ETV Bharat / entertainment

আমার মায়ের কাছে রোম্যান্টিক হিরো মানে উত্তম কুমার: পৌলমী বসু

পৌলমীর কথায়, "একবার বাবা আর উত্তম জেঠু মর্নিং ওয়াক করছেন আর বুড়ো কাকু গাড়িতে ঘুমাচ্ছেন। অথচ ওঁরা বুড়ো কাকুকেই রোগা করানোর জন্য হাঁটতে নিয়ে গিয়েছিলেন।"

poulami-bose-reacts-about-comparison-uttam-kumar-with-soumitra-chatterjee
কে বড় অভিনেতা, উত্তম নাকি সৌমিত্র? (Special Arrangement)
author img

By ETV Bharat Entertainment Team

Published : September 10, 2025 at 2:54 PM IST

4 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 10 সেপ্টেম্বর: ঘটি বনাম বাঙাল, মোহনবাগান বনাম ইস্টবেঙ্গল, ইলিশ বনাম চিংড়ির চিরকালীন যে বিভেদ, সেই তালিকায় আছে উত্তম বনাম সৌমিত্রর নামও। বিভেদ, প্রতিযোগিতা এঁদের নিজেদের মধ্যে না থাকলেও ছিল তাঁদের ভক্তদের মধ্যে। কে বড় অভিনেতা, উত্তম নাকি সৌমিত্র? এই নিয়ে প্রশ্ন, বিতর্ক আজও মুখে মুখে। সব প্রজন্মের মানুষই এই নিয়ে মৌখিক লড়াইয়ে সামিল হয়ে পড়েন। বিষয়টাকে কীভাবে দেখেন সৌমিত্র কন্যা পৌলমী বসু?

ইটিভি ভারতকে পৌলমী বলেন, "আমার ভীষণ মজা লাগে। তবে, যখন ছোট ছিলাম তখন রাগ হত খুব। ভাবতাম কেন লোকে এরকম করে? আমাদের বাড়িতে তো এই নিয়ে কথা হয় না কখনও। আর আমার মা তো ভীষণ উত্তম কুমার ফ্যান ছিলেন। মহানায়ককেই সেরা রোম্যান্টিক হিরো বলতেন। আর বাবাকে বলতেন, তুমি ঠিক রোম্যান্টিক নও। কেমন যেন আড়ষ্টতা তোমার মধ্যে। বাবা তাতে কিন্তু একটুও রাগতেন না।"

পৌলমী বলেন, "উত্তম জেঠুর ভুবন ভরানো হাসিতে আমার মা গলে যেতেন। বাবা তাতে এতটুকু রাগতেন না। উলটে মজা করে বলতেন, ' হ্যাঁ, তোমার তো একজনই রোম্যান্টিক হিরো।' বাবা ভীষণ বাস্তববাদী মানুষ ছিলেন। উত্তম জেঠুর সঙ্গে নিজেকে কোনওদিন তুলনা করেননি। একের অপরের প্রতি দায়িত্বও ছিল মারাত্মক। একবার এক জায়গায় গিয়ে দুজনেই খানাপিনা করেছেন। সেদিন পিনাটা একটু বেশিই হয়ে গিয়েছিল। আর বাবা তখন নতুন গাড়ি কিনেছেন। নিজেই ড্রাইভ করেন।"

তিনি বলতে থাকেন, "উত্তম জেঠুর গাড়িটা থাকতেও উত্তম জেঠুকে গাড়ি চালিয়ে বাড়ি পৌঁছবেন বলে নিজের গাড়িতে তুলেছিলেন। উত্তম জেঠু বারবার বাবাকে নাকি সেদিন বারণ করেন গাড়ি চালাতে। বলেন, 'আমি ড্রাইভ করে নিয়ে যাচ্ছি'। বাবাও নাছোড়বান্দা। কিছুতেই ছাড়েননি স্টেয়ারিং। গাড়ি চালাতে চালাতে বাবা দেখতে পেয়েছিলেন উত্তম জেঠুর নিজের গাড়িটা তাঁদের ফলো করছে। সেদিন বাবাকে আমাদের বাড়িতে নামিয়ে তারপর উত্তম জেঠু নিজের গাড়িতে করে বাড়ি ফেরেন। এই রকম ছিল একের প্রতি অন্যের দায়িত্ববোধ। কেউ কারোকে একা ছাড়তে চাননি সেদিন।"

সৌমিত্র কন্যার কথায়, "মানুষ যেমন ইস্টবেঙ্গল- মোহনবাগান, চিংড়ি- ইলিশে বিভেদ করে তেমনি উত্তম-সৌমিত্র নিয়েও বিভেদ করে। আগে রাগ হলেও এখন মজা লাগে। তবে কি, আমাদের বাড়িতে উত্তম কুমার ছিলেন উত্তম জেঠু। কেননা আমার পিসেমশাই রঞ্জিৎ সিনহা মোহনবাগানের হয়ে খেলতেন। তাঁর বন্ধু ছিলেন উত্তম জেঠু ৷ ওদের একটা গ্রুপ ছিল যারা বসুশ্রীতে আড্ডা মারত। মন্টু জেঠু, উত্তম জেঠু, আমার পিসেমশাইয়ের সেই আড্ডায় আমার বাবাও জড়ো হতেন মাঝে মাঝে। পারিবারিক সম্পর্ক ছিল আমাদের মধ্যে। তরুণ কুমার আমার বাবার খুব ভালো বন্ধু ছিলেন। আমার খুব মনে পড়ে একবার বাবা আর উত্তম জেঠু মর্নিং ওয়াক করছেন আর বুড়ো কাকু গাড়িতে ঘুমাচ্ছেন। অথচ সেদিন ওঁরা বুড়ো কাকুকেই রোগা করানোর জন্য হাঁটতে নিয়ে গেছিলেন। কিন্তু বুড়ো কাকু ঘুমালেন আর বাবা, উত্তম জেঠু হাঁটলেন।..."

স্মৃতির সরণীতে আরও কত কথা ভেসে আসে পৌলমীর মনে ৷ তিনি আরও বলেন, "আমাদের পারিবারিক বন্ধুত্ব ছিল। তাস খেলতে গিয়ে বাবা খুব চোট্টামি করতেন। আর গৌরী জেঠিমা একবার আমার বাবাকে নাকি তাড়া করেছিলেন, মেরেই ফেলবেন বলে। তো এরকম সম্পর্ক ছিল আমাদের। কোনওদিনই প্রতিযোগিতা চোখে পড়েনি। এই পরিবারের প্রতি আমার অনেক ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা রয়েছে। ওই পরিবারটা যে কী ভালো তা আমি বলে বোঝাতে পারব না। আমার ছেলের যখন অ্যাক্সিডেন্ট হয় গৌরব (উত্তম পৌত্র) হাসপাতালে এসেছে একাধিকবার। পাশে বসে থেকেছে আমার ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ওর এই দায়িত্ববোধ, ভালোবাসা আমি ভুলব না কখনও। আশীর্বাদ করি গৌরব অনেক বড় হোক। এই পরিবারটা আমার কাছে অনেককিছু। অনেককিছু শেখার আছে ওঁদের থেকে। আর একটা পরিবার আমার খুব আপন, সত্যজিৎ রায়ের পরিবার। এই পরিবারটার কাছে আমি অনেককিছু শিখেছি, আজও শিখি।"

পৌলমী সবশেষে বলেন, "খুব কাছ থেকে উত্তম জেঠুকে দেখার সুযোগ হয়েছে। আমাদের বাড়িতেই দেখেছি। আমাকে আর আমার দাদাকে কোনও পার্টি বা সিনেমা সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে নিয়ে যাওয়া হত না। চমকে ওঠার মতো হ্যান্ডসাম ছিলেন উত্তম জেঠু। ওঁর অভিনীত খুব কম ছবি যা আমরা দেখিনি।"