পাক সেনাপ্রধানকে কুচকাওয়াজে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, সাফ জানিয়ে দিল ওয়াশিংটন
আবারও মুখ পুড়ল ইসলামাবাদের ৷ ভারতের উপর চাপ তৈরি করতে পাকিস্তান দাবি করে আমেরিকার কুচকাওয়াজে ডাক পেয়েছেন সেনাপ্রধান ৷ দাবি খারিজ করল ট্রাম্প প্রশাসন ৷

Published : June 15, 2025 at 7:24 PM IST
নিউইয়র্ক, 15 জুন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক বিভেদ তৈরির চেষ্টা ! ভুয়ো খবর প্রচার করে মুখ পুড়ল পাকিস্তানের ৷ পাকিস্তানের সেনা প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে ওয়াশিংটনে সেনার কুচকাওয়াজে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি উড়িয়ে দিল হোয়াইট হাউস ৷ তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কোনও বিদেশি সেনা প্রধানকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্তা বলেছেন, "সম্পূর্ণ মিথ্যা খবর। কোনও বিদেশি সামরিক প্রধানকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি ৷"
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সামরিক প্রদর্শনীগুলির মধ্যে একটি এই কুচকাওয়াজ ৷ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাবমূর্তি বৃদ্ধির প্রচেষ্টারও অংশ এটি। 1775 সালে 14 জুন মার্কিন সেনাবাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয় ৷ সেই দিনটিকে স্মরণ করেই কুচকাওয়াজের আয়োজন হয় ৷ ঘটনাচক্রে আমেরিকার জন্য বিশেষ এই দিনেই জন্ম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৷ এবার তাঁর 79তম জন্মদিন ৷ তিনি কুচকাওয়াজে অভিবাদন গ্রহণ করেছেন। স্থানীয় সময় শনিবার বিকেলে কয়েক হাজার সেনা, কয়েক ডজন ট্যাঙ্ক এবং অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম, হেলিকপ্টার এবং প্যারাসুট-সহ এই কুচকাওয়াজ হয় ৷
যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস বা ফ্রান্সের বাস্তিল দিবসের কুচকাওয়াজের মতো কোনও সামরিক কুচকাওয়াজের ঐতিহ্য নেই। ওয়াশিংটনে শেষবার সামরিক প্রদর্শনী হয়েছিল 1991 সালে ৷ প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধে কুয়েতকে মুক্ত করার জন্য আমেরিকা ইরাককে পরাজিত করার পর জাতীয় বিজয় উদযাপিত হয়েছিল ৷ ওই সামরিক অভিযান অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম নামেও পরিচিত। এতদিন বাদে আবারও সেই অনুষ্ঠান হচ্ছে ৷ এই কারণেই বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশ কুচকাওয়াজকে ট্রাম্পের ভাবমূর্তি বিস্তারের অংশ হিসেবে দেখছে ৷
এরই মধ্যে পাকিস্তানের সামরিক প্রধানকে এই কুচকাওয়াজে আমন্ত্রণের ভুয়ো খবর ছড়ানো হয় বিভিন্ন মাধ্যমে ৷ কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ দাবি করেন, এটি ভারতীয় কূটনীতির জন্য একটি বিশাল ধাক্কা। উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বাধীন শিবসেনা-ইউবিটি তাদের মুখপত্র 'সামনা'র একটি সম্পাদকীয়তে দাবি করে, ভারত কূটনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৷ এই আমন্ত্রণ ভারতের লড়াইকে দুর্বল করার ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা। শেষ পর্যন্ত অবশ্য আসিম মুনিরকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছে ওয়াশিংটন ৷
ভুয়ো খবর প্রকাশ করে জোর ধাক্কা খেয়েছে পাকিস্তান ৷ অন্যদিকে, ভারতের নকল করে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে বিশ্বের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে কূটনৈতিক দল পাঠিয়েছিল পাকিস্তানও ৷ আমেরিকায় গিয়ে সেই দলের সদস্যরা মার্কিন প্রশাসনের এক আন্ডার সেক্রেটারি ছাড়া আর কারও সঙ্গে দেখা করাব সুযোগ পাননি ৷ অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বে আমেরিকায় যাওয়া ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বৈঠক করেন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের সঙ্গে ৷ সন্ত্রাসবাদ দমনের লড়াইয়ে ভারতের পাশে থাকার বার্তা দেন ট্রাম্পের ডেপুটি ৷
- দেনায় জর্জরিত পাকিস্তান, ঋণের বোঝা 76 লক্ষ কোটির! প্রকাশিত অর্থনৈতিক সমীক্ষায়

