পরা যাবে না জিন্স-লেগিংস ! বিতর্কিত পোশাক বিধি ফিরিয়ে নিল বাংলদেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক
দিন তিনেক আগে কর্মীদের জন্য পোশাক-বিধি আরোপ করেছিল ব্যাঙ্ক ৷ প্রবল বিতর্কের মুখে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে হল কর্তৃপক্ষকে ৷

By PTI
Published : July 24, 2025 at 7:46 PM IST
ঢাকা, 24 জুলাই: বিতর্কিত পোশাক-বিধি ফিরিয়ে নিল বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক ৷ ওই বিধি অনুযায়ী পুরুষ কর্মীদের জিন্স পরা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ৷ মহিলাদের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি ছিল খানিকটা বেশি ৷ তাঁদের শাড়ি থেকে শুরু করে সালোয়ার এবং হিজাব পড়ে অফিসে আসতে বলা হয়েছিল ৷ লেগিংসের মতো পোশাক পরার ক্ষেত্রে জারি হয়েছিল বিধিনিষেধ ৷
প্রবল চাপের মুখে দিন তিনেকের মধ্যেই সিদ্ধান্ত বদল করতে হল দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ককে ৷ গর্ভনর আহসান এইচ মনসুর বৃহস্পতিবার বিবৃতি জারি করে জানিয়েছেন, ব্যাঙ্কের কর্মীদের জন্য লাগু হওয়া পোশাক-বিধি অবিলম্বে ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে ৷ ঘটনার সূত্রপাত দিন তিনেক আগে ৷ ব্যাঙ্কের এইচআর বিভাগ থেকে কর্মীদের শালীন পোশাক পরার নির্দেশ দেওয়া হয় ৷ পুরুষদের পাশাপাশি মহিলা কর্মীরাও যাতে এই নিয়ম ভালোভাবে পালন করেন তার উপর বাড়তি জোর দেন ব্য়াঙ্কের কর্তাদের একটা বড় অংশ ৷ বিধি না মানলে সংশ্লিষ্ট কর্মীকে কড়া শাস্তির মুখেও পড়তে হবে বলে জানানো হয় ব্যাঙ্কের মানবসম্পদ উন্নয়ন দফতরের তরফে ৷ এই নির্দেশই ফিরিয়ে নেওয়া হল এদিন ৷
ব্যাঙ্কের কাজে আপাতত দেশের বাইরে আছেন গভর্নর ৷ তাঁর তরফে জারি করা বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, তিনি সংবাদমাধ্যম থেকে পোশাক-বিধি লাগু হওয়ার কথা জানতে পেরে বিরক্ত হয়েছেন ৷ অর্থাৎ তাঁর দাবি, তিনি এই সিদ্ধান্তের শরিক নন ৷ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকরা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে ঠিক করেন, কর্মীদের এমন পোশাক পরার নির্দেশ দেওয়া হবে যা প্রচলিত সামাজিক নিয়ম-কানুনের সঙ্গে মানানসই ৷ পাশাপাশি ওই ধরনের পোশাক পরলে শালীনতাও বজায় থাকবে ৷ কিন্তু এটা ব্যাঙ্কের কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত নয় ৷ আর তাই এ ব্যাপারে কোনও নির্দেশিকাও জারি হয়নি ৷ কিন্তু এখন থেকে পোশাক-বিধি আর কার্যকর থাকছে না ৷
2024 সালে ছাত্র আন্দোলনের হাত ধরে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদল হয় ৷ তারপর থেকে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে একাধিক নতুন নিয়ম শুরু হয়েছে ৷ বাংলাদেশের ব্যাঙ্কে পোশাক-বিধি সংক্রান্ত ফতোয়া জারির নেপথ্যে সেই ছায়াই দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন দেশের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ ৷
একই সঙ্গে পরিবর্তনের বাংলাদেশে চাকরি থেকে শুরু করে অন্য নানা ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে অবিচারের অভিযোগ উঠেছে ৷ যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে বারবার বলা হয়েছে, সংবিধান প্রদত্ত ক্ষমতা অনুযায়ী বাংলাদেশের সমস্ত নাগরিকই সমান ৷ সকলে একইরকম অধিকার ভোগ করেন ৷ কিন্তু সরকারের শীর্ষস্তরের আশ্বাসের পরও বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা একাধিকবার আক্রান্ত হয়েছেন ৷ এই কারণে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অস্বস্তিতেও পড়তে হয়েছে ইউনূস প্রশাসনকে ৷ প্রতিবাদে সরব হয়েছে দিল্লি ৷
হিন্দু-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সমস্ত রকম অধিকার এবং নিরাপত্তা দেওয়া যে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব তাও মনে করিয়েছে ভারত ৷ তবু সাম্প্রতিক অতীতে বাংলাদেশের সিরাজগঞ্জে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়িতে হামলা হয়েছে ৷ উপেন্দ্রকিশোর-সুকুমার এবং সত্যজিতের রায়ের বাড়ি ভাঙার দাবি উঠেছে ৷ যদিও বাংলাদেশ প্রশাসনের তরফে পরে একটি বিবৃতি জারি করে পাল্টা দাবি করা হয়েছে, যে বাড়িটি ভাঙা পড়েছে তার সঙ্গে রায় পরিবারের কোনও সম্পর্ক নেই ৷
দুর্নীতি-জালিয়াতি-দেশদ্রোহিতা ! গ্রেফতার হাসিনার আমলের প্রধান বিচারপতি

