ETV Bharat / entertainment

Exclusive: প্ল্যাটফর্মে সবার সামনে কান ধরে ওঠবোস... ! এমনও দিন গেছে অভিনেতা চন্দনের !

চন্দনের কথায়, "অভিনেতা হতে গেলে নির্লজ্জ হতে হবে ৷" ইটিভি ভারতের প্রতিনিধি নবনীতা দত্তগুপ্তের সঙ্গে মন খোলা আড্ডা অভিনেতার ৷

exclusive-chandan-roy-sanyal-talks-about-upcoming-movie-dear-maa-bollywood-journey-and-future-planning
অভিনেতা চন্দন রায় সান্যাল (ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Entertainment Team

Published : July 12, 2025 at 2:39 PM IST

7 Min Read
Choose ETV Bharat

কলকাতা, 12 জুলাই: অপেক্ষাটা প্রায় 10 বছরের ৷ বাংলায় ছবি বানালেন 'অনুরনণ', 'অন্তহীন', 'পিঙ্ক', 'কড়ক সিং' পরিচালক অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরী (Aniruddha Roy Chowdhury) ৷ 18 জুলাই মুক্তির পথে 'ডিয়ার মা' (Dear Maa) ৷ মা-মেয়ের ভালোবাসা, নিজেদের খুঁজে পাওয়ার গল্প বলে এই সিনেমা ৷ মুখ্যচরিত্রে জয়া আহসান (Jaya Ahsan), চন্দন রায় সান্যাল (Chandan Roy Sanyal), ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায় ও শাশ্বত চট্টোপাধ্যায় (Saswata Chatterjee) ৷

এই সিনেমায় জয়া এহসানের সঙ্গে দাম্পত্য জুটি বেঁধেছেন মুম্বইয়ের জনপ্রিয় বং অভিনেতা চন্দন রায় সান্যাল। দিল্লিতে জন্ম এবং বেড়ে ওঠা চন্দনের। আর কর্মসূত্রে এখন মুম্বইতেই তাঁর বসবাস। অঙ্ক নিয়ে স্নাতক। আর তারপরে কিছুদিন প্রাইভেট টিউশন। এর সঙ্গেই চলছিল নাটক দেখা এবং নাটকে অভিনয় করা। অভিনয়ের প্রতি অমোঘ টান তাঁকে নিয়ে যায় মঞ্চে। 'ডিয়ার মা' সিনেমায় চন্দনের চরিত্র কেমন ? অভিনেতা জানান, " 'ডিয়ার মা'তে আমি হলাম 'ডিয়ার ফাদার'। বাচ্চা মেয়েটার বাবার রোল করেছি আমি। আমার চরিত্রের নাম অর্ক। সে একটা কর্পোরেটে চাকরি করে। সে বাচ্চা চায়। বউকে রাজি করায় বাচ্চা দত্তক নিতে। বাকিটা জানতে হলে তো ছবিটা দেখতে হবে।"

পর্দায় জয়ার সঙ্গে প্রথম কাজ। সহ অভিনেত্রী প্রসঙ্গে চন্দন বলেন, "জয়ার সঙ্গে কাজ করে খুব ভালো লাগল। খুব সহজ একজন মানুষ। আমাদের যে সব দৃশ্য আছে তাতে বন্ধুত্ব হওয়াটা খুব দরকার ছিল। আমরা ওয়ার্কশপ করেছি একসঙ্গে। তখনই আলাপ জমে। আমরা কেউ আগে একে অপরকে চিনতাম না। ফলে, ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করতে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব হওয়াটা দরকার ছিল। একটা কাপলের কেমেস্ট্রি যদি ঠিকমতো তুলে ধরতেই না পারি তা হলে সেটা ভালো হবে না। টনি (অনিরুদ্ধ রায়চৌধুরী) দাও বলেছিল একে অপরকে চেনো, গল্প করো, আড্ডা মারো। আমরাও সেই মতো ঘুরেছি, খেয়েছি, আড্ডা মেরেছি। অনেক সহজ হয়ে গিয়েছিলাম একে অপরের সঙ্গে। ফলে আর অসুবিধা হয়নি।"

সিনে পর্দায় অভিনেতা চন্দনের উজ্জ্বল উপস্থিতি দর্শককে মুগ্ধ করে। 'রং দে বাসন্তী' থেকে 'কামিনে', 'ফালতু', 'গণেশ টকিজ', 'অপরাজিতা তুমি', 'উড়ো জাহাজ', 'রক্ত রহস্য', 'বাঙ্গিস্তান', 'জাজবা' - হিন্দি, বাংলা মিলিয়ে চন্দন রায় সান্যালের ছবির সংখ্যা অগণিত। ওয়েব সিরিজের সংখ্যাও কম নয়। 'আশ্রম', 'ভ্রম', 'চার্লি চোপড়া'-সহ আছে একগুচ্ছ ওয়েব সিরিজ।

ইটিভি ভারত: বছরে মাত্র একটা করে বাংলা ছবি করেন কেন?
চন্দন: বাংলা থেকে তো কেউ ডাকেই না আমাকে। লোকেরা হয়ত ভাবে আমি হিন্দি ছবিতেই কাজ করি৷ হয়ত ভাবে আমাকে প্রস্তাব দেওয়া যাবে কিনা। সৃজিত দা'র সঙ্গে অনেকবার কাজের কথা হলেও সেটা ফাইনালি করে উঠতে পারিনি। তবে, একেবারেই যে বাংলা ছবি করছি না তাও নয়। কিন্তু তুলনায় কম। আমি আরও অনেক বাংলা ছবি করতে চাই। তবে, যেটুকু বাংলা ছবি করেছি তাতে কলকাতার লোক আমাকে চেনেন। আমার লক্ষাধিক ফলোয়ার নেই। তবে মানুষ আমাকে ভালোবাসেন এটা বুঝতে পারি। আমার ইজ্জত আছে আপনাদের ওখানে এটুকু বুঝি।...

এখনকার দিনে সিলভার স্ক্রিনে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে ফ্যান ফলোয়ার্স কী সাহায্য করে? অভিনেতার কথায়, "প্রভাব একটা পড়ে। তবে, সোশাল মিডিয়া নির্ভর হওয়া উচিত না। কয়েক সেকেন্ডের রিলে বোঝা যায় না সে কতটা ভালো অভিনেতা। আপনি রামকৃষ্ণ সেজে একটা রিল বানিয়ে ছাড়তে পারবেন? পারবেন না। অত সহজ না। অনেক পড়াশুনা লাগবে, অনুশীলন লাগবে। তাই সোশাল মিডিয়ায় ফ্যান ফলোয়ারের সংখ্যা দেখে কারওর কোয়ালিটি বিচার করতে যাওয়া বা কাস্টিং করা ভুল।"

চন্দনের দিল্লিতে জন্ম ৷ সেখানেই বেড়ে ওঠা ৷ মুম্বইতে পাকাপাকি থাকা ৷ মূলত তিনি জানিয়েছেন, কাজের সূত্রেই আরব সাগরের তীরে পাকাপাকি থাকার সিদ্ধান্ত ৷ কলকাতাতেও আসেন কাজের সূত্রেই। ছোটবেলায় নাকি গরমের ছুটিতে আসতেন। অভিনেতার মামা, মাসি, মামিরা থাকেন হাওড়ায়। পাশাপাশি সিনেমার শুটিং থাকলে কলকাতায় থাকা হয় বেশ কয়েকদিন ৷ এহেন তারকা একসময় ছিলেন অঙ্কের মাস্টারমশাই ৷ কীভাবে মঞ্চ হয়ে পর্দার জার্নি শুরু হল ?

চন্দন বলেন, "ইন্টারেস্টিং ছিল জানেন তো, বই লেখার মতো। যখন শুরু হয় তখন বুঝতে পারিনি কী হবে, কোথায় যাব। এখন যখন পিছন ফিরে তাকাই দারুণ লাগে। তখন অনিশ্চয়তা ছিল প্রতি মুহূর্তে। টাকাপয়সা ছিল না। একটা সময় ভেবেছিলাম কীভাবে বেরোব এর থেকে। কবে সুদিন আসবে। তখন সোশাল মিডিয়া ছিল না। জানতাম অভিনয়টা করে যেতে হবে। সেটাই করতাম। একটা লং জার্নি আমার জীবনের। চার্লি চাপলিনের অটোবায়োগ্রাফি পড়েছিলাম আমি। ওঁর জীবন আমার অনুপ্রেরণা ছিল।

ইটিভি ভারত: নাটকে রোজগার তো খুব বেশি নয়... যখন শুরু করেছিলেন বাড়ির সাপোর্ট পেয়েছিলেন?
চন্দন: না। বাবা, মা দুজনেই চেয়েছিলেন লেখাপড়া করে ভালো চাকরি করি, বিয়ে করে সংসারী হই। তখন আমি টিউশন করতাম। টিউশনের টাকা দিয়ে নাটকের বই কিনতাম, নাটক দেখতে যেতাম। নাটক, সিনেমা দেখাতে কোনও আপত্তি ছিল না ওঁদের। কিন্তু অভিনয় করায় আপত্তি ছিল। এমনও দিন গেছে রিহার্সাল থেকে বাড়ি ফেরার ভাড়া থাকত না। হেঁটে হেঁটে বাড়ি ফিরেছি অনেকটা পথ। খাবারেরও পয়সা থাকত না। সব উপেক্ষা করে আমি অভিনয়টা করে গেছি। একদিন বিনা টিকিটে ট্রেনে উঠেছি। সবার সামনে কান ধরে ওঠবোস করিয়েছিল চেকার। খিদে পেয়ে গিয়েছিল, তাই রাস্তায় বড়া পাও খেয়ে নিয়েছিলাম। ফলে আর টিকিটের পয়সা ছিল না। এই ছিল দিন। সেদিন কান ধরে ওঠবোস করতেও লজ্জা পাইনি। অভিনেতা হতে গেলে নির্লজ্জ হতে হবে। না হলে চলবে না। সিনেমা একটা ফোকাস আর্ট

ইটিভি ভারত: 'আশ্রম' কি আপনাকে অন্য উচ্চতায় পরিচিতি দিল? কেরিয়ারের আরও একটা টার্নিং পয়েন্ট এটা?

চন্দন: 'আশ্রম' আমাকে অনেককিছু দিয়েছে। যতটা মজা নিয়ে রামকৃষ্ণর জন্য 'বিনোদিনী- একটি নটীর উপাখ্যান'-এ দু'দিনের শুট করেছি ততটাই মজা নিয়ে আমি আশ্রমে 200 দিনের শুট করেছি। 'আশ্রম' মানুষের ভালো লেগেছে বিপুল পরিমাণে। কিছুই তো প্ল্যান করে হয়নি। জীবন শুরুর সময়েই কোনও প্ল্যান ছিল না। এখন কেন প্ল্যান করব? প্ল্যান করলে ফেল করব। যখন বসে বসে নাটকের রিহার্সাল দেখতাম একদিন ডিরেক্টর বললেন স্টেজে উঠবি? পারবি রোলটা করতে?

দু'মাস ধরে তো দেখছিস। আমি বললাম চেষ্টা করতে পারি। দু-তিনদিন রিহার্সাল করে স্টেজে উঠে গিয়েছিলাম এবং পেরেছিলাম।

আমার জীবনে কোনওকিছুই ঠিক করে নিয়ে হয়নি। হঠাৎ করেই হয়ে গেছে। ভাবিনি ইংল্যান্ড, আমেরিকা যাব। ভাবিনি কখনও নিজে ছবি পরিচালনা করব। আর অভিনয়টা প্ল্যান করে হয় না। মোমেন্টে থাকলে অভিনয়টা হবে। না হলে না। জীবন প্ল্যান করলে সিনও প্ল্যান করবে। তাতে অভিনয় হয় না। আমি নাটকে, সিনেমায় যা শিখি রিয়েল লাইফেও সেগুলো কাজে লাগাই। আমার এক পুরনো গার্ল ফ্রেন্ড বলেছিল তুমি জীবনটাকেও সিনেমার সিন ভাবো, সম্পাদনা ভাবো, ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর ভাবো- এগুলো কেন? আমি বলেছিলাম আমার সবটাই সিনেমা। একটা জীবন কম সিনেমার জন্য। যাই হোক ওই প্রেমটা টেকেনি আর।

ইটিভি ভারত: জীবনটাকে সিনেমার মতো করে ভাবার জন্যই কি ব্রেক আপ হয়েছিল?

চন্দন: না না। অন্য কারণ ছিল। দু'জনের চাহিদা আলাদা ছিল।

ইটিভি ভারত: কোন ধরনের চরিত্রের জন্য আজও অপেক্ষা করেন?

চন্দন: আমি রোমান্স আর কমেডিটা কম করেছি মনে হয়। বেশিরভাগ সিরিয়াস চরিত্রই করেছি। 'সাগর'-এ কমল হাসানের মতো তিন চারটে রোল করতে চাই।

ইটিভি ভারত: আপনার ঝুলিতে অসংখ্য ছবি। 'ডিয়ার মা' কোথায় আলাদা?

চন্দন: বাচ্চাদের সঙ্গে অভিনয় খুব কম হয়। ওদের সঙ্গে কাজ করাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং। রামকৃষ্ণ করা যতটা কঠিন কারওর বাবার রোল করাও ততটাই কঠিন, বিশেষ করে যে এখনও বাবা হয়নি। আমার কাছে এই জায়াগায় 'ডিয়ার মা' আলাদা বলতে পারেন। আমি বাস্তবে বাবা না হয়েও একজন স্নেহশীল বাবার চরিত্রে অভিনয় করলাম।

ইটিভি ভারত: বিনোদিনীতে রামকৃষ্ণের চরিত্রেও মানুষ ভালোবেসেছে। ওরকম চরিত্র আবারও পেলে?

চন্দন: রামকৃষ্ণের মতো চরিত্র করতে চাই বারবার। পুরো একটা ছবি আমি করতে চাই। উনি বাংলার গৌরব, ভগবান। ওঁর আদর্শ, দর্শন, ঐশ্বরিক ক্ষমতা সব নিয়ে গোটা একটা ছবি হলে ভালো হয়। সাদা কালোতে হলে আরও ভালো হয়।

ইটিভি ভারত: পরিচালনা করার ইচ্ছা আছে?

চন্দন: দুটো ছবি করেছি রিলিজ হবে। 'দ্য প্লেব্যাক সিঙ্গার' আর 'সুজি কিউ'।

ইটিভি ভারত: বিয়ের প্ল্যানিং?

চন্দন: ওই যে বললাম কোনও প্ল্যান নেই জীবন নিয়ে। যে কোনও একদিন হয়ে যাবে।