ETV Bharat / entertainment

Explainer: এখানে-সেখানে-যেখানে ভূতের ভয় !

মনে করা হয়, ভয় পেতে ভালবাসে এমন মানুষের সংখ্যা পৃথিবীতে নেহাত কম নয়। ভূত আছে না নেই তা নিয়ে বিতর্কেরও শেষ নেই ৷

Do ghosts really exist? preeti sarkars, gourab tapadar react after horror film amish release
প্রতীকী ছবি (গেটি ইমেজ)
author img

By ETV Bharat Entertainment Team

Published : August 30, 2025 at 2:45 PM IST

|

Updated : August 30, 2025 at 5:26 PM IST

10 Min Read
Choose ETV Bharat

পারমিতা কামিলা

সালটা 1970 ৷ হলিউড সিনেমা 'অ্যানট্রাম' (Antrum Movie) মুক্তির আগে তা পাঠানো হয়েছিল বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে ৷ একাধিক উদ্যোক্তা চলচ্চিত্র উৎসবে এই ছবি দেখাতে চাননি। তারপরেই ঘটে হাড়হিম করা এক ঘটনা। যারা ছবিটি দেখাননি সেই সব ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের উদ্যোক্তাদের আচমকাই মৃত্যু হতে থাকে। এমনকী, 1988 সালে বুদাপেস্টের এক হলে যখন সিনেমা দেখানো হচ্ছিল, কিছু সময়েই মধ্যেই প্রেক্ষাগৃহে আগুন লেগে যায় ৷ আগুনে পুড়ে মারা যান প্রায় 56 জন।

অনেকেই সেই সময়ে মনে করেছিলেন, প্রজেক্টরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই আগুন লেগেছে প্রেক্ষাগৃহে। যদিও মেলেনি সেই প্রমাণ ৷ ফলে ছবি দেখালে যেমন বিপদ আসছিল তেমনই না দেখালেও সাক্ষাত্‍ মৃত্যু! সেই সময় ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন সকলেই। দুর্ঘটনার 5 বছর পর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি প্রেক্ষাগৃহে দেখানো হয় 'অ্যানট্রাম'। সালটা 1993। ওই প্রেক্ষাগৃহও কিন্তু রক্ষা পায়নি অঘটনের হাত থেকে। আচমকাই প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের মধ্যেই শুরু হয় ঝামেলা। বচসা থেকে শুরু হয় হুড়োহুড়ি ৷ পদপিষ্ট হয়ে মারা যান 30 জন। আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে 'অ্যানট্রাম' সিনেমার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা ৷

এরপর থেকে আর কোনও প্রেক্ষাগৃহে ওই ছবি দেখানো হয়নি। এরপর 2018 সালে ফের নতুন ভাবে ওই ছবি মুক্তি পায় ৷ নতুন টিমের সদস্যদের দাবি ছিল, সিনেমায় বিভিন্ন অদ্ভুত চিহ্ন, শব্দ ও নানা সঙ্কেত ব্যবহার করা হয়েছে। য়ে কারণে নাকি খুলে যায় নরকের দ্বার, যোগাযোগ দৃঢ় হয় রহস্যময় দুনিয়ার সঙ্গে।

আসলে ভূত-প্রেত-আত্মা এই ধরনের শব্দ ছোট থেকেই মানুষের মনে-মস্তিষ্কে অবাধ চলাচল করতে থাকে ৷ আধুনিক সময়ে দাঁড়িয়েও ভৌতিক সিনেমা দেখার পর 'ভূতের ভয়' কী তা নিয়ে বিশ্লেষণ চলেই ৷ আজকের প্রতিবেদনে ভূত আছে কি নেই সেই প্রশ্নের থেকেও বড় বিষয় সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি ভূতের সিনেমা আদৌ কী হয় ? অভিজ্ঞতার ব্যাখ্যা কী ? কী বলছে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কী প্রভাব ফেলে ভূতের সিনেমা ? কী বলছে বিজ্ঞান ?

'আমিষ' কথা

আসলে 'ভূতের ভয়' যেন কৌতুহল ও আতঙ্কের এপিঠ-ওপিঠ ৷ সত্য-অসত্যকে পাশে রেখে মানুষের জীবনে এমন অনেক ঘটনা ঘটে যে অঙ্কের উত্তর মেলানো কঠিন হয়ে পড়ে ৷ তেমনই এক কাহিনিকে সিনেমায় রূপান্তর করেছেন প্রযোজক গৌরব তপাদার ও পরিচালক অরুনাভ খাসনবিশ ৷ 'প্রেতকথা' ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পেয়েছে 'আমিষ' শর্টফিল্ম ৷ প্রযোজক গৌরব প্রথম এই গল্প শোনান তাঁর পডকাস্টে ৷ অদ্রিজা ভট্টাচার্যের লেখা তিনি পড়ে শোনান ৷ জানা যায়, অদ্রিজার এক বন্ধুর ভৌতিক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলেন ৷ সেই কাহিনিই শোনানো হয় পডকাস্টে ৷

অদ্রিজার কথায়

  • ছোটবেলা থেকে লেখালেখি করতে ভালোবাসি ৷ আমিষ শুধু শর্ট ফিল্ম নয়, এটা সত্যি ঘটনার ওপর নির্ভর করে তৈরি ৷ আমার কাছের বান্ধবীর জীবনে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর অধ্যায় ৷ আমি ভূত-প্রেতকে ভয় পাই না ৷ কিন্তু সেই সব বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করতে, লিখতে, গভীর ভাবে জানতে ভালোলাগে ৷
  • যেগুলো চোখের সামনে ঘটে না, যার সহজ ব্যাখাও নেই সেই সব কাছ থেকে শুনতে ও বুঝতে পেরেছি প্রেতকথার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকে ৷ রহস্যে ঢাকা জগতের সঙ্গে মুখোমুখি করে আমাদের ৷"

ভূতের গল্প শুনতে বা পড়তে যাঁরা ভালোবাসেন তাঁরা সোশাল মিডিয়ায় এই নিয়ে নানা রিসার্চ করে থাকেন ৷ কিন্তু ভূতকে বিশ্বাস না করলে বা সেই বিষয় নিয়ে আগ্রহ না থাকলে শিল্পী হিসাবে সেই ভাব প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে মনে করেন প্রযোজক গৌরব ৷

Do ghosts really exist? preeti sarkars, gourab tapadar react after horror film amish release
প্রতীকী ছবি (গেটি ইমেজ)

তাঁর কথায়, "আমি ভূতে বিশ্বাস করি ৷ কারণ প্রথমত ভৌতিক গল্প নিয়ে কাজ করছি আমি ৷ বিশ্বাস না করলে শিল্পী হিসাবে তা প্রকাশ করতে পারব না ৷ মানুষের ভয়টা বিশ্বাস করতে পারবেন না ৷ ভূতের থেকেও বেশি ভয়টাকে বিশ্বাস করি ৷ ভয় একটা পাপবোধ থেকেও আসে ৷ পাপবোধ আসা, অবসাদ আসা সেটাও একধরনের পজেশন ৷ ভূত ধরা বা পোজেসড হওয়া মাথার ভিতরে ৷ সেটাই আমি আমাদের শর্টফিল্মে দেখাতে চেয়েছি ৷"

সিনেমায় ভূত তাও আবার সত্যি !

আগেই বলা হয়েছে 'আমিষ' গল্পটি এক মেয়ের জীবনে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে ৷ সেক্ষেত্রে পরিচালক অনুভব ও প্রযোজক গৌরবকে মাথায় রাখতে হয়েছে নানা চ্যালেঞ্জিং বিষয় ৷ গৌরবের কথায়, "সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি সিনেমা বানানো বড় চ্যালেঞ্জ ৷ বিশ্বমানের ভয়ের যে সিনেমা দেখি তা ইমপ্যাক্ট কেটে যাওয়ার চান্স থাকে ৷ যেহেতু এই শর্টফিল্ম ইউটিউবে মুক্তি পেয়েছে তাই একাধিক গাইডলাইন মানতে হয়েছে ৷ সিনেমায় প্রথম বার ৷ ফলে ভূত বিষয়টাকে কীভাবে গাইডলাইন মেনে দেখানো যায় সেটা সত্যিই বড় বিষয় ৷

এহেন প্রযোজক ভূতের ভয় পেয়েছেন বেশ কয়েকবার ৷ তিনি জানিয়েছেন, স্বচক্ষে তিনি অশরীরী কিছু দেখেননি কিন্তু দিল্লি রোডে গাড়ি নিয়ে ফেরার পথে এমন কিছু অনুভব করেছেন যা স্বাভাবিক নয় ৷ এমন অনেক বাড়িতে গেছেন যেখানে গিয়ে তিনি অন্য়রকম অনুভূতি পেয়েছেন ৷ কিন্তু সেই ভয়কে কখনও মনের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে দেননি ৷ কিন্তু যাঁরা সেই ভয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন না, তাঁরা পড়েন চরম বিপদে ৷

ঊর্মি দাস-যাঁর জীবনে বয়ে গিয়েছে বড় ঝড়

তাঁর কথায়, "আমার জীবনে ঘটে যাওয়া এমন এক অধ্যায় এমনভাবে প্রকাশ পাবে কোনওদিন ভাবিনি ৷ ছোটবেলা থেকেই ভূত-প্রেত, অন্ধকারকে ভীষণ ভয় ৷ পরীক্ষা শেষে আমি মামার বাড়ি যাই, সেখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত ৷ প্রথম প্রথম নিজেকেই প্রশ্ন করতাম, আমি যা দেখছি, অনুভব করছি সেগুলো নিছক কল্পনা নাকি সত্যিই বাস্তব ৷ কিন্তু একটা সময় এমন আসে যেখানে অস্বীকার করার উপায় ছিল না ৷"

ঊর্মি বলেন

  • দিনের আলো ফুরোলেই আমার চারপাশে অদ্ভূত ঘটনা ঘটতে শুরু করত ৷ এই অনুভূতিতে আমি ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ছিলাম ৷ আমি আর আগের মতো ছিলাম না ৷ মনে হত, আমি যেন কোনও অদৃশ্য শক্তির হাতে চলে যাচ্ছি ৷ ঠিক যেন আমি হঠাৎ করে ঢুকে পড়ছি প্যারালাল ইউনিভার্সে ৷
  • যেখানে সবকিছু আছে কিন্তু স্বাভাবিক নয় ৷ চারপাশের বাতাস পর্যন্ত ভারী হয়ে যেত ৷ অদ্ভূত শীতলতা শরীর জড়িয়ে ধরত ৷ মনে হত কেউ আমার কানে নিঃশ্বাস ফেলছে ৷
  • আমি চেষ্টা করেও ডটস গুলো কানেক্ট করতে পারতাম না ৷ যাদের আমি আপনজন ভেবেছি তারাও যেন হঠাৎ করে বদলে গিয়েছিল ৷ চোখের সামনে চেনা মানুষকে অচেনা রূপে দেখা ছিল সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা ৷"

প্রীতির অতিপ্রাকৃতিক বিষয়কে ভয়

সিনেমায় ইউটিউবার প্রীতি সরকারকে দেখা গিয়েছে মুখ্যচরিত্রে ৷ তিনিও জানান, সেটে হরর সিনেমার শুটিং করতে গিয়ে কখনও কোনও সমস্যা হয়নি ৷ প্রযোজক-পরিচালক ভীষণভাবে তাঁকে সাহায্য করেছেন ৷ কিন্তু শুটিং শেষে বাড়ি ফেরার পর শর্টফিল্মে যিনি ভূত সেজেছিলেন সেই মণিকা পালের ভয়ঙ্কর মুখের ঝলক বার বার ফিরে ফিরে আসত ৷ এমনিতেই প্রীতি ভূতে বিশ্বাস করেন ৷ ভীতু মনের মানুষও ৷ ফলে মণিকার ভূতের মেকআপ তাঁকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিল ৷

ভূতের সিনেমা আর মানসিক স্বাস্থ্য

বর্তমানে ঊর্মি সুস্থ ৷ কিন্তু যখন তাঁর জীবনে এমন ঘটনা ঘটে তখন নাকি তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল ৷ ঠিক এই জায়গাটাকেই ট্রিগার পয়েন্ট হিসাবে মনে করেন মনোবিদ সাহেলী গঙ্গোপাধ্যায় ৷ তিনি বলেন, "ভয়ের যে অনুভূতি, যে এক্সপেরিয়েন্স এটা মৌলিক একটা রেসপন্স বা প্রতিক্রিয়া ৷ যখন কেউ ভৌতিক সিনেমা দেখেন সেই সময়টা সেই ব্যক্তি স্টিমুলাসের দ্বারা এক্সপোজার পাচ্ছেন যেখানে আমার মাথার এমিগডালা (ইমোশনাল এক্সপিরিয়েন্সকে অ্যানালিসিস করে) অ্যাকটিভ হয় ৷"

Do ghosts really exist? preeti sarkars, gourab tapadar react after horror film amish release
প্রতীকী ছবি (গেটি ইমেজ)

তাঁর কথায়, "আনহোনি বা আহট-এর মতো ভৌতিক ধারাবাহিক দেখার পর অনেকেই হাইপার ভিজিল্যান্ট হয়ে যেতাম ৷ স্বাভাবিকভাবে ঘরে ঢুকতে গিয়ে যদি ঘরের শুকনো পাতা পড়ে যায়, চমকে ওঠেন ৷ বা পিছন থেকে মা ডাকলে চমকে যাচ্ছেন ৷ কেন ? কারণ মস্তিষ্ক কিছুক্ষনের জন্য অতিরিক্ত আলো, হঠাৎ আলো-অন্ধকার, শব্দ, অতিপ্রাকৃতিক দৃশ্যের এক্সপোজার পাওয়াতে ভয়ের জন্য প্রস্তুত মোডে চলে গিয়েছে ৷ এটা সিচ্যুয়েশনাল ৷ এক-দুদিন পর আবার তা ঠিক হয়ে যায় স্বাভাবিক নিয়মেই ৷ এটা একটা সিনেমা-সিরিজ দেখে হওয়াটাও সংগত ৷

কিন্তু যখন কোনও মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের অভিযোগ করেন, কাউকে তিনি দেখতে পাচ্ছেন, তাঁর পিছন পিছন কেউ হাঁটছে, মনে হচ্ছে কেউ ক্ষতি করতে পারে, কারোর আওয়াজ সে পাচ্ছে (বাড়ির অন্য কেউ কোনও আবওয়াজ-ব্যক্তির উপস্থিতি অনুভব করছেন না)- এই সবগুলোই কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্যকর্মী ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট হিসাবে বলব, সাইক্রিয়াট্রিক সমস্যাকে ইঙ্গিত করে ৷

এগুলো আমাদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন নিউরো ট্রান্সমিটার ডোপামাইন, সেরোটোনিন এদের মতো বিভিন্ন নিউরো ট্রান্সমিটারের সাম্যাবস্থা ব্যহত হওয়ার জন্য ৷ এর মধ্যে ব্রেনের নিউরো কেমিক্যাল বিষয় যেমন থাকে সেই সঙ্গে মনো-সামাজিক কারণও থাকে ৷

এই ধরনের সমস্যা স্কিৎজোফ্রেনিয়া-সাইকোসিস সংক্রান্ত ডিজঅর্ডারকে ইঙ্গিত করে ৷ সেই সময় মনো চিকিৎসকের যত দ্রুত দেখানোর বিষয়ে পরামর্শ দেবো ৷ সেই সঙ্গে পরিবারের মানুষকে অবগত হতে হবে কী ধরনের চিকিৎসার মধ্য দিয়ে সেই মানুষটাকে যেতে হবে ৷ একাধিকবার চিকিৎসকের পরামর্শে ফলোআপ চেকআপে আসা চিকিৎসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পার্ট ৷

চিকিৎসা চলাকালীন বহু ক্ষেত্রেই দেখা যায় পরিবারের মানুষ ফলো আপ চেকআপে যান না ৷ যেহেতু আপাতদৃষ্টিতে কাউকে দেখতে পাচ্ছি বা কাউকে শুনতে পাচ্ছির সমস্যাগুলো কিছুটা শিথিল হতে শুরু করে ৷ মাঝ পথে ট্রিটমেন্ট ছেড়ে দিলে পুনরায় ফিরে আসতে পারে এই সমস্যা ৷

পরিবারের মধ্যে রোগীর প্রতি কী ধরনের ব্যবহার (এক্সপ্রেস ইমোশন) হচ্ছে সেটাও দেখা প্রয়োজন ৷ ওষুধের সঙ্গে সঙ্গে দৈনন্দিন জীবনে তাঁকে কীভাবে ফিরিয়ে আনা যায় সেই দিকটাও নজর রাখতে হবে পরিবারের সদস্যদের ৷

ভূত-বিজ্ঞানের 36 কা আখড়া

সময়ের হাত ধরে বিজ্ঞান আজ পৌঁছেছে অনেক দূর ৷ নানা অজানা-রহস্যের সমাধানে বিজ্ঞান লেগে রয়েছে প্রতিনিয়ত ৷ ফলে 'ভূত' বিষয়টাকে ফুৎকার দিয়ে ওড়ান পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের সেক্রেটারি পল্লব চক্রবর্তী ৷ তিনি জানান, "ভূত আছে এই বিষয়টা মানুষের এক কাল্পনিক চিন্তাশক্তি ৷ বাস্তবতার বাইরে বেরিয়ে গিয়ে মানুষের ভয়ার্ত মন যেটা কল্পনা করে সেটাকেই ভূত বলে ভাবে ৷ এটা একটা ইলিউশন ৷ এর থেকে কোনও ভিত্তি নেই ৷ ওঝা-ভূতে ধরা সম্পূর্ণ বুজরুকি ৷ এর কোনও অস্তিত্বই নেই ৷"

তিনি আরও জানান, "ফলে সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি কোনও ভূতের সিনেমা যখন বলা হয় তখন সেখানে বাণিজ্যিক রূপকে বাস্তবায়িত করবার জন্য বলা হয় ৷ সেক্ষেত্রে ভগবানকেও চোখে দেখা যায় না, তাও মানুষ ভগবানকে বিশ্বাস করে কেন ? কারণ ভগবানকে সামনে রেখে পুজো করার অর্থ হল মেডিটেশন করা ৷ কনসেনট্রেট ইয়োর মাইন্ড ৷ অর্থাৎ মনো সংযোগ আনবার জন্য একটা শব্দের নামান্তর মাত্র ৷ পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের চিন্তাধারা তাই বলে ৷"

কু-সংস্কারকে দূরে সরিয়ে আজ বিজ্ঞান অনেকটাই এগিয়ে। তবুও মানুষের একটা কৌতুহল ও আতঙ্ক লুকিয়ে থাকে মনের মধ্যে । পৃথিবীতে এমন কিছু জিনিস আছে যার রহস্য এখনও অজানা। মনে করা হয়, ভয় পেতে ভালবাসে এমন মানুষের সংখ্যা পৃথিবীতে নেহাত কম নয়।

Last Updated : August 30, 2025 at 5:26 PM IST