সৌমিত্রর সঙ্গে সিনেমায় সংসার সত্যজিতের, 'ঘরে বাইরে' চলতে থাকে দীর্ঘ 'অভিযান'...
পরিচালক সত্যজিৎ রায় ও অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় জুটি বাংলার সিনেমায় এনেছে সোনার অধ্যায় ৷ এই জুটি একসঙ্গে কতগুলি ছবি করেছেন জানেন ?

By ETV Bharat Entertainment Team
Published : May 2, 2025 at 10:30 AM IST
হায়দরাবাদ, 2 মে: বাংলা সিনেমার স্টলওয়ার্ট পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের আজ 104তম জন্মদিন ৷ সিনেমার প্রতি তাঁর প্যাশন বা ভালোবাসা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না ৷ তবে তাঁর জন্মদিনে মনে করতেই হয় অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের নাম ৷ সত্যজিৎ-সৌমিত্র জুটি বাংলা সিনেমায় অমর ৷ অনেকেই বলেন, সৌমিত্র নাকি পরিচালকের পছন্দের অভিনেতা ছিলেন ৷ অপুর সংসার থেকে শাখা প্রশাখা, এই জুটি একসঙ্গে উপহার দিয়েছে 14টি সিনেমা ৷ সত্যজিৎ রায়ের 104তম জন্মবার্ষিকীতে ফিরে দেখা যাক এই জুটির সেরা 10টি সিনেমা ৷
অপুর সংসার- বাঙালি দর্শকদের কাছে আইকনিক চরিত্র অপু ৷ দ্য অপু ট্রিলজির তৃতীয় ভাগে পরিচালক সত্যজিৎ দর্শকদের সামনে আনেন সুদর্শন এক পুরুষকে ৷ বাংলা সিনেমার স্বর্ণযুগে তখন উত্তম অধ্যায় ৷ সেই সময় দর্শক পেল অপু আর অপর্ণাকে ৷ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও শর্মিলা ঠাকুর ৷ চাকরিহারা গ্রাজুয়েট ছেলে অপুর লেখার প্রতি প্রবল ঝোঁক ৷ নিজের জীবনকে কেন্দ্র করে লিখতে চায় উপন্যাস ৷ তারপর…. ইতিহাস ৷ 1959 সালে এই ছবির ঝুলিতে আসে জাতীয় পুরস্কার ৷ আসে একাধিক আন্তর্জাতিক পুরস্কারও ৷
দেবী- অপুর সাফল্যের পর সৌমিত্র দ্বিতীয়বার জুটি বাঁধেন দেবী ছবিতে ৷ অভিনেত্রী হিসাবে ফিরে আসেন সেই শর্মিলা ঠাকুর ৷ 1960 সালে মুক্তি পাওয়া দেবী প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের ছোট গল্প অবলম্বনে তৈরি ৷ দয়াময়ী চরিত্রে শর্মিলার অভিনয় গায়ে কাঁটা দেয় ৷
অভিযান- 1962 সালে মুক্তি পায় সৌমিত্র-সত্যজিতের আরও এক মাস্টারপিস অভিযান ৷ ট্যাক্সি ড্রাইভার নরসিংহের চরিত্রে দেখা যায় সৌমিত্রকে ৷ নরসিংহ ছিলেন গর্বিত রাজপুত ৷ তিনি তার গাড়িকে ভীষণ ভালোবাসতেন ৷ জানা যায়, তার চরিত্রটি মার্টিন স্করসেসির 1976 সালের 'ট্যাক্সি ড্রাইভার' (১৯৭৬) চলচ্চিত্রে নিন্দুক ক্যাব ড্রাইভার ট্র্যাভিস বিকলের (রবার্ট ডি নিরো অভিনীত) চরিত্রের সরাসরি প্রভাব ফেলেছিল। স্করসেজি নিজেই সত্যজিৎ রায়কে তার কাজের উপর একটি বড় প্রভাব হিসেবে কৃতিত্ব দিয়েছেন।
চারুলতা- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নষ্টনীড় গল্প অবলম্বনে সত্যজিৎ রায় বানান চারুলতা ৷ 1964 সালে বইয়ের পাতা থেকে গল্পের প্রতিটা চরিত্র জীবন্ত করে তোলেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায় ও শৈলেন মুখোপাধ্যায় ৷ 15তম বার্লিন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে এই ছবির হাত ধরে সত্যজিৎ রায় পুরস্কৃত হন সিলভার বিয়ার ফর বেস্ট ডিরেক্টর পুরস্কারে ৷
অরন্যের দিন রাত্রি- সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের অ্যাডভেঞ্চার ড্রামা অরন্যের দিন রাত্রি পর্দায় তুলে ধরেন পরিচালক সত্যজিৎ ৷ সমাজের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষিত চারবন্ধু বেড়াতে যায় ৷ আদিবাসী সমাজের মধ্যে থেকে এক অন্য উত্তরণ এই ছবির মূল ইউএসপি ৷ ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রের নাম ছিল অসীম ৷ এছাড়াও মুখ্য ভূমিকায় দেখা যায়, শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়, সমীত ভঞ্জ, রবি ঘোষ, পাহাড়ী স্যান্যাল, শর্মিলা ঠাকুর, সিমি গেরেওয়াল ও অপর্ণা সেনকে ৷
সোনার কেল্লা- সৌমিত্র-সত্যজিতের আরও এক মাস্টারপিস সোনারকেল্লা ৷ পর্দায় আত্মপ্রকাশ ঘটে গোয়েন্দা ফেলুদার ৷
জয় বাবা ফেলুনাথ- সত্যজিৎ রায়ের রেখা ফেলুদার একাধিক গল্প বড় পর্দায় এসেছে ৷ জয় বাবা ফেলুনাথ পরিচালনা করেন সত্যজিৎ স্বয়ং ৷ ফেলুদার মগজাস্ত্রের ধার দেখে মুগ্ধ হন আপামর দর্শক ৷ বাঙালি পায় বাংলার নিজস্ব শার্লক হোমস ৷
ঘরে বাইরে- 1983 সালে মুক্তি পায় সত্যজিৎ রায়ের রোমান্টিক ড্রামা ঘরে বাইরে ৷ নিখিলেশের চরিত্রে ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায় অসামান্য ৷ এই ছবি করার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হন পরিচালক ৷ এই ছবি অবশেষে শেষ করেন সত্যজিৎ রায়ের ছেলে সন্দীপ রায় ৷ 1984 সালে কান ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পাম ডি'ওর পুরস্কার জয়ের প্রতিযোগিতায় ছিল এই ছবি ৷ বেস্ট ফিচার ফিল্ম বিভাগে ছবির ঝুলিতে আসে জাতীয় পুরস্কারও ৷
কাপুরুষ- অমিতাভ রায়ের চরিত্রে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অভিনয় মনে রাখার মতো ৷ স্ক্রিপরাইটার চরিত্রে সৌমিত্রকে নিয়ে পরিচালক সত্যজিৎ উপহার দেন অনবদ্য এক সিনেমা ৷
শাখা প্রশাখা- একটা বাঙালি পরিবারে চার প্রজন্ম একসঙ্গে ৷ যার মধ্যে মূল ফোকাল তৃতীয় প্রজন্মের ওপর ৷ এই ছবিতে বাখ এবং বিথোভেনের কিংবদন্তি অর্কেস্ট্রার অসাধারণ ব্যবহার দেখানো হয়েছে। এই ছবির মানসিক ভারসাম্যহীন চরিত্রে দেখা যায় সৌমিত্রকে ৷ সিনেমায় তাঁর চরিত্রের নাম ছিল প্রশান্ত মজুমদার ৷

