মোবাইল ও ল্যাপটপের অতিরিক্ত ব্যবহারে পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে ! জেনে নিন এর আসল কারণ
দীর্ঘ সময় ধরে ফোন এবং ল্যাপটপের সংস্পর্শে থাকার ফলে পুরুষদের শুক্রাণুর সংখ্যা হ্রাস পেতে পারে।

Published : August 30, 2025 at 12:30 PM IST
দীর্ঘ সময় ধরে ফোন এবং ল্যাপটপের সংস্পর্শে থাকা পুরুষদের মধ্যে অ্যাজুস্পার্মিয়া (শুক্রাণুর অনুপস্থিতি) এবং অলিগোজুস্পার্মিয়া (শুক্রাণুর সংখ্যা কম) এর মতো সমস্যা দেখা গিয়েছে । বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে শুক্রাণুর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে এবং তাদের গতিশীলতাও হ্রাস পাচ্ছে ।
ল্যাপটপের চাপে ও তাপে এবং মোবাইলের বিকিরণে শুক্রাশয়ের হাল রীতিমতো খারাপ হয়ে যাচ্ছে । তাতে শুক্রাণুর সংখ্যা কমছে, বাড়ছে পুরুষ বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোন এবং ল্যাপটপ থেকে নির্গত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বিকিরণ অণ্ডকোষের তাপমাত্রা বৃদ্ধি করে, যা এই ক্ষতির কারণ হয় । গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাঁরা পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পকেটে মোবাইল রাখেন এবং ল্যাপটপ কোলে রেখে কাজ করেন তাঁদের প্রজনন ক্ষমতা প্রভাবিত হতে পারে ।

এই সমস্যা এখন গুরুতর হয়ে উঠছে: পুরুষদের ক্ষেত্রে শুক্রাণু উৎপাদনের অবস্থা অর্থাৎ শুক্রাণু উৎপাদন এবং শুক্রাণু সঞ্চয়ের অবস্থা অর্থাৎ এপিডিডাইমিস স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উষ্ণ হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, সুস্থ পুরুষদের মধ্যে শুক্রাণুর সংখ্যা প্রতি মিলিলিটারে 15 থেকে 200 মিলিয়ন হওয়া উচিত । এর চেয়ে কম শুক্রাণুর ক্ষেত্রে, বন্ধ্যাত্বের সমস্যা হতে পারে । শুক্রাণু স্বাভাবিক শরীরের তাপমাত্রার চেয়ে দুই থেকে তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস কম হওয়া উচিত ।
এটি প্রায় 33 থেকে 35 ডিগ্রি সেলসিয়াস হওয়া উচিত ৷ তাই এগুলি শরীরের বাইরে অণ্ডকোষে উৎপাদিত হয় । গবেষণায় দেখা গিয়েছে, 30 বছরের বেশি বয়সি যাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে ল্যাপটপ এবং মোবাইল ব্যবহার করেন তাদের মধ্যে শুক্রাণুর গতিশীলতা ও সংখ্যা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে ।

জীবনযাত্রার পরিবর্তন জরুরি: তরুণদের পরিবর্তিত জীবনধারা এবং মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার অনেক স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টি করছে । ইলেকট্রনিক গ্যাজেটের ব্যবহার মস্তিষ্ককে ক্লান্ত করে তুলছে ৷ চোখ দুর্বল করে দিচ্ছে এবং ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে । তরুণদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচকতা আনা প্রয়োজন যাতে তাঁরা সুস্থ থাকতে পারে ৷ এছাড়ও মানসিক ও শারীরিকভাবে সুস্থ থাকা ভীষণভাবে গুরুত্বপূর্ণ । অন্যথায়, ল্যাপটপ এবং মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্য সমস্যা বাড়তেই থাকবে ।
বিজ্ঞান মতে, প্রতিদিন প্রায় 12 কোটির বেশি শুক্রাণু তৈরি হয় শুক্রাশয়ে । শুক্রাণুর কোষের ভিতর থাকে মাইটোকনড্রিয়া, যা তার সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্যে প্রয়োজনীয় শক্তির উৎস তৈরি করে । শুধু ল্যাপটপ বা মোবাইল এরজন্য দায়া নয়, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রাও এর অন্যতম প্রধান কারণ ৷ যেমন- মদ্যপান, ধূমপান কিংবা মাদক সেবন শুক্রাণুর উৎপাদন প্রক্রিয়া বা স্পার্মাটোজেনেসিসের ক্ষতি করে । ফলে পুরুষদের বন্ধ্যত্বেj উপ মারত্বকভাবে প্রভাব তৈরি করে ৷
ল্যাপটপ-মোবাইল কীভাবে প্রভাব ফেলে পুরুষদের বন্ধ্যত্বে ?
শুক্রাশয়ের কার্যক্রম বরাবরই অন্যরকম । এই অঙ্গ শরীরের বাইরে থাকে বিশেষ কারণে । চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, শুক্রাশয়ের তাপমাত্রা শরীরের তাপমাত্রার চেয়ে 2-4 ডিগ্রি কম থাকে । সেটা থাকাই শরীরের জন্য কার্যকর । তাহলে শুক্রাণুর উৎপাদন স্বাভাবিক ভাবে হবে । সেই কারণেই শুক্রাশয় শরীরের ভিতরে থাকে না । চিকিৎসকদের মতে, শুক্রাশয়ের তাপমাত্রা যদি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে তাহলে শুক্রাণুর উৎপাদনে প্রভাব পড়বে ।

প্রজোনন ক্ষমতা বৃদ্ধির উপায়:
গোটা শস্যদানা খাওয়া ভালো ৷ এছাড়াও খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের পরিমাণ বাড়ানো প্রয়োজন ।
পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমানো ও মানসিক চাপ থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন ৷
অ্যালকোহল, সিগারেটের মতো নেশাজাতীয় দ্রব্য থেকে দূরে থাকুন ।
জিঙ্ক এবং ফলিক অ্যাসিড সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন ৷
অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের জন্য খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন ।
এই বিষয়গুলি মাথায় রাখা প্রয়োজন:
ল্যাপটপ ব্যবহার করার সময়, নীচে একটি কুশন বা প্যাড ব্যবহার করুন, যাতে এটি সরাসরি আপনার শরীরে প্রভাব না ফেলে ।
ল্যাপটপটি শরীর থেকে দূরে রেখে কাজ করুন । টেবিল ব্যবহার করা ভালো হবে ।
কোলে রেখে দীর্ঘ সময় ধরে মোবাইল ব্যবহার এড়াতে চেষ্টা করুন ।
পকেটে মোবাইল দীর্ঘ সময় ধরে রাখা এড়িয়ে চলুন ।
Source:
https://pmc.ncbi.nlm.nih.gov/articles/PMC4074720/
https://pmc.ncbi.nlm.nih.gov/articles/PMC12308857/
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য শুধুমাত্র ধারণা আর সাধারণ জ্ঞানের জন্যই লেখা হয়েছে ৷ এখানে উল্লেখিত কোনও পরামর্শ অনুসরণের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৷ যদি আগে থেকেই কোনও স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে থাকে, তা আগেই চিকিৎসককে জানাতে হবে ৷)

