পুজোয় নায়িকাদের মতো ত্বকে গোলাপি আভা চান ? বাড়িতেই বানিয়ে নিন খুব সহজে এই জিনিস
বিট শুধুমাত্র শরীরের জন্যই নয়, ত্বকের জন্যও ভীষণভাবে উপকারী ৷ কীভাবে ব্যবহার করবেন জেনে নিন বিস্তারিত ৷

Published : August 30, 2025 at 3:30 PM IST
প্রায়শই মানুষ বিটকে কেবল স্যালাড হিসাবে খেয়ে থাকেন, কিন্তু আপনি কি জানেন যে এটি একটি সুপারফুড ? এতে ম্যাঙ্গানিজ, পটাসিয়াম, আয়রন, ফোলেট, ভিটামিন বি6, সি এবং এ-এর মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে । শরীরের 10টি বড় সমস্যায় একটি ছোট বিট উপকারী হতে পারে ।
এটি কেবল রক্ত বৃদ্ধি করে না, বরং অন্ত্র পরিষ্কার করে, মনকে তীক্ষ্ণ করে এছাড়াও ত্বকের উন্নতি করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে । জেনে নেওয়া প্রয়োজন এর উপকারিতা সম্পর্কে ৷
বিটের আশ্চর্যজনক উপকারিতা: বিট উপস্থিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন ত্বককে সূর্যের রশ্মি থেকে রক্ষা করে এবং ত্বকের সমস্ত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে । এতে উপস্থিত ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে ৷ যা ত্বককে টানটান এবং নরম রাখে ।

যদি শরীরে হিমোগ্লোবিনের অভাব থাকে, তাহলে বিট একটি সহজ এবং কার্যকর প্রতিকার । এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে, যা রক্ত বৃদ্ধিতে সাহায্য করে ।
বিটে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে, যা শরীরের রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা অর্থাৎ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ।
এতে উপস্থিত নাইট্রেট মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ বাড়ায়, যা মস্তিষ্ককে তীক্ষ্ণ করে তোলে । এছাড়াও বিটেইন নামক একটি উপাদান মেজাজ উন্নত করে বিষণ্ণতা থেকেও রক্ষা করে । বিটে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে এবং পেট পরিষ্কার করতে সাহায্য করে ।
বিটে বেটানিন নামক একটি উপাদান রয়েছে, যা ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে । গবেষণায় দেখা গিয়েছে এর রস স্তন, পাকস্থলী এবং অন্ত্রের ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি রোধ করতে পারে । এতে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য লিভারের প্রদাহ কমাতে এবং সুস্থ রাখতে সাহায্য করে ।
বিট গর্ভবতী মহিলাদের জন্য খুবই উপকারী । এটি কেবল রক্তাল্পতা প্রতিরোধ করে না, বরং গর্ভস্থ শিশুর বিকাশেও সাহায্য করে । এটি মেরুদণ্ডের সাথে সম্পর্কিত রোগ স্পাইনা বিফিডাও প্রতিরোধ করে ।
বিটে উপস্থিত নাইট্রেট শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড গ্যাস তৈরি করে, যা শিরাগুলিকে প্রসারিত করে এবং রক্ত প্রবাহকে সঠিক রাখে । এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায় । এতে উপস্থিত ভিটামিন এ দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে । এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং কম ক্যালোরি থাকে, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে । আর ওজন বজায় থাকলেই আপনাকেও দেখতে লাগবে চমৎকার ৷

এতো গেলা বিট খেলে আপনার ভিতর থেকে শরীরকে সুস্থ রাখার উপায় ৷ ত্বকের আরও ভালো উপকার পেতে বিট মুখে ফেস মাস্ক হিসাবেও ব্যবহার করুন ৷
কীভাবে বিট ফেস মাস্ক তৈরি করবেন ?
আপনি বাড়িতে খুব সহজেই বানিয়ে নিতে পারবেন ৷ এটি তৈরি করতে একটি বিট নিতে হবে এবং ভালো করে খোসা ছাড়িয়ে নিতে হবে । এরপর জল দিয়ে ভালো করে পরিষ্কার করে নেওয়া জরুরি । তারপর টুকরো করে কেটে মিক্সারে ভালো করে পেষ্ট করে নিন । এবার ছেঁকে নিয়ে আলাদা পাত্রে রাখুন । এরপরে একটি প্যান নিন এবং এতে মৌরি সিদ্ধ করুন ৷ যতক্ষণ না এর রঙ জলে পরিবর্তিত হয় । ভালো করে মিশিয়ে নিন ৷ এতে গ্লিসারিন যোগ করে নিন । এই মিশ্রণটি ভালো করে মিশিয়ে নিন । ভালো মতো মিশ্রণ তৈরি হয়ে গেলে এবার এই মিশ্রণ মুখে লাগিয়ে 30 মিনিট রেখে দিন । এরপর সুতির কাপড় দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন । এটি আপনার ত্বককে উজ্জ্বল এবং গোলাপি দেখাবে ।
অ্যালোভেরা এবং বিট: অ্যালোভেরা আমাদের ত্বকের জন্যও খুবই উপকারী । এমন পরিস্থিতিতে আপনি অ্যালোভেরা এবং বিট উভয়ই একসঙ্গে ব্যবহার করতে পারেন । অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে বিটের রস মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন । এরপরে, এটি মুখে লাগান । কিছুক্ষণ পর জল দিয়ে মুখ ধুয়ে পরিষ্কার করুন । মনে রাখবেন ভুল করেও গরম জল ব্যবহার করবেন না ।
বিট এবং মধু: এগুলি উভয়ই আমাদের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি ত্বকের জন্যও উপকারী । আপনি এটি ময়েশ্চারাইজার তৈরি করেও ব্যবহার করতে পারেন । প্রথমে, বিট পেষ্ট করে নিন । এবার এতে মধু যোগ করে ঘন পেস্ট তৈরি করুন । রাতে ময়েশ্চারাইজারের মতো মুখে লাগান এবং রেখে দিন । সকালে জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন । এতে আপনার ত্বক কেবল নরম হবে না, এর উজ্জ্বলতাও বৃদ্ধি পাবে ।
এছাড়াও, আপনি বিটের ফেসপ্যাক তৈরি করে মুখে লাগাতে পারেন ৷ যা দাগ কমায় এবং ত্বককে নরম ও উজ্জ্বল করে । বিটের রস পান করা, স্যালাডে খাওয়া অথবা DIY বিউটি ট্রিটমেন্টে ব্যবহার করা, প্রতিটি উপায়ই আপনার ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে ।
https://pmc.ncbi.nlm.nih.gov/articles/PMC12189121/
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য শুধুমাত্র ধারণা আর সাধারণ জ্ঞানের জন্যই লেখা হয়েছে ৷ এখানে উল্লেখিত কোনও পরামর্শ অনুসরণের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৷ যদি আগে থেকেই কোনও স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে থাকে, তা আগেই চিকিৎসককে জানাতে হবে ৷)

