ETV Bharat / bharat

15 বছরে আটবার বিয়ে, স্বামীদের প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার বাস্তবের 'ঠগিনী'

সফট টার্গেট ছিল বিবাহিত পুরুষরা । প্রেমের জালে ফাঁসিয়ে একাধিক বিয়ে করে প্রতারণা । নবম বিয়ের আগেই পুলিশের জালে 'ঠগিনী' স্কুল শিক্ষিকা ।

fake bride arrested in nagpur
প্রতীকী ছবি (ফাইল চিত্র)
author img

By ETV Bharat Bangla Team

Published : August 1, 2025 at 11:15 PM IST

3 Min Read
Choose ETV Bharat

নাগপুর, 1 অগস্ট: ঠিক যেন 'ঠগিনী' সিনেমার বাস্তব রূপ । একের পর এক বিয়ে, তারপর সেইসব স্বামীদের ঠকিয়ে টাকা পয়সা লুঠ । এই নিয়ে আটবার বিয়ে করেছেন বাস্তবের 'ঠগিনী' ওরফে স্কুল শিক্ষিকা । নবম বিয়ে করতে গিয়ে তাকে গ্রেফতার করল নাগপুর পুলিশ ।

জানা গিয়েছে, এই মহিলা বিবাহিত পুরুষদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাদের বিয়ে করতেন । পুলিশ অভিযোগ পেয়েছিল যে, তিনি মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ এনে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছিলেন । তার ভিত্তিতে নাগপুর পুলিশ ওই মহিলাকে গ্রেফতার করেছে । জানা গিয়েছে, মহিলা উচ্চ শিক্ষিত এবং পেশায় একজন শিক্ষিকা ।

স্বামীদের প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার বাস্তবের ঠগিনী (ইটিভি ভারত)

মহিলার স্বামী গোলাম পাঠানের অভিযোগের ভিত্তিতে তার নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে । পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেড় বছর ধরে পলাতক থাকা ওই মহিলাকে অবশেষে গ্রেফতার করা হয়েছে । অভিযুক্ত মহিলা সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিবাহিত পুরুষদের প্রেমের ফাঁদে ফেলতেন । এরপর, তিনি তাদের বিয়ে করতেন এবং বিয়ের জাল সার্টিফিকেট দেখিয়ে প্রতারণা করতেন । এক মাসের মধ্যে বিবাহিত পুরুষদের মিথ্যা অভিযোগে থানায় মামলা করার হুমকি দিতেন । তারপর আদালতে মামলা দায়ের করে মীমাংসার নামে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতেন । এটাই ছিল তার প্রতারণার পদ্ধতি ।

সিভিল লাইনসের একটি টাপরিতে চা খেতে এসে পলাতক মহিলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ । তাঁর স্বামী গোলাম পাঠান 2023 সালের মার্চ মাসে গিট্টিখাদান থানায় মহিলার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন । এই মহিলা 2010 সাল থেকে অনেক বিবাহিত পুরুষকে বিয়ে করেছেন এবং তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন । বিয়ের পর, তিনি তাদের ব্ল্যাকমেইল করতেন । এরপর নতুন স্বামীর কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন ।

গুলাম পাঠানের অভিযোগ, ওই মহিলা এখনও পর্যন্ত 8 বার বিয়ে করেছে । সে একজন স্কুল শিক্ষিকা । নতুন নতুন লোকের সঙ্গে কথা বলত । তাদের মিথ্যা করে বলত যে সে তালাকপ্রাপ্ত । শুধু তাই নয়, মিথ্যে কথা বলে সহানুভূতি অর্জন করে বিবাহিত পুরুষদের প্রেমের জালে ফাঁসাত । বলত, "আমার পাশে থাকো । আমি তোমার দ্বিতীয় স্ত্রী হয়ে থাকব ।" এইভাবে সে এখনও পর্যন্ত 50 লক্ষ টাকা প্রতারণা করেছে । কিন্তু পাঠান জানিয়েছেন যে, তিনি 10 লক্ষ টাকা দিয়েছেন বলে প্রমাণ রয়েছে তাঁর কাছে ।

এই ঘটনায় সহকারী পুলিশ পরিদর্শক শারদা ভোপালে জানান, মহিলার বিরুদ্ধে জোর করে বিয়ে করার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে । সেই অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে । আগেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল । অভিযুক্ত মহিলা গর্ভবতী হওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল । এরপর দেড় বছর ধরে পলাতক ছিলেন তিনি । 29 জুলাই, একটি চায়ের দোকানের সামনে তাঁর আসার খবর পাওয়া যায় । এরপর ফাঁদ পেতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় । তাঁর প্রতারণা পদ্ধতি হল বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিয়ে করে দেড় মাসের মধ্যে মিটমাট করা এবং আদালতে মিথ্যা নথি জমা দেওয়া । তিনি উচ্চ শিক্ষিত । তিন থেকে চারজন স্বামী অভিযোগ দায়ের করার পর বিভিন্ন থানায় মামলা দায়ের করা হয় ।

পুলিশের অভিযোগ অনুসারে, অভিযুক্ত মহিলা আটবার বিয়ে করেছেন । জোর করে বিয়ে করার অভিযোগে তার মা, কাকা এবং পিসির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে । বিয়ের ভুয়ো শংসাপত্র দাখিলের ঘটনায় কী মামলা দায়ের করা হবে তা নির্ধারণের জন্য তদন্ত চলছে ।