ETV Bharat / business

ভারতকে 25% শুল্কের চাপ ট্রাম্পের: শেয়ারবাজার, শিল্প-বাণিজ্যে প্রভাব কতটা ?

আমেরিকা ভারতের উপর 25 শতাংশ শুল্ক আরোপের পর দিল্লি কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে ? এর কী প্রভাব পড়তে পারে ভারতের অর্থনীতিতে? বিশ্লেষণে ইটিভি ভারত...

Explained US Tariff Effects On India
ভারতের উপর মার্কিন শুল্কের কতটা প্রভাব পড়বে? (প্রতীকী ছবি: ইটিভি ভারত)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 4, 2025 at 2:15 PM IST

10 Min Read
Choose ETV Bharat

হায়দরাবাদ, 4 অগস্ট: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প 1 অগস্ট থেকে ভারতীয় পণ্যের উপর 25 শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছেন, যা ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে । উচ্চ হারে শুল্কের দাবি এবং কৃষি-দুগ্ধ বাজারে মার্কিন প্রবেশাধিকারের বিষয়ে ভারতের চুক্তির অভাবের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৷ এছাড়াও, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের 'গভীর' বাণিজ্যিক সম্পর্ককেও (বিশেষ করে সামরিক ও জ্বালানি ক্ষেত্রে) ট্রাম্পের অসন্তুষ্টির একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে ।

এই 'শুল্ক চাপ' ভারতীয় অর্থনীতির উপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে ৷ বিশেষ করে স্মার্টফোন, ওষুধ, টেক্সটাইল, রত্ন ও গহনা এবং অটো যন্ত্রাংশের মতো গুরুত্বপূর্ণ রফতানি খাতের উপর। ভারতীয় টাকার উপর চাপ বৃদ্ধি এবং শেয়ার বাজারে অস্থিরতার আশঙ্কা রয়েছে । তবে কেন্দ্র জানিয়েছে, তারা জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ নেবে এবং এখনও একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তির আশা করছে ।

আমেরিকা ভারতের উপর 25 শতাংশ শুল্ক আরোপের পর থেকে অনেক প্রশ্ন উঠছে । ভারত কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এবং এর প্রভাব বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উপর পড়ে কি না, তাও দেখা গুরুত্বপূর্ণ ।

Explained US Tariff Effects On India
ভারত মার্কিন বাণিজ্য আলোচনায় অচলাবস্থা (ইটিভি ভারত)

কেন ভারতের উপর 25 শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের ?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের উচ্চ হারে শুল্ক এবং কঠোর আর্থিক-বাণিজ্য বাধার কথা উল্লেখ করে ভারতের উপর 25 শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়াও, রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের কারণেও জরিমানা আরোপের কথা বলা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের ধারণা, সীমিত শুল্ক হ্রাস এবং মার্কিন জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি সত্ত্বেও ভারত প্রস্তাব দেয়নি।

হোয়াইট হাউসের একটি তথ্যপত্র অনুযায়ী, ভারত আমদানিকৃত কৃষি পণ্যের উপর গড়ে 39 শতাংশ এমএফএন (মোস্ট ফেভার্ড নেশন) শুল্ক আরোপ করে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই হার 5 শতাংশ। কিছু শুল্ক 50 শতাংশ পর্যন্ত উচ্চ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের কৃষি ও দুগ্ধজাত বাজারে আরও ভালো প্রবেশাধিকার চায়, কিন্তু লক্ষ লক্ষ দরিদ্র কৃষকের স্বার্থ রক্ষার জন্য ভারত এই খাতগুলিকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বাইরে রেখে আসছে । ভুট্টা, সয়াবিন, গম এবং ইথানলের উপর শুল্ক হ্রাস ভারতের পক্ষে সম্ভব নয় ৷ কারণ এটি মার্কিন ভর্তুকিযুক্ত কৃষি পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করবে।

রাশিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জাম এবং অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের উপর ক্ষুব্ধ। ট্রাম্প ব্রিকস গ্রুপকে 'আমেরিকা বিরোধী' আখ্যা দিয়েছে ৷ একই সঙ্গে ব্রিকসের সদস্য দেশ হিসেবে রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখার জন্য ভারতের সমালোচনা করেছেন ৷

PM Modi With Donald Trump
প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প (ছবি সৌজন্য: প্রধানমন্ত্রী মোদির এক্স হ্যান্ডেল)

ভারত মার্কিন বাণিজ্য আলোচনায় অচলাবস্থা

13 ফেব্রুয়ারি 2025: প্রধানমন্ত্রী মোদির মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা গতি লাভ করে।

4 থেকে 6 মার্চ, 2025: নীতি স্তরের আলোচনার ভিত্তি স্থাপনের জন্য ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন।

26 থেকে 29 মার্চ 2025: মার্কিন প্রতিনিধি দল ভারত সফর করে এবং দুই দেশের মধ্যে ডিজিটাল বাণিজ্য, ওষুধ ও কৃষি পণ্যের অ্যাক্সেস নিয়ে প্রযুক্তিগত আলোচনা হয়।

2025 সালের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত: দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে পাঁচ দফা মুখোমুখি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

2 এপ্রিল, 2025: ট্রাম্প ভারতের উপর প্রতিশোধমূলক শুল্ক ঘোষণা করেন (প্রাথমিকভাবে 26 শতাংশ)।

9 এপ্রিল 2025: এই ঘোষণা বাস্তবায়নের জন্য 90 দিন সময় দেওয়া হয়েছিল।

9 জুলাই 2025: সময়সীমা শেষ হয়ে গেলে, তা 1 অগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

30 জুলাই, 2025: ট্রাম্প 1 অগস্ট থেকে ভারতীয় পণ্যের উপর 25 শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, সেই সঙ্গে রাশিয়া থেকে তেল ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য জরিমানাও ঘোষণা করেন।

25 অগস্ট 2025: ষষ্ঠ দফার আলোচনা নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে।

PM Modi With Vladimir Putin
প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন (ছবি সৌজন্য: প্রধানমন্ত্রী মোদির এক্স হ্যান্ডেল)

ভারতের উপর কেন ক্ষুব্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্প ?

ট্রাম্প ব্রিকস গ্রুপ এবং নয়াদিল্লির সঙ্গে 'বিশাল' বাণিজ্য ঘাটতির কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, ভারত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমেরিকার সঙ্গে 'খুব বেশি জড়িত নয়'।

ট্রাম্প ব্রিকস গ্রুপকে 'মূলত আমেরিকা বিরোধী দেশগুলির একটি গ্রুপ' বলে মনে করেন, যার মধ্যে ভারতও একটি সদস্য। ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, ব্রিকস মার্কিন মুদ্রা ডলারের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি নিচ্ছে ।

রাশিয়া থেকে সামরিক সরঞ্জাম এবং অপরিশোধিত তেল ক্রয় করায় ভারতের উপর ক্ষুব্ধ আমেরিকা। ট্রাম্প চান, ভারতও আমেরিকা থেকে তেল কিনুক।

আমেরিকা চায় ভারত কেবল তার কাছ থেকেই সমস্ত অস্ত্র কিনুক ভারত ৷ কিন্তু, ভারত এর জন্য প্রস্তুত নয়।

ট্রাম্প ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ৷ কিন্তু ভারত স্পষ্ট করে বলেছে যে, এটি কোনও বহিরাগত চাপের ফলে করা হয়নি ৷ ভারতের এই অবস্থান ট্রাম্পকে বিব্রত করতে পারে।

'মেক ইন ইন্ডিয়া' এবং 'পারফরম্যান্স লিংকড ইনসেনটিভ (পিএলআই)' এর মতো ভারতের প্রকল্পগুলি দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করে, যা মার্কিন স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কারণ ট্রাম্প 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতি অনুসরণ করছেন।

India-US Trade
ভারত ও আমেরিকার মধ্যে কত বাণিজ্য হয়? (ইটিভি ভারত)

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে কত বাণিজ্য হয় ?

দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য (2024 25): 131.84 বিলিয়ন ডলার

ভারত থেকে রফতানি (2024 25): 86.51 বিলিয়ন ডলার (11.6 শতাংশ)

ওষুধ: 8.1 বিলিয়ন ডলার

টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম: 6.5 বিলিয়ন ডলার

হিরে, আধা মূল্যবান পাথর: 5.3 বিলিয়ন ডলার

পেট্রোলিয়াম পণ্য: 4.1 বিলিয়ন ডলার

সোনা, গয়না: 3.2 বিলিয়ন ডলার

তৈরি পোশাক: 2.8 বিলিয়ন ডলার

লোহা, ইস্পাত: 2.7 বিলিয়ন ডলার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে রফতানি (2024 25): 45.33 বিলিয়ন ডলার (7.44 শতাংশ)

উৎপাদন রফতানি: প্রায় 42 বিলিয়ন ডলার (2024 সালে)

বাণিজ্য ভারসাম্য: 41.18 বিলিয়ন ডলার (ভারতের পক্ষে)

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম বিনিয়োগকারী, 2002 সাল থেকে মোট 68 বিলিয়ন ডলারের FDI রয়েছে । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং গত চার বছর ধরে তাই রয়ে গিয়েছে।

India-US Trade
এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলির তুলনায় ভারতের উপর ট্রাম্পের শুল্কের প্রভাব কতটা গভীর? (ইটিভি ভারত)

এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলির তুলনায় ভারতের উপর ট্রাম্পের শুল্কের প্রভাব কতটা গভীর ?

ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধের ফলে ভারতই একমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত দেশ নয়, তবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি ছাড়াই 25 শতাংশ শুল্ক সর্বোচ্চ শুল্কের মধ্যে একটি।

চিন: চিন 51 শতাংশের বিশাল শুল্ক আরোপ করেছে, যেখানে চিন-মার্কিন রফতানির উপর গড়ে 32.6 শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।

ভিয়েতনাম: ভিয়েতনাম আপাতত শুল্ক ঝড়ের কবল থেকে মুক্তি পেয়েছে বলে মনে হচ্ছে । জুলাইয়ের শুরুতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিয়েতনামী পণ্যের উপর 20 শতাংশ এবং চিন থেকে আসা পণ্যের উপর 40 শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দেয়।

ইন্দোনেশিয়া: ইন্দোনেশিয়া 19 শতাংশ শুল্কের মুখোমুখি, যা পূর্বে প্রস্তাবিত 32 শতাংশের চেয়ে অনেক কম। প্রতিশোধমূলক শুল্ক ছাড়াই মার্কিন বাজারে পূর্ণ প্রবেশাধিকারের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।

জাপান: জাপানের উপর 15 শতাংশ নামমাত্র শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে জাপান মার্কিন অর্থনীতিতে 550 বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

মালয়েশিয়া এবং শ্রীলঙ্কা: ভারতের মতো মালয়েশিয়ায়ও 25 শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে । শ্রীলঙ্কা 30 শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের শিকার হয়েছে, যা এই অঞ্চলের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির মধ্যে একটি।

ফিলিপিন: ট্রাম্প ফিলিপিনের সঙ্গে একতরফা চুক্তি করেছেন যেখানে মার্কিন পণ্য কোনও শুল্ক ছাড়াই ফিলিপিনে প্রবেশ করতে পারবে ৷ তবে ফিলিপিনের রফতানির উপর 19 শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে ।

ভারতের উপর আরোপিত 25 শতাংশ শুল্ক চিনের মতো বেশি নয় ৷ যেহেতু কোনও বাণিজ্য চুক্তি নেই, তাই এশিয়ার অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় এটি অনেক বেশি।

Explained US Tariff Effects On India
ভারত মার্কিন বাণিজ্য আলোচনায় অচলাবস্থা (ইটিভি ভারত)

25 শতাংশ মার্কিন শুল্ক ভারতীয় শিল্পের উপর কী প্রভাব ফেলবে ?

এই 25 শতাংশ শুল্কের ফলে বেশ কয়েকটি ভারতীয় শিল্পের উপর প্রত্যক্ষ এবং উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে ৷

স্মার্টফোন: ভারত থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি করা সবচেয়ে বড় পণ্যগুলির মধ্যে স্মার্টফোন অন্যতম, যার মধ্যে অ্যাপল আইফোন অ্যাসেম্বলিও অন্তর্ভুক্ত। ভারত 2025 অর্থবর্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে 24.1 বিলিয়ন ডলার মূল্যের স্মার্টফোন রফতানি করেছে ৷ 25 শতাংশ শুল্কের ফলে এই খাতটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার ফলে ভারতে অ্যাসেম্বল করা আইফোনগুলি আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।

ওষুধ: ভারত থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক ওষুধ এবং সংশ্লিষ্ট পণ্য রফতানির পরিমাণ প্রায় 10 বিলিয়ন ডলার, যা ভারতের মোট ওষুধ রফতানির প্রায় 31 35 শতাংশ। যদি শুল্ক বৃদ্ধি থেকে এগুলোকে অব্যাহতি না দেওয়া হয়, তাহলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় ওষুধের ঘাটতি এবং দাম বৃদ্ধি হতে পারে।

টেক্সটাইল: ভারত 2025 অর্থবছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় 10.8 বিলিয়ন ডলার মূল্যের পোশাক রফতানি করেছে, যা মোট টেক্সটাইল রফতানির প্রায় 28 শতাংশ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ভারতীয় টেক্সটাইলের উপর 10 থেকে 12 শতাংশ শুল্ক আরোপ করে এবং অতিরিক্ত 25 শতাংশ ভারতীয় পোশাক ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় ধাক্কা হতে পারে।

রত্ন ও অলংকার: ভারত 2025 অর্থিক বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় 12 বিলিয়ন ডলার মূল্যের রত্ন ও অলংকার রফতানি করেছে । যেহেতু এই পণ্যগুলিতে ইতিমধ্যেই 27 শতাংশ শুল্ক রয়েছে, তাই অতিরিক্ত 25 শতাংশ শুল্ক ব্যবসার লাভের মার্জিনে মারাত্মক প্রভাব ফেলবে।

গাড়ির যন্ত্রাংশ: ভারত 2024 সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় 2.2 বিলিয়ন ডলার মূল্যের গাড়ির যন্ত্রাংশ রফতানি করেছে । এই খাতের রফতানিও প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা ভারতের ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য খাতকেও প্রভাবিত করবে।

লোহা ও ইস্পাত শিল্প: লোহা ও ইস্পাতও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

India-US Trade
ভারত-মার্কিন বাণিজ্যের পরিসংখ্যান (ইটিভি ভারত)

ভারতের উপর 25 শতাংশ শুল্কের কী প্রভাব পড়বে মার্কিন বাজার ও বাণিজ্যে ?

এই সিদ্ধান্ত আমেরিকার জন্য নানাভাবে ক্ষতির কারণ হতে পারে ৷ ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যের উপর শুল্ক আরোপের ফলে মার্কিন কোম্পানিগুলি আরও ব্যয়বহুল বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হবে, যা তাদের সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে।

ভারতীয় পণ্যের উপর শুল্ক আরোপের ফলে মার্কিন বাজারে সেই পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে, যা সরাসরি মার্কিন উপভোক্তাদের উপর বোঝা চাপাবে।

ভারত থেকে আমদানি করা কাঁচামাল বা উপাদানের উপর নির্ভরশীল মার্কিন কোম্পানিগুলি উচ্চ ব্যয়ের সম্মুখীন হবে, যা তাদের প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারতের মতো গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদারের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কে অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে, যা বৃহত্তর মার্কিন স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

আমেরিকা ভারতে তৃতীয় বৃহত্তম বিনিয়োগকারী। বাণিজ্য উত্তেজনা মার্কিন কোম্পানিগুলির ভারতে বিনিয়োগের পরিকল্পনার উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ভারতীয় শেয়ার বাজারে 25 শতাংশ মার্কিন শুল্কের কী প্রভাব পড়বে ?

মার্কিন শুল্ক ঘোষণার পর ভারতীয় শেয়ার বাজারের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া নেতিবাচক হতে পারে, তবে বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে এর প্রভাব সীমিত সময়ের জন্য থাকবে।

প্রাথমিক ধাক্কা দিয়ে শেয়ার বাজার খুলতে পারে, তবে কখন বাণিজ্য চুক্তি হয় এবং কখন শুল্ক কার্যকর হয় তা দেখার বিষয়।

পূর্ববর্তী বিশ্লেষকরা বিশ্বাস করতেন, যদি শুল্ক হার 10 থেকে 15 শতাংশের মধ্যে হয়, তাহলে ভারতীয় শেয়ার বাজার এটিকে 'স্বাগত' জানাত। 20 শতাংশের উপরে হার 'হতাশাজনক' বলে বিবেচিত হত।

ভারতীয় বাজারে বর্তমানে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের আধিপত্য রয়েছে এবং FII (বিদেশী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী) প্রায় 85 শতাংশ ঘাটতিতে রয়েছে। সুতরাং, বড় আকারের বিক্রি আশা করা যায় না।

ভারতের সামনের কোন কোন পথ খোলা রয়েছে ?

ভারত একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করতে পারে। অগস্টের মাঝামাঝি সময়ে দিল্লিতে দুই দেশের মধ্যে আরও আলোচনা প্রত্যাশিত। ভারত কিছু সংবেদনশীল শিল্পে, বিশেষ করে কৃষি এবং দুগ্ধজাত পণ্যে খুব বেশি ছাড় দিতে রাজি হবে না। যদিও ভারত সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে যে তারা তাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।