ETV Bharat / health

রাতের খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে পারে, নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই বিষয় মাথায় রাখুন

আপনি কি জানেন যে রাতের খাবারের পরে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে ? খাবার খাওয়ার পরে নিয়ন্ত্রণে রাখার দিকে মনোযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ।

Health Tips
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের রাখার উপায় (Getty Image)
author img

By ETV Bharat Health Team

Published : July 12, 2025 at 4:52 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ৷ বিশেষ করে রাতের খাবার খাওয়ার পরে । রাতের খাবারের পরে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে পারে কারণ রাতে শারীরিক কার্যকলাপ কমে যায় এবং বিপাক ক্রিয়া ধীর হয়ে যায় ।

ব্লাড সুগার বা ব্লাড গ্লুকোজ শরীরে শক্তি জোগাতে এবং এর দৈনন্দিন কাজকে সমর্থন করার জন্য অপরিহার্য । ডায়েট, ব্যায়াম এবং জীবনধারার মতো বিষয়গুলি রক্তে শর্করার মাত্রা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । এছাড়াও ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি এড়াতে তাঁদের পর্যবেক্ষণ করা উচিত । যদি কোনও ব্যক্তির রক্তে শর্করার মাত্রা অত্যধিক বা ধারাবাহিকভাবে বেশি থাকে তাহলে তাদের তৃষ্ণা, ঝাপসা দৃষ্টি এবং মাথাব্যথার সমস্যা বেশি পরিমাণে হতে পারে ।

তাই রাতের খাবারের পর কিছু বিষয় মনে রাখা উচিত । জেনে নেওয়া দরকার রাতের খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণের কিছু কার্যকরী টিপস ৷

কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI)যুক্ত খাবার: আপনার রাতের খাবারে কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন । উচ্চ GI যুক্ত খাবার রক্তে শর্করার পরিমাণ দ্রুত বৃদ্ধি করে, অন্যদিকে কম GIযুক্ত খাবার ধীরে ধীরে হজম হয় এবং হঠাৎ করে চিনির মাত্রা বৃদ্ধি করে না ।

আপনার রাতের খাবারে সবুজ শাকসবজি (পালং শাক, ব্রকলি), ডাল, কিডনি বিন, গোটা শস্য (ওটস, ব্রাউন রাইস), বাদাম এবং বীজ অন্তর্ভুক্ত করুন । একইসঙ্গে, আটা, ভাত, মিষ্টি ফল (আম, কলা), প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং চিনিযুক্ত পানীয় খাওয়া এড়িয়ে চলুন ।

প্রোটিন এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খান: প্রোটিন এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার ধীরে ধীরে হজম হয়, যারফলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বৃদ্ধি পায় না । অতএব, আপনার খাদ্যতালিকায় প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন মুসুর ডাল, পনির, টোফু, ডিম, মাছ এবং চর্বিহীন মাংস এবং ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার যেমন- শাকসবজি, চিয়া বীজ, তিসি বীজ, ওটস, গোটা শস্য ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করুন ।

রাতের খাবারের পর হাঁটুন অথবা হালকা ব্যায়াম করা জরুরি: রাতের খাবারের পর 15-20 মিনিট হাঁটা বা হালকা স্ট্রেচিং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে । শারীরিক কার্যকলাপ ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করে এবং গ্লুকোজকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে । তাই যদি আপনি রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমান, তাহলে রাতের খাবার এবং ঘুমের মধ্যে কমপক্ষে 2 ঘণ্টার ব্যবধান রাখুন ।

চিনিমুক্ত এবং স্বাস্থ্যকর পানীয় বেছে নিন: রাতের খাবারের সঙ্গে বা পরে মিষ্টি পানীয় পান করা এড়িয়ে চলুন । পরিবর্তে, আপনি গ্রিন টি পান করতে পারেন । এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এবং ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করে । লেবুর জলও একটি ভালো বিকল্প । এটি ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ এবং রক্তে শর্করার স্থিতিশীল রাখে । মেথি বীজ রাতারাতি ভিজিয়ে রেখে সকালে বা রাতের খাবারের পরে পান করলেও চিনি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে ।

মানসিক চাপ কমাতে এবং ভালো ঘুম হতে সাহায্য় করে: মানসিক চাপ এবং ঘুমের অভাব রক্তে শর্করার মাত্রাকে প্রভাবিত করে । মানসিক চাপ কর্টিসল হরমোন বৃদ্ধি করে, যা চিনির মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে । তাই প্রতিদিন 10-15 মিনিট প্রাণায়াম বা অনুলোম-বিলোম করুন । এছাড়া, প্রতিদিন 7-8 ঘণ্টা গভীর ঘুম নিন, কারণ ঘুমের অভাব ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ।

https://www.ncbi.nlm.nih.gov/search/research-news/17034/

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য শুধুমাত্র ধারণা আর সাধারণ জ্ঞানের জন্যই লেখা হয়েছে ৷ এখানে উল্লেখিত কোনও পরামর্শ অনুসরণের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৷ যদি আগে থেকেই কোনও স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে থাকে, তা আগেই চিকিৎসককে জানাতে হবে ৷)

  1. সাবধান ! নখকে সুন্দর দেখাতে মাসের পর মাস নেলপলিশ ব্যবহার করছেন ? ভয়ঙ্কর বিপদের আশঙ্কা
  2. সারাদিন শরীরকে সক্রিয় রাখতে কী করবেন ? জানালেন ডায়েটিশিয়ান
  3. এই প্রাণীর শরীরে মিলেছে ভয়াবহ ভাইরাস, আজই সাবধান হয়ে যান
  4. প্রতিদিন কটা ডিম খেতে পারেন জানেন ? পুষ্টিবিদের কথা মেনে চলুন নাহলে বিপদ