ETV Bharat / international

আমেরিকার সঙ্গে শুল্ক যুদ্ধের আবহে চিনে প্রধানমন্ত্রী মোদি, রবিতে প্রেসিডেন্ট জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক

এসসিও সম্মেলনে যোগ দিতে তিয়ানজিন শহরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি ৷ ভারত-চিন সম্পর্কের নয়া অধ্যায়ের সূচনা হবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল ৷

PM Narendra Modi China Visit
চিনের তিনজিয়ান শহরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি (ছবি: পিটিআই)
author img

By PTI

Published : August 30, 2025 at 7:14 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

তিয়ানজিন, 30 অগস্ট: বহু চর্চিত এসসিও সম্মেলনে যোগ দিতে চিনে পৌঁছলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ সাত বছর পর চিন সফরে এলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ৷ 31 অগস্ট ও 1 সেপ্টেম্বর দু'দিন ব্যাপী সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলন হচ্ছে তিয়ানজিন শহরে ৷ ভারতীয় সময় শনিবার সকালে জাপান থেকে রওনা দেন তিনি ৷

রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের উপর 25 শতাংশ বাড়তি শুল্কের বোঝা চাপিয়েছেন ৷ সব মিলিয়ে 50 শতাংশ শুল্কের চাপে আমেরিকায় ভারতের পণ্য রফতানি নিয়ে উদ্বিগ্ন বাণিজ্য মহল ৷ এর ফলে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে চাপানউতোর চলছে ৷ এমন সময়ে প্রধানমন্ত্রীর চিন সফর তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ ৷

তিয়ানজিনে পৌঁছনোর আগে প্রধানমন্ত্রী মোদি জাপানে দাঁড়িয়ে বলেন, "বিশ্বে অর্থনৈতিক স্থিরতা আনতে ভারত ও চিনের একসঙ্গে কাজ করাটা গুরুত্বপূর্ণ ৷" এসসিও সম্মেলনে যোগ দিতে তিয়ানজিনে আসছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং অন্য কয়েকটি রাষ্ট্রের নেতারাও ৷

এই সম্মেলনের ফাঁকে রবিবার চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ মনে করা হচ্ছে, দুই রাষ্ট্রনেতা ভারত ও চিনের মধ্যে থাকা অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে পর্যালোচনা করবেন ৷ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গেও বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী ৷ ইতিমধ্যে ডিসেম্বরে রাশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের ভারতে আসার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে ৷

Pm Modi in Tianjin China
তিয়ানজিন শহরে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে স্বাগত জানাচ্ছেন চিন প্রশাসনের প্রতিনিধিরা (ছবি: পিটিআই)

জাপানের সংবাদপত্র ইউমিউরি শিমবুন-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী ভারত-চিন সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন ৷ তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে স্থিতিশীল এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ফলে আঞ্চলিক তথা বিশ্বের শান্তি-সমৃদ্ধি প্রভাবিত হবে ৷ শুক্রবার তাঁর এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশিত হয়েছে ৷ মোদির বক্তব্য, "বিশ্বের অর্থনীতিতে এই মুহূর্তে যে অস্থিরতা চলছে, এটা ভারত ও চিন দু'দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৷ কারণ দু'টিই বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতি ৷ বিশ্বের অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে দুই দেশকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে ৷"

এর আগে গত 18 অগস্ট নয়াদিল্লি আসেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই ৷ তাঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদি ছাড়াও বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের দীর্ঘ বৈঠক হয় ৷ দু'পক্ষের মধ্যে স্থির এবং সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক তৈরিতে কী কী পদক্ষেপ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয় ৷ এর মধ্যে সীমান্তের বিতর্কিত এলাকায় শান্তি স্থাপন থেকে শুরু করে বাণিজ্যের কারণে দুই দেশের সীমান্ত খুলে দেওয়া এবং যত দ্রুত সম্ভব ভারত-চিন বিমান পরিষেবা চালুর মতো বিষয়গুলিকে প্রাধান্য দেওয়া হয় ৷

Pm Modi in Tianjin China meeting Indian diaspora
চিনে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাচ্ছেন ভারতীয়রা (ছবি: পিটিআই)

এই বৈঠকের দু'সপ্তাহের মাথায় চিনে গেলেন প্রধানমন্ত্রী মোদি ৷ শেষবার 2018 সালের জুনে এসসিও সম্মেলনে যোগ দিতে চিন সফরে গিয়েছিলেন তিনি ৷ চিনের প্রেসিডেন্ট জিনপিং ভারতে এসেছিলেন 2019 সালের অক্টোবর মাসে ৷

এরপর মাঝের বছরগুলিতে বারবার ভারত-চিন সম্পর্কে ফাটল ধরেছে ৷ বিশেষত 2020 সালের জুন মাসে গালওয়ান সীমান্তে চিনের পিএলএ বাহিনী ও ভারতীয় সেনার মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় সম্পর্কে চিড় ধরে ৷ পরে অবশ্য সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত ও চিন ৷ গত বছরের 21 অক্টোবর সেনা প্রত্যাহারের এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে ৷