বিরল যোগ মাঘী পূর্ণিমায় ! করুন এই কাজ, ফল পাবেন হাতে নাতে
11 ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ মঙ্গলবার মাঘী পূর্ণিমা তিথি শুরু হচ্ছে । চলবে চারদিন । এইদিন কী করবেন জানালেন জ্যোতিষী রাহুল দে ৷

Published : February 11, 2025 at 1:03 PM IST
|Updated : February 11, 2025 at 3:57 PM IST
প্রতি মাসে একটি পূর্ণিমা তিথি থাকে । প্রতি মাসের পূর্ণিমার নিজস্ব বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে । পূর্ণিমার দিনে কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা খুবই শুভ বলে মনে করা হয় । সনাতন ধর্মে মাঘী পূর্ণিমার অত্যন্ত গুরুত্ব রয়েছে । এইদিনে গঙ্গা নদীতে স্নান করা এবং দান করা শুভ এবং ফলপ্রসূ বলে বিবেচিত হয় । পঞ্জিকা অনুসারে, প্রতি বছর মাঘ মাসের শুক্লপক্ষের পূর্ণিমা তিথিতে মাঘী পূর্ণিমা পালিত হয় ।
জানা যায়, মাঘী পূর্ণিমা বা মাঘ পূর্ণিমা হল মঘানক্ষত্রাযুক্ত ৷ মাঘ মাসে পূর্ণিমা তিথি ও হিন্দু এবং বৌদ্ধদের একটি ধর্মীয় উৎসব । এই দিনে চন্দ্র, গুরু এবং শনি তিনটি গ্রহই অশ্লেষা নক্ষত্রে তাদের নিজস্ব রাশিতে উপস্থিত থাকে । এদিন গৌতম বুদ্ধ তাঁর পরিনির্বাণের কথা ঘোষণা করেছিলেন ৷ এছাড়া কথিত আছে, এই তিথিতে দেবতারা মর্ত্যলোকে ভ্রমণ করতে আসেন ।
জ্যোতিষীর মতে, এবারের মাঘী পূর্ণিমা অত্যন্ত শুভ এবং বিরল একটি যোগও তৈরি হয়েছে । যা 144 বছর পরে ঘটেছে । 11 ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়ে চারদিন ধরে চলবে । এই পূর্ণিমায় ভাগ্যের চাকা ঘুরে যেতে পারে এবং জীবনে সুখ-সমৃদ্ধি প্রবেশ করতে পারে । তাই মাঘী পূর্ণিমার পূণ্য সময়ে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি করা অত্যন্ত ফলদায়ক হতে পারে ৷
জ্যোতিষী রাহুল দে বলেন, "এই দিনে পারলে গঙ্গাস্নান করা ভালো ৷ স্নান করে মা লক্ষ্ণী ও ভগবান বিষ্ণুর পুজো করুন ৷ সন্ধ্যে বেলায় অবশ্যই প্রদীপ জ্বালান ৷ মাঘী পূর্ণিমার দিন আপনার সামর্থ মতো দরিদ্রদের দান করতে পারেন ৷ এতে আপনার সংসারে সুখ শান্তি বজায় থাকবে ৷ এছাড়ও এইদিনে স্নান করে অশ্বথ গাছে জল নিবেদন করুন ৷ এটি করলে দেবী লক্ষ্মী এবং ভগবান বিষ্ণুর আশীর্বাদ পাওয়া যায় ৷ এতে সংসারে সমৃদ্ধ বজায় থাকে ৷ টাকা পয়সার অভাব হয় না ৷"
মাঘী পূর্ণিমার দিন বিষ্ণু ও বুদ্ধপুজো এবং বিশ্ব শান্তির পুজো করা হয় ৷ অনেক জায়গায় মাঘী পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে নানা রকমের উৎসব ও মেলা বসে । ভক্তদের বিশ্বাস এইদিন দেবতারা স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যে নেমে আসেন । এইদিন গঙ্গাস্নানকে অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয় ৷ এছাড়া মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে গঙ্গাজলে পূণ্য স্নানের পর অনেকেই দান-ধ্যান করে থাকেন । কেউ কেউ তর্পন করে থাকেন ।
কথিত আছে, পুরাকালে কান্তিকা নামক এক নগরীতে ধনেশ্বর নামে একজন গরিব ব্রাহ্মণ বাস করতেন । সেইসময় ব্রাহ্মণের কোনও সন্তান ছিল না । অনেক কষ্টেই দিন কাটছিল ব্রাহ্মণের ৷ সেইসময় বাইরে কোনও এক জনৈক ধনীর বাড়িতে ভিক্ষা চাইতে গিয়েছিলেন ৷ কিন্তু তখন ব্রাহ্মণকে খালি হাতেই ফিরতে হয়েছিল ৷ কারণ নিঃসন্তান ব্রহ্মনকে ভিক্ষা দিতে চাননি ৷ ব্রাহ্মণ ঘরে ফিরে কাঁদতে কাঁদতে স্ত্রীকে সবটা বলেন । তখনই জনৈক একজন এসে বললেন তোমরা মা কালীর পুজো কর এবং চন্দ্রিকা দেবীর আরাধনা কর ৷ এতে তোমরা সন্তান লাভ করতে পারবে । তাই শুনে ব্রাহ্মণ মাঘী পূর্ণিমায় এই পুজো করেন এবং ব্রাহ্মণ দম্পতির সন্তান লাভ হয় ।

