20 ঘণ্টা ঘুমানোর পরেও থাকবে ঘুমের ইচ্ছা ! কী এই বিরল রোগ ?
স্লিপিং বিউটি সিনড্রোম, যা ক্লেইন-লেভিন সিনড্রোম নামেও পরিচিত ৷ একটি বিরল এবং রহস্যময় স্নায়বিক ব্যাধি । এই সিনড্রোম মূলত বয়ঃসন্ধিকালে শুরু হয় ৷

Published : February 8, 2025 at 3:11 PM IST
স্লিপিং বিউটি সিনড্রোম, যা ক্লেইন-লেভিন সিনড্রোম (KLS) নামেও পরিচিত ৷ এটি একটি বিরল স্নায়বিক ব্যাধি যার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি খুব ঘুম ঘুম অনুভব করেন এবং তাঁরা 20 ঘণ্টা বা তার বেশি সময় ধরে ঘুমাতে পারেন । যখন তাঁরা জেগে ওঠেন তখনও ক্লান্ত ও অলস বোধ করেন ৷ কোনও কিছুতে মনোযোগ দিতে অসুবিধা হতে পারে ।
কিছু ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি দিনে 20 ঘণ্টা পর্যন্ত ঘুমাতে পারে ৷ কিন্তু তবুও ঘুমানোর তীব্র ইচ্ছা থাকে । এই পরিস্থিতি কেবল শারীরিকভাবে ক্লান্তিকরই নয়, বরং মানসিক ও আবেগগতভাবে ব্যক্তিগত জীবনেও এর বিশাল প্রভাব পড়ে ।
এন আই এইচ-এর গবেষণা অনুযায়ী, এটি একটি বিরল ব্যাধি যা বারবার হাইপারসোমনিয়া এবং বিভিন্ন মাত্রায় হাইপারফ্যাগিয়া, জ্ঞানীয় ব্যাঘাত এবং হাইপারসেক্সুয়ালিটির দ্বারা চিহ্নিত করা হয় । এই রোগটি মূলত কিশোর-কিশোরীদের উপর প্রভাব ফেলে ৷ যদিও মহিলাদের ক্ষেত্রে পুরুষদের তুলনায় এই রোগের কোর্স দীর্ঘস্থায়ী হয় ।
স্লিপিং বিউটি সিনড্রোমের লক্ষণ (Sleeping Beauty Syndrome Symptoms):
স্লিপিং বিউটি সিনড্রোমের প্রধান লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ঘুম ৷ তবে এই সিনড্রোম কেবল ঘুমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় । অন্যান্য লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে মানসিক ভাবে অশ্বস্থি, বিভ্রান্তি, বিরক্তি এবং আচরণগত পরিবর্তন ।
কিছু মানুষের মধ্যে বৃদ্ধি (হাইপারফ্যাজিয়া) এবং যৌন আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি (হাইপারসেক্সুয়ালিটি)ও অনুভব করতে পারে । এছাড়াও রোগীরা প্রায়শই সামাজিক কার্যকলাপ থেকে সরে যান এবং তাদের চিন্তাভাবনাও প্রভাবিত হতে পারে ।
স্লিপিং বিউটি সিনড্রোমের কারণ ( Cause Of Sleeping Beauty Syndrome):
স্লিপিং বিউটি সিনড্রোমের সঠিক কারণ এখনও পুরোপুরি বোঝা যায়নি । তবে গবেষকরা মনে করেন এই সিনড্রোম মস্তিষ্কের কিছু অংশ যেমন হাইপোথ্যালামাস এবং থ্যালামাসের অস্বাভাবিকতার কারণে হতে পারে । এই অংশগুলি ঘুম, খিদে এবং আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে । কিছু ক্ষেত্রে এই সিনড্রোম সংক্রমণ, আঘাত বা মানসিক চাপের পরে শুরু হয় ৷ যা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে ব্যহত করে ৷
স্লিপিং বিউটি সিনড্রোমের রোগ নির্ণয়:
স্লিপিং বিউটি সিনড্রোম নির্ণয় করা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে কারণ এর লক্ষণগুলি অন্যান্য ঘুমের ব্যাধি বা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার মতো হতে পারে । ডাক্তাররা সাধারণত রোগীর লক্ষণ, চিকিৎসার ইতিহাস এবং শারীরিক পরীক্ষার উপর ভিত্তি করে রোগ নির্ণয় করেন । কিছু ক্ষেত্রে, ঘুমের মান এবং ধরণ অধ্যয়নের জন্য পলিসমনোগ্রাফির মতো পরীক্ষাও করা যেতে পারে ।
স্লিপিং বিউটি সিনড্রোমের চিকিৎসা:
স্লিপিং বিউটি সিনড্রোমের কোনও নির্দিষ্ট প্রতিকার নেই ৷ তবে কিছু চিকিৎসার বিকল্প রয়েছে যা লক্ষণগুলি উপশম করতে সাহায্য করতে পারে । মোডাফিনিলের মতো উত্তেজক ওষুধ অতিরিক্ত ঘুম কমাতে সাহায্য করতে পারে । অতিরিক্তভাবে, কিছু রোগীর ক্ষেত্রে মুড স্টেবিলাইজার এবং অ্যান্টি-ডিপ্রেসেন্ট লক্ষণগুলি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে । তবে এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসার বিকল্পগুলি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে ।
স্লিপিং বিউটি সিনড্রোমের প্রভাব:
স্লিপিং বিউটি সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তির জীবন ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হতে পারে । অতিরিক্ত তন্দ্রাচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য লক্ষণগুলির কারণে, রোগীরা প্রায়শই স্কুল, কাজ এবং সামাজিক কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করতে অক্ষম হন । এটি তাদের শিক্ষাগত এবং পেশাগত জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে । এই সিনড্রোম রোগীর পরিবার এবং বন্ধুদের জন্যও চ্যালেঞ্জিং হতে পারে ৷ কারণ তারা রোগীর অবস্থা বোঝার এবং তার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে ।
স্লিপিং বিউটি সিনড্রোমের সঙ্গে বেঁচে থাকা একটি চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা হতে পারে ৷ কিন্তু সঠিক সহায়তা এবং চিকিৎসার মাধ্যমে একজন ব্যক্তি এই অবস্থাটি পরিচালনা করতে পারেন । পরিবার এবং বন্ধুদের কাছ থেকে সহায়তা, সেইসঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাদারদের সাহায্য এই সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আরও ভালোভাবে বাঁচতে সাহায্য করতে পারে । এছাড়াও নিয়মিত ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করা উচিত এবং তার লক্ষণগুলি পর্যবেক্ষণ করা উচিত ।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য শুধুমাত্র ধারণা আর সাধারণ জ্ঞানের জন্যই লেখা হয়েছে ৷ এখানে উল্লেখিত কোনও পরামর্শ অনুসরণের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৷ যদি আগে থেকেই কোনও স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে থাকে, তা আগেই চিকিৎসককে জানাতে হবে ৷)

