ছুরি হাতে মীনা কুমারির সামনে ডাকাত দলের নেতা ! সেই যাত্রায় কোনওক্রমে...
মধ্যরাতে, প্রায় এক ডজন ডাকাত তাঁদের গাড়ি ঘিরে ধরে। ডাকাতদল মীনা ও তাঁর স্বামী কমলকে গাড়ি থেকে নামতে বলে ৷

By ETV Bharat Entertainment Team
Published : August 1, 2025 at 11:20 AM IST
হায়দরাবাদ, 1 অগস্ট: ছয় ও সাতের দশকে অভিনয় এবং সৌন্দর্য দিয়ে মানুষের মন জয় করা অভিনেত্রী মীনা কুমারীর প্রতি মানুষ এখনও পাগল। 'ট্র্যাজেডি কুইন' নামে খ্যাত মীনা কুমারির আসল নাম মাহজাবীন বানো। জানা যায়, আর্থিক সংকটের কারণে, মীনা কুমারির বাবা অর্থ উপার্জনের জন্য মেয়েদের ঘর থেকে বের করে দিয়েছিলেন। এরপর মীনা ও তাঁর দুই বোন শিশুশিল্পী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। মীনা কুমারির 92তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে নিয়ে রইল অজানা নানা কাহিনি ৷
ডাকাত দলের খপ্পরে
শোনা যায়, মধ্যপ্রদেশে একবার ডাকাতদের কবলে পড়েছিলেন অভিনেত্রী ৷ কিন্তু মজার বিষয়, অভিনেত্রীকে দেখার পর ডাকাতদল তাঁর কাছ থেকে অটোগ্রাফ চায় ৷ এরপর ডাকাতদের হাতে থাকা তীক্ষ্ণ ছুরির ফলা দিয়ে অটোগ্রাফ দিয়েছিলেন মীনা কুমারি। বিনোদ মেহতার লেখা অভিনেত্রীর জীবনী 'মীনা কুমারী-এ ক্লাসিক বায়োগ্রাফি'তে এই ঘটনার উল্লেখ রয়েছে ৷ সেই বই থেকে জানা যায়, কমল আমরোহি (মীনা কুমারীর স্বামী এবং চলচ্চিত্র প্রযোজক) প্রায়শই বাইরে শুটিংয়ের জন্য দুটি গাড়িতে যেতেন। একবার দিল্লি যাওয়ার সময়, মধ্যপ্রদেশের শিবপুরীতে তার গাড়িতে পেট্রোল ফুরিয়ে যায়।
আমরোহি মীনা কুমারীকে বলেছিলেন যে রাস্তায় গাড়িতে রাত কাটাবেন তাঁরা। তিনি জানতেন না যে এটি ডাকাতদের এলাকা। মধ্যরাতে, প্রায় এক ডজন ডাকাত তাঁদের গাড়ি ঘিরে ধরে। ডাকাতদল মীনা ও কমলকে গাড়ি থেকে নামতে বলে ৷ এরপর কামাল আমরোহি গাড়ি থেকে নামতে অস্বীকার করেন ৷ জানান, ডাকাতদের গাড়ির মধ্যে দেখা করতে আসতে হবে৷
কিছুক্ষণ পর, সিল্কের পায়জামা-শার্ট পরা একজন লোক কমলের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করেন, "আপনি কে?" আমরোহি উত্তর দেন, "আমি কামাল এবং আমি এই এলাকায় শুটিং করছি। আমাদের গাড়ির পেট্রোল ফুরিয়ে গিয়েছে।" ডাকাতরা ভেবেছিল শুটিং মানে তারা রাইফেল-গুলির কথা বলছে। কিন্তু যখন তাদের বলা হয় যে এটি একটি ছবির শুটিং এবং মীনা কুমারীও অন্য গাড়িতে বসে আছেন, তখন সমস্ত ডাকাতদের মনোভাব বদলে যায়।
ডাকাতদের নেতা তাৎক্ষণিকভাবে সকলের জন্য থাকার ও খাবারের ব্যবস্থা করেছিলেন। সকালে যখন মীনা কুমারী দলবল নিয়ে সেখান থেকে চলে যাচ্ছিলেন, তখন ডাকাতদের নেতা মীনা কুমারীর সামনে ধারালো ছুরি তুলে ধরে ৷ যা দেখে ভয় পেয়ে যান অভিনেত্রী ৷ কিন্তু ডাকাত দলের নেতা সে ধারালো ছুরি হাতে রেখে অটোগ্রাফ চায় ৷ কোনওভাবে মীনা কুমারী অটোগ্রাফ দেন। পরের শহরে যাওয়ার পর, তিনি জানতে পারেন যে তিনি হলেন অমৃত লাল, সেই সময়ের মধ্যপ্রদেশের একজন বিখ্যাত ডাকাত। সেই যাত্রায় যেন ভাগ্যের জোরে ডাকাত দলের হাত থেকে বেঁচেছিলেন মীনা কুমারি ও তাঁর স্বামী ৷
মীনা কুমারির প্রেম
মীনা কুমারি তার জীবনে অনেকবার প্রেমে পড়েছেন। মীনা প্রযোজক, পরিচালক এবং লেখক কামাল আমরোহিরও প্রেমে পড়েন ৷ 1952 সালে মীনা কুমারী পরিচালক কামাল আমরোহিকে বিয়ে করেন ৷ কিন্তু সেই বিয়ে বেশিদিন টিকেনি। সেই সব অন্দরমহলে কান পাতলে শোনা যায়, মীনা নাকি গুলজারের প্রেমে পড়েছেন ৷ পরবর্তী সময়ে অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর সঙ্গেও নাম জড়ায় মীনার ৷
1965 সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'পূর্ণিমা' ছবিতে ধর্মেন্দ্র এবং মীনা কুমারীকে প্রধান চরিত্রে দেখা যায় ৷ ধর্মেন্দ্রের সরলতা ও ব্যবহার মুগ্ধ করেছিল মীনা কুমারীকে ৷ সেই সময় মীনা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে খুব খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। 'সাহেব, বিবি অউর গোলাম' ছবির পর, তিনি মদ্যপানে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। শোনা যায়, শুটিংয়ের পর মেকআপ রুমে মীনা কুমারি এবং ধর্মেন্দ্র ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্প করতেন। মীনা নাকি তাঁর সমস্ত কষ্ট ধর্মেন্দ্রের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন।
সেরা অভিনেত্রী হিসাবে মীনা কুমারির জিতেছেন চারবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার ৷ 1954 সালে 'বৈজু বাওরা' ছবির জন্য তিনি প্রথম ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান ৷ দ্বিতীয় ফিল্মফেয়ার জেতেন 1955 সালে 'পরিণীতা' ছবির জন্য। 'কুমারী দশম' অভিনেত্রীর ঝুলিতে এনে দেয় তৃতীয় ফিল্মফেয়ার পুরস্কার ৷ সালটা 1963 ৷ মীনা কুমারির অন্যান্য সফল ছবির তালিকা অগন্তী ৷ তার মধ্যে উল্লেখ্য 'দো বিঘা জমিন' (1953), 'দিল আপনা অর প্রীত পরাই' (1960), 'আরতি' (1962), 'ম্যায় চুপ রহুঙ্গি' (1962), 'দিল এক মন্দির' (1963), 'ফুল অউর পাথ্থর' (1966) এবং 'মেরে আপনে' (1971), পাকিজা, কাজল। 31 মার্চ 1972 সালে মাত্র 38 বছর বয়সে লিভার সিরোসিসের কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রখ্যাত অভিনেত্রী মীনা কুমারী ৷

