সারাদিন শরীরকে সক্রিয় রাখতে কী করবেন ? জানালেন ডায়েটিশিয়ান
যদি আপনি সারাদিন সক্রিয় এবং উদ্যমী থাকতে চান, তাহলে সঠিক খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।

Published : July 12, 2025 at 10:52 AM IST
যদি আপনি সারাদিন উদ্যমী এবং সক্রিয় থাকতে চান, তাহলে কেবল ব্যায়াম করা যথেষ্ট নয়, তবে সঠিক খাবার খাওয়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । অতএব, দীর্ঘ সময় ধরে শরীরকে উদ্যমী রাখতে এবং ক্লান্তি রোধ করতে, কিছু বিশেষ সুপারফুড খাওয়া উপকারী ।
জিমে ওয়ার্কআউট করার পর কি আপনার ক্লান্তি লাগে ? ঘরের কাজকর্ম, সিঁড়ি বেয়ে ওঠা, এমনকি আপনার সন্তানের পিছনে দৌড়ানোর পর কি আপনার শ্বাসকষ্ট বা ক্লান্তি লাগে ? এইরকম সমস্যা হলে এটি কম স্ট্যামিনার কারণে হতে পারে । স্ট্যামিনা হল দীর্ঘ সময় ধরে যেকোনও শারীরিক বা মানসিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা । স্ট্যামিনা বাড়ানোর সঠিক উপায় অনুসরণ করলে আপনি যেকোনও কঠোর কার্যকলাপ এমনকি চাপের সঙ্গেও মানিয়ে নিতে পারবেন । এটি ক্লান্তি কমাতে সাহায্য করবে ৷ শরীরে স্ট্যামিনা বজায় রাখতে কিছু ফিটনেস রুটিনও মেনে চলতে পারেন ৷
ডায়েটিশিয়ান জয়শ্রী বণিকের মতে, ফিটনেস লেভেল বজায় রাখা প্রয়োজন: বিশেষজ্ঞরা জানান নিয়মিত ব্যায়ামের রুটিন অনুসরণ করলে মানসিক চাপের মাত্রা কমতে সাহায্য করে ও শরীরও সুস্থ থাকে ৷
শরীরকে বিশ্রাম দিন: কখনওই অতিরিক্ত পরিশ্রম করা উচিত নয়, তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া জরুরি । রাতে কমপক্ষে 7 ঘণ্টার বিশ্রামের ঘুম আপনাকে পুনরুজ্জীবিত বোধ করতে সাহায্য করবে ।

স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গ্রহণ করুন: স্বাস্থ্যকর খাবার এবং উন্নত স্ট্যামিনার মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে । স্ট্যামিনা বাড়ানোর অনেক টিপসের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ব্রেকফাস্ট বাদ দেওয়া উচিত নয় । আপনার বিপাক উন্নত করার জন্য আপনার দিনের প্রথম খাবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।

পর্যাপ্ত পরিমাণে জল গ্রহণ করুন: সারাদিনে পর্যাপত পরিমাণে জল খেলে শরীরকে হাইড্রেট রাখা সম্ভব ৷ শরীরও সারাদিন উদ্যমী থাকে ৷

কিছু খাবার কেবল শারীরিক শক্তিই বাড়ায় না, মানসিক সজাগতাও বজায় রাখে । জেনে নেওয়া প্রয়োজন কিছু সুপারফুড সম্পর্কে তথ্য দেওয়া হল, যা স্ট্যামিনা বাড়াতে সহায়ক হবে । জেনে নিন বিস্তারিত ৷
কলা: কলা একটি চমৎকার প্রাকৃতিক শক্তি বৃদ্ধিকারী । এতে প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন বি6 এর মতো পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যা শরীরকে তাৎক্ষণিক শক্তি দেয় এবং পেশী শক্তিশালী করে । ওয়ার্কআউটের আগে বা ব্রেকফাস্টের এটি খেলে সারাদিন শক্তি অক্ষুণ্ণ থাকে ।

ওটস: ওটস ধীরে ধীরে হজম হয়, যার ফলে এটি শরীরকে দীর্ঘ সময় ধরে শক্তিতে ভরপুর রাখে । এতে কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার এবং প্রোটিনও রয়েছে ৷ যা স্ট্যামিনা বাড়াতে এবং চিনির মাত্রা ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে ।

ডিম: ডিম উচ্চ প্রোটিন এবং অ্যামিনো অ্যাসিড সমৃদ্ধ, যা পেশী পুনরুদ্ধার এবং শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে । এতে উপস্থিত ভিটামিন বি12 এবং আয়রন শরীরে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ায়, যা ক্লান্তি কমায় ।

বাদাম এবং বীজ: বাদাম, আখরোট, চিয়া বীজ এবং ফ্ল্যাক্স সিডে প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যকর চর্বি, ওমেগা-3 ফ্যাটি অ্যাসিড এবং প্রোটিন থাকে ৷ যা দীর্ঘ সময় ধরে শরীরকে শক্তি প্রদান করে এবং স্ট্যামিনা বাড়ায় ।

পালং শাক: পালং শাক আয়রন এবং ম্যাগনেসিয়ামের একটি ভালো উৎস ৷ যা শরীরে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে ক্লান্তি দূর করে । এটি পেশীর ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহায়ক ।

মিষ্টি আলু: মিষ্টি আলু কার্বোহাইড্রেট এবং ফাইবার সমৃদ্ধ ৷ যা ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে এবং শরীরকে দীর্ঘ সময়ের জন্য সক্রিয় রাখে ।

গ্রিন টি: গ্রিন টিতে উপস্থিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বিপাক বৃদ্ধি করে এবং শরীরকে বিষমুক্ত করতে সহায়তা করে । এটি মানসিক সতেজতা এবং শারীরিক শক্তি বৃদ্ধিতে উপকারী ।

দই: দইতে প্রোবায়োটিক, প্রোটিন এবং ক্যালসিয়াম থাকে, যা হজমশক্তি উন্নত করে এবং শরীরকে হালকা ও উদ্যমী রাখে । এটি খেলে ক্লান্তি এবং অলসতা দূর হয় ।

ছাতু: ছাতু অনেকক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য় করে ৷

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য শুধুমাত্র ধারণা আর সাধারণ জ্ঞানের জন্যই লেখা হয়েছে ৷ এখানে উল্লেখিত কোনও পরামর্শ অনুসরণের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন ৷ যদি আগে থেকেই কোনও স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে থাকে, তা আগেই চিকিৎসককে জানাতে হবে ৷)

