ভারত-চিন সীমান্ত ইস্যুর সমাধানে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় 'না', স্পষ্ট বার্তা বিদেশ সচিবের
অন্য কোনও দেশের সঙ্গে বোঝাপড়ায় তৃতীয় দেশের মধ্যস্থতা চায় না ভারত ৷ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চাইলেও ভারত দ্বিপাক্ষিক পদ্ধতিতেই বিষয়টি সামলাবে বলে জানালেন বিদেশ সচিব ৷

Published : February 14, 2025 at 4:47 PM IST
ওয়াশিংটন, 14 ফেব্রুয়ারি: প্রতিবেশী চিনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সীমান্ত নিয়ে বোঝাপড়া ভারতই করবে ৷ এই ইস্যুতে অন্য কোনও তৃতীয় দেশের নাক গলানোর প্রয়োজন নেই। এমনটাই পরিষ্কার জানালেন ভারতের বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি ৷ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরামর্শ দিয়েছেন, প্রয়োজনে ভারত ও চিনের সীমান্ত-সমস্যা মেটাতে আমেরিকা মধ্যস্ততা করতে পারে ৷
শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমেরিকা সফর শেষে সাংবাদিক বৈঠক করেন বিদেশ সচিব ৷ সেখানে তিনি সাফ জানান, ভারত সবসময় দ্বিপাক্ষিক পদ্ধতিতে এই ধরনের সমস্যাগুলির সমাধানের চেষ্টা করে ৷ বরাবরই ভারত সরকার এই অবস্থানে অটল থেকেছে ৷ এদিন বিক্রম মিস্রিকে এক সাংবাদিক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতার প্রস্তাব প্রসঙ্গে প্রশ্ন করেন ৷ তার উত্তরে তিনি বলেন, "আমার মনে হয় আপনার প্রশ্নের মধ্যেই উত্তরটা লুকিয়ে আছে ৷"
এরপর বিদেশ সচিব আরও বলেন, "যে কোনও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের যে ইস্যুই থাক না কেন, আমরা সবসময় দ্বিপাক্ষিক উপায়ে সেগুলির সমাধানের চেষ্টা করেছি ৷ ভারত ও চিনের ক্ষেত্রেও বিষয়টা আলাদা নয় ৷ আমরা এই পদ্ধতি চালিয়ে যাব ৷"
13 ফেব্রুয়ারি আমেরিকায় পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ এরপর 14 ফেব্রুয়ারি ভারতীয় সময় গভীর রাতে তাঁর সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বৈঠক হয় ৷ তারপর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত ও চিনের মধ্যে তৈরি হওয়া শীতল সম্পর্কের সমাধানে মধ্যস্থতা করতে চাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন ৷ মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, "আমি দেখেছি, সীমান্তে কিছু গোলমাল চলছে। সেগুলি বিদ্বেষপূর্ণও বটে ৷ আমার মনে হয়, এভাবেই চলতে থাকবে ৷ ওই ঝামেলাগুলি মেটাতে আমি যদি কোনওভাবে কাজে লাগতে পারি তাহলে আমারই ভালো লাগবে ৷"
এদিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, বিশ্বের দরবার চিনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ৷ তাঁর মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে বেজিং ভূমিকা নিতে পারে ৷ পাশাপাশি তিনি ভারত, চিন, রাশিয়া এবং আমেরিকার সহযোগিতার গুরুত্বের উপরেও জোর দেন ৷ ট্রাম্প বলেন, "আমি আশা করি, চিন, ভারত, রাশিয়া এবং আমেরিকা- আমরা সবাই একসঙ্গে চলতে পারব ৷ এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ৷"

