ETV Bharat / entertainment

Exclusive: 'বিনা মেঘে বজ্রপাত ...!'- বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের স্মৃতিচারণায় 'মহালয়া'র শুভাশিস

বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের 120তম জন্মবার্ষিকীতে সেই চরিত্র পর্দায় ফুটিয়ে তোলার অভিজ্ঞতা ইটিভি ভারতে শেয়ার করেন অভিনেতা শুভাশিস ৷

subhasish-mukhopadhyay-remembers-birendra-krishna-bhadra-and-the-shoot-of-mahalaya-cinema
বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের স্মৃতিচারণায় শুভাশিস (ফাইল ছবি)
author img

By ETV Bharat Entertainment Team

Published : August 4, 2025 at 4:49 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

হায়দরাবাদ, 4 অগস্ট: সালটা 2019 ৷ পর্দার জন্য এক দুঃসাহসিক কাজ করে বসেন পরিচালক শমীক সেন (Soumik Sen) ৷ তিনি পর্দায় এমন এক ব্যক্তি চরিত্রকে তুলে ধরলেন যাঁকে ছাড়া মহালয়ার (Mahalaya) ভোর ভাবাই যায় না ৷ সিনেমার নাম মহালয়া ৷ স্বনামধন্য নাট্যকার, বেতার সম্প্রচারক, অভিনেতার বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের (Birendra Krishna Bhadra) চরিত্রে পর্দায় ধরা দেন অভিনেতা শুভাশিস মুখোপাধ্যায় (Subhasish Mukhopadhyay) ৷ বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের 120তম জন্মবার্ষিকীতে স্মৃতিচারণে অভিনেতা শুভাশিস ৷

প্রথম এই সিনেমার প্রস্তাব সম্পর্কে তিনি বলেন, "ওঁনার চরিত্রে অভিনয় করতে হবে এটা আমার কাছে ছিল অকল্পনীয় প্রস্তাব ৷ আমি আকাশবাণীর সঙ্গে বহুদিন ধরে যুক্ত, সেই 79-80 সাল থেকে ৷ কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য আমি কোনওদিন তাঁকে সামনে থেকে দেখতে পাইনি ৷ আমি যখন আকাশবাণীতে ঢুকি তখন বীরেন্দ্র কৃষ্ণ বাবু বেরিয়ে গিয়েছেন ৷ অদ্ভুতভাবে উনি আমার বাড়ির কাছেই থাকতেন ৷ ওঁনার বাড়ির সামনে দিয়ে হেঁটে যেতাম একবার দেখার সুযোগ যাতে পাই সেই লোভে ৷ কিন্তু সেটা কখনও সম্ভব হয়নি ৷"

তাঁর কথায়, "সেই সময় এত ছবি বেরোতো না ৷ বা তিনি কেমন, তাঁর ব্যক্তিগত পরিসর কেমন সেই সব জানা যেত না ৷ ফলে যখন সিনেমায় বীরেন্দ্র বাবুর চরিত্র করার প্রস্তাব এল তখন আমার কাছে সেটা ছিল আকাশ ভেঙে পড়ার মতো ৷ বিনা মেঘে বজ্রপাত ৷ পরিচালক শমীক বলেন, এই চরিত্র আমাকেই করতে হবে ৷ না হলে হবে না ৷ এটা আমার কাছে যেমন চ্যালেঞ্জের ছিল তেমনই স্বপ্নের ৷ তারপর আমি বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রকে নিয়ে স্টাডি শুরু করলাম ৷ এরপর আমি আকাশবাণীতে সেই সকল মানুষকে খুঁজতে থাকি যাঁরা বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রকে প্রত্যক্ষভাবে দেখেছেন, কাজ করেছেন ৷"

শুভাশিসের কথায়, "তাঁদের মধ্যে একজনকে পেলাম অজিত মুখোপাধ্যায় বলে একজন নাট্য-প্রযোজক ছিলেন ৷ সমরেশ ঘোষ বলে নাট্য-প্রযোজক ছিলেন ৷ তাঁরা কাজ করেছেন বীরেন্দ্র বাবুর সঙ্গে ৷ আর যাঁকে পেলাম তিনি হলেন জগন্নাথ বসু ৷ যিনি বীরেন বাবুর সিট অর্থাৎ আসনে এসে বসলেন ৷ তিনিই আমাকে বীরেন্দ্রবাবুকে জানতে প্রচুর সাহায্য করেছেন ৷ সেখান থেকেই জানতে পারি, উনি কীভাবে হাঁটতেন, কথা বলতেন ইত্যাদি ৷ সেই সব আমার সারা জীবনের সম্পদ ৷ স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী ও পরিচালকের নির্দেশ অনুযায়ী পর্দায় ফুটিয়ে তুলি ৷ এটা আমার কাছে পরম প্রাপ্তি ৷" অভিনেতা বলতে থাকেন, "কর্ণের মধ্য দিয়া মর্মে পৌঁছানোর মতো ছিল বীরেন্দ্র বাবুর কণ্ঠস্বর ৷ মহালয়ার ভোরে যতক্ষণ না ওঁনার কণ্ঠে চণ্ডীপাঠ শুনছি মনেই হত না পুজো শুরু হচ্ছে ৷ ওঁনার স্তোত্রপাঠ ছাড়া দুর্গাপুজো যেন সম্পন্ন হয় না ৷"

শুভাশিস আরও একটা বিষয়ে আলোকপাত করেন বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের মহালয়া নিয়ে ৷ তিনি বলেন, "জানি না, সবার ক্ষেত্রে হয় কি না ৷ ওঁনার কণ্ঠে মহালয়া শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়া ৷ রেডিয়োতে মহালয়া চলছে আর সেটা শুনতে শুনতে ঘুম এসে যাওয়া ৷" তার মানে কী বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের মহালয়া ঘুমপাড়ানি বিষয় ? না, সেটাও অভিনেতা পরিষ্কারভাবে খোলসা করলেন ৷

তাঁর কথায়, "ওঁনার কণ্ঠে মহালয়া শুনতে শুনতে একটা আবেশ, একটা আমেজ, একটা বিভোরতা তৈরি হয় ৷ এক স্বর্গীয় অনুভূতি নিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দেয় ৷ চোখ বন্ধ করে শুনছি ৷ তারপর যেন কখন ঘুমিয়ে পড়েছি ৷ রেডিয়ো বেজে চলেছে আপন মনে ৷" মহালয়া সিনেমাতে 1976 সালের ঐতিহাসিক দিনের কথাও তুলে ধরেন পরিচালক শমীক ৷ যেদিন মহানায়ক উত্তম কুমারের ওপর রাগে ফুঁসছিলেন আপামর বঙ্গবাসী ৷ কারণ ওই একটি বছর আকাশবাণীতে দেবীপক্ষের সূচনা লগ্নে উত্তম কুমারের কণ্ঠে শোনা গিয়েছিল 'দেবী দুর্গতিহারিণী' ৷

সিনেমায় উত্তম কুমারের ভূমিকায় নজরে আসেন যীশু সেনগুপ্ত ৷ বিতর্কিত সেই দিনের কথা প্রসঙ্গে শুভাশিস বলেন, "জগন্নাথদার কাছ থেকে শোনা সেদিন আকাশবাণীর সামনে বারান্দায় তাঁরা দাঁড়াতে পর্যন্ত পারছিলেন না ৷ সকাল বেলা লোকে গঙ্গাস্নানে যাচ্ছে, কী কাজে যাচ্ছে, আকাশবাণীর সামনে গালিগালাজ করতে করতে যাচ্ছে ৷ আকাশবাণীর সামনে রেডিয়ো ছুঁড়ে ভাঙচুর করেছে ৷ আর শুধু কলকাতায় নয়, গোটা পশ্চিমবঙ্গে প্রবল প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছিল ৷ তারপরে বাধ্য হয়ে ষষ্ঠীর দিন বোধ হয় বীরেন বাবুর অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয় ৷ এমনটাই রেডিয়োতে ছিল বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের মহালয়ার ম্যাজিক ৷"