ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্রের জন্য লড়াই, শান্তিতে নোবেল বিরোধী নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাডোর
ভেনেজুয়েলায় স্বৈরতান্ত্রেক বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন মারিয়া করিনা মাচাডো ৷ দেশের গণতান্ত্রিক ঐক্যের প্রতিমূর্তি তিনি ৷ 2025 সালে শান্তিতে নোবেল পেলেন লাতিন আমেরিকার নেত্রী ৷

Published : October 10, 2025 at 2:45 PM IST
|Updated : October 10, 2025 at 3:06 PM IST
ওসলো, 10 অক্টোবর: এবার শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাডো ৷ তাঁকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেয় নরওয়ে নোবেল কমিটি ৷ তিনি লাতিন আমেরিকার দেশটির বিরোধী নেত্রী ৷
শুক্রবার নরওয়ের স্থানীয় সময় সকাল 11টা নাগাদ এই ঘোষণা করেন নোবেল কমিটির প্রধান ইয়েরগেন ওয়াটনি ফ্রিডনেস ৷ এবছরের শান্তিতে নোবেল পুরস্কারের জন্য 338 জন মনোনয়নপত্র পাঠিয়েছিলেন ৷ এর মধ্যে 94টি মনোনয়ন জমা পড়ে বিভিন্ন সংগঠনের তরফে ৷
ঘোষণা করার সময় নোবেল কমিটির প্রধান ইয়েরগেন ওয়াটনি ফ্রিডনেস মহিলা সমাজকর্মীর প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন, " মারিয়া শান্তির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সাহসী ৷ তিনি ক্রমবর্ধমান অন্ধকারের মধ্যেও গণতন্ত্রের আগুনকে জ্বালিয়ে রাখেন ৷" তিনি ভেনেজুয়েলার বিরোধী পক্ষের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ছিলেন ৷ মারিয়ার বিষয়ে বলতে গিয়ে নোবেল কমিটির প্রধান আরও বলেন "মারিয়া করিনা মাশাডো দেখিয়ে দিয়েছেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যা যা লাগে, শান্তির জন্যও তাই প্রয়োজন ৷ একসময় দেশের রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষ গভীরভাবে বিভক্ত ছিল, সেই পক্ষের গুরুত্বপূর্ণ, একতার জীবন্ত মূর্তি তিনি ৷"
BREAKING NEWS
— The Nobel Prize (@NobelPrize) October 10, 2025
The Norwegian Nobel Committee has decided to award the 2025 #NobelPeacePrize to Maria Corina Machado for her tireless work promoting democratic rights for the people of Venezuela and for her struggle to achieve a just and peaceful transition from dictatorship to… pic.twitter.com/Zgth8KNJk9
ভেনেজুয়েলার মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন মারিয়া করিনা মাচাডো ৷ দেশে একনায়কতন্ত্রকে হঠিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে তাঁর সংগ্রামের জন্য তাঁকে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ ৷ ভেনেজুয়েলার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী মারিয়ার সঙ্গে নাগরিকদের সমর্থন রয়েছে ৷ সাম্প্রতিক সময়ের লাতিন আমেরিকায় তিনি এক অসাধারণ উদাহরণ হয়ে উঠেছেন ৷
নরওয়ে নোবেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একসময় ভেনেজুয়েলা একটি গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধশালী দেশ ছিল ৷ পরে নৃশংস এবং স্বৈরাচারী দেশে রূপান্তরিত হয়েছে ৷ ভেনেজুয়েলার মানুষ এখন মানবিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে ৷ অধিকাংশ মানুষই অত্যন্ত দারিদ্রতার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন ৷ প্রায় 80 লক্ষ (8 মিলিয়ন) মানুষ দেশ ছেড়েছেন ৷ নির্বাচনে কারচুপি, আইনি বাধা এবং কারাবাসের মাধ্যমে পদ্ধতিগতভাবে বিরোধীদের দমিয়ে চালানো রাখা হয়েছে ৷
ভেনেজুয়েলার স্বৈরতান্ত্রিক শাসন রাজনৈতিক কাজকর্মগুলিকে অত্যন্ত সমস্যার করে তুলেছে ৷ দেশের এই অবস্থায় মারিয়া গণতান্ত্রিক উন্নয়নের জন্য 'সুমাতে' নামের একটি সংগঠন গড়ে তুলেছেন ৷ তিনি বিগত 20 বছর ধরে অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচনের পক্ষে সওয়াল করে এসেছেন ৷ তাঁর কথায়, "বুলেটের বদলে ব্যালটকে বেছে নিয়েছেন মানুষ ৷" তিনি বিচারবিভাগীয় স্বাধীনতা, মানবাধিকারের পক্ষে সরব হয়েছেন ৷ ভেনেজুয়েলার মানুষের স্বাধীনতার জন্য বছরের পর বছর লড়াই করেছেন ৷
2024 সালে নির্বাচনের আগে মাচাডো বিরোধী পক্ষের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হয়েছিলেন ৷ কিন্তু সরকার তাঁর প্রার্থী হওয়া আটকে দেয় ৷ শেষে তিনি অন্য একটি দলের প্রতিনিধি এডমান্ডো গনজালেজকে সমর্থন করেন ৷ এই কাজে রাজনৈতিক বিভেদের ঊর্ধ্বে উঠে দেশজুড়ে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবী ছড়িয়ে পড়েন ৷ রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবীদের ভোটের পর্যবেক্ষক হওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যাতে অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করা যায় ৷ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েন তাঁরা ৷ যদিও তাঁরা জানতেন, তাঁদের হেনস্তা করা হতে পারে ৷ গ্রেফতারি এবং অত্যাচারের আশঙ্কাও রয়েছে ৷ তা সত্ত্বেও নাগরিকরা দেশের সর্বত্র ভোটগ্রহণ কেন্দ্রগুলিতে সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন ৷ শাসক ব্যালট ধ্বংস করার আগে এবং মিথ্যা ফলাফল ঘোষণার আগে ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল নথিভুক্ত করছেন ৷
1901 সাল থেকে 2024 সাল পর্যন্ত সময়কালে 105 বার 142 জনকে শান্তিতে নোবল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে ৷ তাঁদের মধ্যে 111 জন ব্যক্তি এবং 31টি সংগঠন ৷ সর্বকনিষ্ঠ নোবেল পুরস্কার প্রাপক মালালা ইউসুফজাই ৷ মাত্র 17 বছর বয়সে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান ৷

