷ ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধের আবহে ভারত চিনের দিকে ফিরে তাকিয়েছে, এমন একটা কথা ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে ৷

সত্যিটা হল, ভারত শিখেছে যে আমেরিকাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা যায় না ৷ ভারতকে তার সম্পর্ক ও ভূ-অর্থনীতিকে বৈচিত্রময় করে তুলতে হবে ৷ ভারতের কৌশল স্বশাসিত নীতি ৷ এই এসসিও বৈঠক সেই পথে এক ধাপ এগিয়ে দেবে ৷ ট্রাম্পের শাসনকালে বিশ্বের সব দেশগুলি একতরফা শুল্কের চাপে কাবু ৷ এই পরিস্থিতিতে তিয়ানজিয়ানে বৈঠক এবং ঘোষণা নিঃসন্দেহে মুক্ত ও স্বচ্ছ বাণিজ্যকে জোরালো করবে ৷

তাদের বেশিরভাগ কোনও না কোনও চুক্তি করেছে ৷ ট্রাম্প প্রশাসন অধিকাংশের কাছ থেকে মোটা কর আদায় করেছে ৷ সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বে ইরানে বোমা ফেলেছে আমেরিকা ৷ তাই এসসিও দেশগুলি ব্রিকস-এর মতো একটি স্থিতিশীল বাণিজ্য চুক্তি করতে চেষ্টা করবে ৷ আঞ্চলিক ব্যবসা এবং পরিবহণ পরিকাঠামোর উপর কয়েকটি চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে ৷ এসসিও আসলে তৈরি হয়েছিল নিরাপত্তা সংগঠন হিসাবে ৷ সেখানে সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে আলোচনা হওয়ার কথা ৷

Prime Minister Narendra Modi with Chinese Foreign Minister Wang Yi during a meeting, in New Delhi
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই (ফাইল ছবি: পিটিআই)

সেখানে মানবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে ৷ রাশিয়া আঞ্চলিক-ইউরেশিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করবে ৷ এই সবকিছুকেই স্বাগত জানানো হবে ৷ যদিও এসসিও সদস্যের মধ্যে অনেকগুলি নিষ্পত্তি না-হওয়া দ্বিপাক্ষিক ইস্যু রয়েছে ৷ সৌদি আরবের নতুন কয়েকটি দেশ পূর্ণ সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছে ৷ এই বিষয়গুলিতেও কথাবার্তা হবে ৷

এসসিও, ব্রিকস সম্মেলনগুলি সফল ও শক্তিশালী হওয়ার চাবিকাঠি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বহুমেরুকরণ হচ্ছে স্বাভাবিক অবস্থা এবং ভারত ও চিনের মধ্যে সম্পর্কে উন্নতি ৷ ভারত ও চিন ধাপে ধাপে এই দিকে যাচ্ছে ৷ যদিও সেখানে পৌঁছতে আরও অনেকটা রাস্তা অতিক্রম করতে হবে ৷

এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, 2024 সালের অক্টোবরে রাশিয়ার কাজানে ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের দেখা হয় ৷ সেখানে তাঁরা সম্পর্কের বরফ গলানোর উদ্যোগ নেন ৷ কারণ 2022 সালে হিমালয়ের গালওয়ানে সীমান্তে গোলমালের পর ভারত ও চিনের সম্পর্ক বরফের মতোই শীতল হয়ে গিয়েছিল ৷ চিনের বিদেশ মন্ত্রী ওয়াং ই'র ভারত সফরে এই সাইনো-ইন্ডিয়া বরফ গলার গতি বৃদ্ধি পেয়েছে ৷ চিন ও ভারতের বিদেশ মন্ত্রীরা দুই দেশের সব ক্ষেত্রগুলিকে স্বাভাবিক করার প্রতি গুরুত্ব দেন ৷

দুই বিশেষ প্রতিনিধির মধ্যে 24 দফা আলোচনার অংশ হিসেবে ওয়াং ই এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের মধ্যে বৈঠকে 'টেন পয়েন্ট কনসেনসাস ফ্রেমওয়ার্ক' তৈরি হয় ৷ যেখানে সীমান্ত সমস্যার সমাধান খুঁজে পাওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল ৷ সীমান্তে নিয়ন্ত্রণের জন্য 'ওয়ার্কিং মেকানিজম ফর কনসালটেশন অ্যান্ড কোঅর্ডিনেশন' (ডব্লিউএমসিসি)-এর ফ্রেমওয়ার্কের তাঁরা তিনটি ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যের বাজার ফের খুলতে রাজি হয়েছে ৷ (জিনহুয়া এবং গ্লোবাল টাইমস, 20 অগস্ট, 2025) ৷ এরপরের দফার আলোচনা হবে 2026 সালের চিনে ৷ এটাই আলোচনার

তাইওয়ানে, চিনা সংবাদপত্রে বলা হয়েছে যে "জয়শঙ্কর বলেছেন তাইওয়ান চিনের অংশ"। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে চিনা পক্ষ তাইওয়ানের বিষয়টি উত্থাপন করেছে। "ভারতীয় পক্ষ জোর দিয়ে বলেছে যে এই বিষয়ে তাদের অবস্থানের কোনও পরিবর্তন হয়নি।" ভারতীয়রা তাইওয়ানের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই জড়িত।

প্রধানমন্ত্রী মোদি যখন ওয়াং ইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করেন, তখন তিনি চূড়ান্ত কথা বলেন এবং সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হওয়ার ঐকমত্যকে সমর্থন করেন, ভারত-চীন সহযোগিতা 'এশীয় শতাব্দীর' জন্য অপরিহার্য এবং উন্নয়নে অবদান রাখবে। তিয়ানজিনে রাষ্ট্রপতি পুতিন, শি এবং মোদির মধ্যে এই চীন-ভারতীয় সম্পৃক্ততা এসসিও বৈঠককে মসৃণ এবং গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।

অবশ্যই, অনেক কিছুই বাধা হতে পারে, কিন্তু ইঙ্গিত দেয় যে রাশিয়া, চীন এবং ভারতের একটি বহুমেরু ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষমতা রয়েছে। এই ধরনের ব্যবস্থা গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির জন্য উন্নত উন্নয়নের সম্ভাবনা খুলে দেয়। তাদের দৃষ্টি এই বৈঠকের উপর নিবদ্ধ। শি, মোদী এবং পুতিনের মধ্যে বৈঠক অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে।