ETV Bharat / international

54 বছরে প্রথমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরঙ্কুশ জামাতের ছাত্র সংগঠন, হাত খালি খালেদা'র

ভোটে কারচুপির অভিযোগে সরব বিএনপি থেকে শুরু করে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সংগঠন ৷ যদিও ভোট প্রক্রিয়াকে আদর্শ বলে বর্ণনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ৷

Dhaka University polls
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ইটিভি ভারত)
author img

By PTI

Published : September 10, 2025 at 8:55 PM IST

2 Min Read
Choose ETV Bharat

ঢাকা, 10 সেপ্টেম্বর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বড় জয় পেল জামাত-ই-ইসলামির ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্রশিবির বা আইসিএস ৷ খাতাই খুলতে পারল না প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিএনপি'র ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রশিবির বা জেসিবি ৷ উল্লেখযোগ্যভাবে যে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়েছিল, তারাও নির্বাচনে দাগ কাটতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ ৷ পরাজয়ের পর জামাত এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র সংগঠনের নেতা-নেত্রীরা দাবি করেছেন, নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি করে তাঁদের হারানো হয়েছে ৷

12টি আসনের মধ্যে 9টিতে জিতেছে জামাতের ছাত্র সংগঠন ৷ সহ-সভাপতি থেকে শুরু করে সাধারণ সম্পাদক থেকে সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে জয় পেয়েছেন জামাতের প্রার্থীরা ৷ সাহিত্য ও সংস্কৃতি, প্রকাশনা ও গবেষণা এবং সমাজসেবা সম্পাদকের পদে জিতেছেন নির্দলরা ৷ বাংলাদেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন, 1971 সালে বাংলাদেশ গঠনের পর থেকে এই প্রথম কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষমতা দখল করল কোনও ইসলামিক ছাত্র সংগঠন ৷

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন, আইসিএস প্রার্থী সাদিক কায়েম ৷ 14 হাজার 42টি ভোট পেয়ে তিনি নির্বাচিত হযেছন ৷ জেসিবি-র সহ-সভাপতি নির্বাচনের প্রার্থী মহম্মদ আব্দুল ইসলাম পেয়েছেন 5 হাজার 708টি ভোট ৷ 10 হাজার 794টি ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন জেসি়ডি-র তনবীর বাড়ি ৷

ফলাফলে ছাত্রদের প্রকৃত মতামত প্রতিফলিত হয়নি বলে দাবি বিএনপি-র ছাত্র সংগঠনের ৷ জেসিডি-র অন্যতম নেতা তথা সহ-সভাপতি নির্বাচনের প্রার্থী মহম্মদ আব্দুল ইসলাম ফেসবুকে লেখেন, "মঙ্গলবার ভোট শেষ হওয়ার পর থেকেই আমরা আশঙ্কা করছিলাম নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে ৷ ভোটের ফল প্রকাশিত হতে আমাদের সেই আশঙ্কা সত্যি হল ৷ এই ফলাফল আমরা মানছি না ৷" বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রাক্তন মুখপাত্র উমামা ফতেমাও মনে করেন, নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে ৷ ফেসবুকে করা পোস্ট থেকে তিনি এই নির্বাচনী ফলাফল বয়কটেরও ডাক দেন ৷

তবে এই সমস্ত অভিযোগকে গুরুত্ব দিতে নারাজ নির্বাচনের চিফ রিটার্নিং অফিসার মহম্মদ জসিমুদ্দিন ৷ তাঁর মতে, এই ভোট প্রক্রিয়াকে আদর্শ বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে ৷ পাশাপাশি এই নির্বাচনের প্রভাব যে অন্যত্রও পড়বে সেই ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, "ইতিহাস বলছে, বাংলাদেশে সঙ্কট তৈরি হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তির পথ দেখায় ৷" দেশের নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি-র নেতা হাসনাত আবদুল্লাও মনে করেন, এই ফলাফলের প্রভাব বৃহত্তর সমাজেও পড়বে ৷